নাইজেরিয়া ও বোকো হারামের মধ্যে তিন মাসের যুদ্ধবিরতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

নাইজেরিয়া সরকার ও সশস্ত্র গোষ্ঠী বোকো হারামের মধ্যে গত তিন মাস ধরে গোপনে যুদ্ধবিরতি চলছে বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম

2026-09-09T20:49:14+00:00
2026-09-09T20:49:14+00:00
 
  বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৫ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
নাইজেরিয়া ও বোকো হারামের মধ্যে তিন মাসের যুদ্ধবিরতি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ পিএম 
নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। ছবি : আল-জাজিরা
নাইজেরিয়া সরকার ও সশস্ত্র গোষ্ঠী বোকো হারামের মধ্যে গত তিন মাস ধরে গোপনে যুদ্ধবিরতি চলছে বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ হিউম্যানিটারিয়ান। দীর্ঘদিন ধরে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে চলা সংঘাতের মধ্যে এই যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতিতে সাময়িক স্বস্তি এনেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুনে এই যুদ্ধবিরতি শুরু হয়। এর আগে নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নগোশে গ্রামের ৩৬০ জন বাসিন্দাকে অপহরণ করা হয়েছিল। তাদের মুক্তির জন্য আলোচনার পরই যুদ্ধবিরতির সমঝোতা হয় বলে জানা গেছে। 

Advertisement
নাইজেরিয়া ও ক্যামেরুন সীমান্তের কাছে মান্দারা পর্বতমালার পাদদেশে অবস্থিত নগোশে গ্রামটি দীর্ঘদিন ধরেই বোকো হারামের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে আসছে।

বোকো হারামের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে, এমন তিনজন ব্যক্তি, যাদের মধ্যে গোষ্ঠীটির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সদস্যের সঙ্গেও যোগাযোগ রয়েছে, স্বাধীনভাবে দ্য নিউ হিউম্যানিটারিয়ানকে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, জুন থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে এবং এটি আরও ৪০ দিন বাড়তে পারে।

দুই সূত্র জানিয়েছে, নগোশে ও আশপাশের এলাকায় যুদ্ধবিরতি শুরুর পর বোকো হারামের হামলা বন্ধ রয়েছে।

৩৬০ গ্রামবাসী অপহরণের পর যুদ্ধবিরতি

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মার্চে কাছের একটি সেনাঘাঁটিতে হামলার সময় বোকো হারাম নগোশে গ্রামের ৩৬০ জন বাসিন্দাকে অপহরণ করে।

পরে তাদের মুক্তির জন্য আলোচনায় নাইজেরিয়া সরকার বোকো হারামকে প্রায় ৫০০ কোটি নাইরা, যা প্রায় ৩৭ লাখ মার্কিন ডলার, দিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে অর্থ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে নাইজেরিয়ায় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দেশটির সরকার কোনো মুক্তিপণ দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছে।

দ্য নিউ হিউম্যানিটারিয়ান যুদ্ধবিরতির বিষয়ে নিশ্চিত হতে সরকারের বিভিন্ন কর্মকর্তা, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সেনাবাহিনীর মুখপাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও প্রতিবেদন প্রকাশের আগে কোনো জবাব পায়নি। 

এই যুদ্ধবিরতির আওতায় ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্স বা আইএসডব্লিউএপি নেই। এটি বোকো হারামের প্রতিদ্বন্দ্বী একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী, যারা নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং লেক চাদ অঞ্চলে সক্রিয়। 

দ্য নিউ হিউম্যানিটারিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বোকো হারাম ও আইএসডব্লিউএপের মধ্যে সংঘর্ষ এখনো অব্যাহত রয়েছে।


প্রকাশ্যে আলোচনার বিরোধিতা সরকারের

বোকো হারামের সঙ্গে গোপনে যুদ্ধবিরতির খবর এমন সময়ে সামনে এলো, যখন নাইজেরিয়া সরকার প্রকাশ্যে এই গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনার বিরোধিতা করে আসছে।

নাইজেরিয়ার কর্তৃপক্ষ বোকো হারামকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু বরং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

গত জুলাইয়ে তিনি আরও ৩০ হাজার সেনা ও নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ এবং সেনাবাহিনীর চারটি নতুন ডিভিশন গঠনের পরিকল্পনার কথা জানান।

তবে দ্য নিউ হিউম্যানিটারিয়ানের দাবি, এর আড়ালে বোকো হারামের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনার চেষ্টা বারবার হয়েছে। এসব প্রচেষ্টার সঙ্গে নিরাপত্তা কর্মকর্তা, কূটনীতিক ও মধ্যস্থতাকারীরা জড়িত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে কয়েকটি যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেগুলো শেষ পর্যন্ত ভেঙে যায়।

স্থায়ী শান্তির নিশ্চয়তা নেই

সংঘাতবিষয়ক গবেষক মালিক স্যামুয়েল বলেছেন, এই যুদ্ধবিরতিকে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রক্রিয়ার শুরু হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

তার মতে, এটি দুই পক্ষের জন্য সুবিধাজনক একটি সাময়িক ও কৌশলগত যুদ্ধবিরতি হতে পারে। তবে এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সংঘাতের গতিপথে বড় কোনো পরিবর্তন নাও আসতে পারে।

এদিকে, কয়েকটি সূত্র আশঙ্কা করছে, যুদ্ধবিরতির সুযোগ নিয়ে বোকো হারাম নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পারে। বিশেষ করে মান্দারা পর্বতমালায় অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ তারা কাজে লাগাতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

২০০৯ সাল থেকে সংঘাত

নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং লেক চাদ অঞ্চলের আশপাশের দেশগুলোতে ২০০৯ সাল থেকে হামলা, অপহরণ ও অন্যান্য সহিংস কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে বোকো হারাম।

দীর্ঘদিনের সংঘাতের মধ্যে গোষ্ঠীটি কয়েকটি অংশে বিভক্ত হয়েছে। এর মধ্যে আইএসডব্লিউএপি বর্তমানে বোকো হারামের অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সক্রিয় রয়েছে।

ফলে নতুন এই কথিত যুদ্ধবিরতি সাময়িকভাবে সহিংসতা কমালেও নাইজেরিয়ার দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা সংকটের স্থায়ী সমাধান এখনো অনিশ্চিত।


সময়ের আলো/ইউএমএইচ
  বিষয়:   নাইজেরিয়া  বোকো হারাম  যুদ্ধবিরতি 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: