ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে এলএনজি রফতানি ব্যাহত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকারীদের কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার আলোচনা করছে কাতার। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কাতারএনার্জি যুক্তরাষ্ট্রে চালু থাকা এবং নির্মাণাধীন— দুই ধরনের এলএনজি প্রকল্প থেকেই গ্যাস কেনার বিষয়টি বিবেচনা করছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম কাতার মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে থেকে এলএনজি সংগ্রহ করে নিজেদের সরবরাহব্যবস্থা জোরদারের উদ্যোগ নিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্বের মোট এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ একসময় কাতার থেকে আসত। কিন্তু যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজি বহনকারী জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় দেশটির রফতানি প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে কাতার এনার্জি কাতারের রাস লাফান এলএনজি কমপ্লেক্সের উৎপাদন ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছিল। বিশ্বের সবচেয়ে বড় এলএনজি স্থাপনা হিসেবে পরিচিত এই কমপ্লেক্সটি যুদ্ধের শুরুর দিকে ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আগের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, পুরোপুরি মেরামতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে।
যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় কাতার এনার্জি এখন এলএনজি বাণিজ্য বাড়ানোর পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরে বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস সংগ্রহের পথ খুঁজছে।
কাতারের ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু এলএনজিতে প্রবেশাধিকার রয়েছে। টেক্সাসের গোল্ডেন পাস এলএনজি টার্মিনালে কাতারের মালিকানা রয়েছে। এ টার্মিনাল থেকে গত এপ্রিল রফতানি শুরু হয়েছে এবং ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়ছে।
এ ছাড়া কাতার এনার্জির বাণিজ্যিক শাখা কাতার এনার্জি ট্রেডিং স্বল্পমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত এলএনজি বিপণন ও পরিবহনের সক্ষমতাও বাড়িয়েছে।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনের বিষয়ে কাতার এনার্জির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সময়ের আলো/জেডি