মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে আবারও বাঘের দেখা মিলেছে বাগেরহাটের আলীবান্ধা ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রে। তবে এবারের বাঘটি সীমানা প্রাচীর ভেদ করে সরাসরি ঢুকে পড়ে ট্যুরিজম কেন্দ্রে। এর আগে, ২৪ জুলাই আন্ধারমানিক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রে আঙিনায় একটি বাঘ এসে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান নিয়েছিলো।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন, সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের আলীবান্দা ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মো. ফারুকুল ইসলাম। শুক্রবার তিনি এ তথ্য গণমাধ্যমকে জানান।
ফারুকুল ইসলাম জানান, বুধবার দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে নাইলনের ফেন্সিং বেড়া ভেদ করে একটি বাঘ হরিণের বেষ্টনীর কাছে চলে আসে। বাঘ দেখে এসময় আমরা ওয়াচ টাওয়ারে উঠে আশ্রয় নিই। আমাদের কাছে কোনো অস্ত্র ছিল না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর রেঞ্জ অফিস থেকে অস্ত্রধারী বনরক্ষী ও ভিটিআরটির টিমের স্বেচ্ছাসেবকরা গিয়ে বাঘ তাড়াতে প্রথমে মাইকে বিকট শব্দে হুইসেল বাজায়। পরে ১০টি আতশবাজি (পটকা) ফোটানো হয়। পায়ের ছাপ দেখে বিকাল ৫টা নাগাদ বাঘটি চলে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি।
রেঞ্জের সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান বলেন, বাঘটি ঢুকতে দেখেছেন বনরক্ষীরা। হয়তো বন্য শূকরে নাইলনের ফেন্সিং বেড়া কেটে ফেলায় সেখান থেকে ঢুকেছে বাঘটি। বাঘটি এসেই আবার বনে ফিরে গেছে। তারপরও নিশ্চিত হতে পটকা ফুটিয়ে ও হুইসেল বাজানোসহ সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করীম চৌধুরী বলেন, অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে সুন্দরবনে আগের তুলনায় বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন হরহামেশা সুন্দরবনের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে বাঘের চলাফেরা ও খালে বাঘ সাঁতরাতে দেখছেন জেলে ও পর্যটকেরা। আমি নিজেও অতি সম্প্রতি মরাপশুর বনাঞ্চলে বাঘ হেঁটে যেতে দেখেছি। এমনকি গাছে বাঘের পায়ের আঁচড় কাটতেও দেখেছি।
সময়ের আলো/আতা