দেহাবশেষ হস্তান্তরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করতে নাগা প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করছে মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পিট রিভার্স মিউজিয়াম থেকে ৩৯ জন নাগা পূর্বপুরুষের দেহাবশেষ ভারতের নাগাল্যান্ডে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ দেহাবশেষ হস্তান্তরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করতে নাগা প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করছে।
দেহাবশেষগুলো ভারতে ফেরানোর সময় নাগা প্রতিনিধিদের একটি দলও সঙ্গে থাকবে। এতে বিভিন্ন নাগা উপজাতীয় হোহো (সামাজিক সংগঠন)-এর নেতা ও প্রবীণদের পাশাপাশি ফোরাম ফর নাগা রিকনসিলিয়েশন (এফএনআর) এবং রিকভার, রিস্টোর অ্যান্ড ডিকলোনাইজ (আরআরএডি)-এর প্রতিনিধিরা থাকবেন।
ফেব্রুয়ারিতে এফএনআরের দাবির পর ৪০টি দেহাবশেষের মধ্যে ৩৯টি ফেরানোর অনুমোদন দেয় অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। পরে ১৩ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় কাউন্সিল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে। তবে একটি দেহাবশেষের নাগা পরিচয়ের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ না থাকায় সেটি ফেরানোর দাবি নাকচ করা হয়েছে।
পিট রিভার্স মিউজিয়াম জানিয়েছে, ২০২০ সাল থেকে এফএনআর ও আরআরএডির পাশাপাশি বিভিন্ন নাগা উপজাতীয় হোহো, প্রবীণ, চার্চ এবং নাগা-অধ্যুষিত এলাকার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
দেহাবশেষগুলো কীভাবে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে মর্যাদার সঙ্গে নাগাল্যান্ডে ফিরিয়ে দেওয়া হবে, মূলত তা নিয়েই এই আলোচনা। মিউজিয়ামের পরিচালক অধ্যাপক লরা ভ্যান ব্রুকহোভেন বলেন, এই উদ্যোগ ধীরে ধীরে নাগাদের বৃহত্তর ঐক্য ও নিরাময়ের আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।
নাগা প্রতিনিধিদের সঙ্গে কাজ করে ৩৯ জন পূর্বপুরুষকে তাদের মাতৃভূমিতে ফিরিয়ে দেওয়ার পথ তৈরি করতে পেরে তিনি সম্মানিত বোধ করছেন বলেও জানান। ২০২০ সাল পর্যন্ত পিট রিভার্স মিউজিয়ামে মানবদেহাবশেষগুলো প্রদর্শন করা হতো। ওই বছর মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ সব মানবদেহাবশেষ প্রদর্শনী থেকে সরিয়ে নেয়। মিউজিয়ামটিতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় নাগা-সম্পর্কিত সংগ্রহ রয়েছে। এর বড় একটি অংশ ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে সংগ্রহ করা হয়েছিল।
মিউজিয়ামের নথি অনুযায়ী, এক শতাব্দীরও বেশি আগে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক প্রশাসক ও নৃতত্ত্ববিদ জন হেনরি হাটনের মাধ্যমে প্রথম নাগা পূর্বপুরুষদের দেহাবশেষ মিউজিয়ামটির সংগ্রহে আসে। পরে ১৯১০ থেকে ১৯৪০ সালের মধ্যে হাটন এবং আরেক প্রশাসক-নৃতত্ত্ববিদ জেমস ফিলিপ মিলস বিপুলসংখ্যক নাগা-সম্পর্কিত নিদর্শন ও সংগ্রহ অক্সফোর্ডে নিয়ে আসেন।
নাগা-অক্সফোর্ড ঘোষণাপত্রে এই প্রত্যর্পণকে পূর্বপুরুষদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ শেষ বিশ্রামের ব্যবস্থা এবং নাগা জনগণের ঐক্য, শান্তি ও নিরাময়ের প্রতীক হিসেবে একটি স্মারক গড়ে তোলার সম্মিলিত উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে থাকা আদিবাসী জনগোষ্ঠীর পূর্বপুরুষদের দেহাবশেষ ও সাংস্কৃতিক সম্পদ নিজ নিজ দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার কাজে সহায়তা করছে ‘হোমবাউন্ড প্রজেক্ট’।
দীর্ঘ আলোচনার পর ৩৯ জন নাগা পূর্বপুরুষের দেহাবশেষ নাগাল্যান্ডে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগকে তাদের ঐতিহাসিক মাতৃভূমিতে ফেরানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ