কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোতের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পিলারে ধাক্কা খেয়েছে শতাধিক যাত্রী বহনকারী একটি পিকনিকের নৌকা। এ সময় নৌকা থেকে ছিটকে নদীতে পড়ে তিনজন নিখোঁজ হয়েছেন। পরে নৌকাটি স্রোতের টানে ভেসে গিয়ে লালন শাহ সেতুতেও ধাক্কা খায়।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভেড়ামারা উপজেলার হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে পদ্মা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ তিনজনের মধ্যে দু'জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন শৈলকুপা পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব রকি এবং একই উপজেলার কবিরপুরের লিটন। নিখোঁজ অপর ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পিকনিকের নৌকাটি কুষ্টিয়ার দিকে আসছিল। হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় পদ্মা নদীর তীব্র স্রোতের মুখে পড়ে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রিজের একটি পিলারে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে নৌকায় থাকা কয়েকজন যাত্রী ছিটকে নদীতে পড়ে যান। এরপর নৌকাটি স্রোতের সঙ্গে ভেসে গিয়ে লালন শাহ সেতুতেও ধাক্কা খায়। পরে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণে এনে তীরে নেওয়া সম্ভব হয়। স্থানীয়রা নৌকার যাত্রীদের উদ্ধার করে নিরাপদে তীরে নিয়ে যান।
দুর্ঘটনার পর নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস অভিযান শুরু করে। প্রথমে চারজন নিখোঁজ হওয়ার কথা জানা গেলেও পরে ওহাব নামে একজনকে পাওয়া যায়। বর্তমানে তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিরুল আরাফাত। তিনি বলেন, এটি শৈলকুপার কবিরপুরের একটি ব্যবসায়িক দলের পিকনিকের নৌকা ছিল। তাঁরা ভেড়ামারা সোলেমান শাহ মাজারে এসেছিল। তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন। আমি ঘটনাস্থলে আছি।
কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক ওয়াদুদ হোসেন বলেন, কন্ট্রোলিং অফিসার ঘটনাস্থলে চলে গেছেন। পদ্মায় প্রবল স্রোত থাকায় নিখোঁজ তিনজনকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ওই নৌকায় ১১০ জন যাত্রী ছিলেন। রাতে উদ্ধার করা সম্ভব না হলে বিভাগীয় ডুবুরি এনে উদ্ধার অভিযান চালানো হবে।
সময়ের আলো/আতা