মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান বাজার সমবায় মার্কেট ও থানার সামনের ডোবাগুলো দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনায় ভরে আছে। জমে থাকা নোংরা পানি, পলিথিন, প্লাস্টিক ও পচা বর্জ্যে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি মশার প্রজনন বাড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। এতে ডেঙ্গুর পাশাপাশি বর্ষায় জলাবদ্ধতার শঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, সমবায় মার্কেটের আশপাশের ডোবা এবং থানার প্রায় ২০০ গজ সামনের অংশে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য জমে আছে। কোথাও কোথাও পানি কালচে হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। বৃষ্টির সময় এসব স্থানে পানি উপচে পড়লে বাজারে আসা ক্রেতা, পথচারী ও ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ডোবাগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করায় সেগুলো বর্জ্য ফেলার স্থানে পরিণত হয়েছে। বাজারের দোকানপাটের পশুপাখির বর্জ্য এবং আশপাশের বাসাবাড়ির আবর্জনাও সেখানে ফেলা হচ্ছে। ফলে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি এডিস মশাসহ বিভিন্ন ধরনের মশার বংশবিস্তারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গির বলেন, বাজারে প্রতিদিন অনেক মানুষ আসেন। কিন্তু ডোবার দুর্গন্ধ ও ময়লার কারণে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। বৃষ্টি হলে পানি আটকে চলাচলও কঠিন হয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোশারফ হোসেন বলেন, ডেঙ্গুর সময় এ ধরনের নোংরা ও জমে থাকা পানি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুত ডোবা পরিষ্কার, মশার ওষুধ ছিটানো এবং নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ করা প্রয়োজন।
রশুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবু সাঈদ বলেন, বাজার ও থানা এলাকার ডোবাগুলো দ্রুত পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা বন্ধে ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের সঙ্গে সচেতনতামূলক আলোচনা করা হবে। ডেঙ্গু ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমাতে ইউনিয়ন পরিষদ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।
সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা ঘোষ বলেন, সিরাজদিখান বাজার সমবায় মার্কেট ও থানার সামনের ডোবায় ময়লা-আবর্জনা জমে থাকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ডোবা পরিষ্কার, বর্জ্য অপসারণ ও পানি চলাচলের ব্যবস্থা করতে বলা হবে। জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এড়াতে প্রয়োজনীয় মশকনিধন কার্যক্রমও নেওয়া হবে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন জমে থাকা পানি ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ মশার প্রজননের অনুকূল ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। তাই ডোবা পরিষ্কার, পানি চলাচলের ব্যবস্থা, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও প্রয়োজনীয় মশকনিধন কার্যক্রম জরুরি।
এলাকাবাসীর দাবি, সমবায় মার্কেট ও থানার সামনের ডোবাগুলো দ্রুত পরিষ্কার করে বর্জ্য ফেলার জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা হোক। পাশাপাশি নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ ও মশকনিধন কার্যক্রম চালানোরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
সময়ের আলো/এসএকে