দীর্ঘ ৩৩ বছর পর অনুষ্ঠিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্যানেল থেকে সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হয়েছেন আব্দুর রশিদ জিতু। নির্বাচনের পর দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থীর প্রধান প্রতিনিধি হিসেবে কার্যক্রম শুরু করলেও, তার রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে ক্যাম্পাসে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি বিএনপিতে জিতুর যোগদানের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে অতীতে তার বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার যে অভিযোগ উঠেছে, তা নতুন করে সামনে এসেছে। একই সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ, তাদের বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও হলে অবস্থানের অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথোপকথন প্রসঙ্গে ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু জানান, যে আসাদুল আলম শেখের সঙ্গে তার চ্যাট বা কথোপকথন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, সে তখন জাকসু নির্বাচনের একজন বৈধ প্রার্থী ও ভোটার ছিল। একজন সিনিয়র শিক্ষার্থী হিসেবে নির্বাচনি প্রচার বা ভোট চাওয়ার অংশ হিসেবে তার সঙ্গে কথা হয়েছিল।
এছাড়া আল-বেরুনী হল থেকে অপর এক শিক্ষার্থীকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির নেতাদের উপস্থিতিতে ওই শিক্ষার্থী ফেসবুকে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ার পর জিতু তাকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
নিজের হলের রুম ও ছাত্রত্ব প্রসঙ্গে জিতুর দাবি, জাকসু নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালনের স্বার্থে আবাসন বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নীতিগত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। এছাড়া নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য নেতিবাচক অভিযোগের পক্ষে কোনো সত্যতা বা তথ্য-প্রমাণ নেই বলে তিনি দাবি করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অপরাধের প্রমাণ পেলে প্রশাসন আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারে, এ বিষয়ে তার কোনো আপত্তি নেই।
দীর্ঘ বিরতির পর জাকসু নির্বাচন হওয়ায় আবাসন সংকট, হলের মানসম্মত খাবার, চিকিৎসাসেবা, পরিবহন, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও গবেষণার পরিবেশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা অনেক বেশি। রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তনের চেয়ে একজন ছাত্রনেতার নেতৃত্ব কতটা স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়বদ্ধ—সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
পরবর্তীতে রাজনৈতিক পরিচয়ের বিতর্কের বাইরে গিয়ে জিতু শিক্ষার্থীদের মৌলিক সমস্যা সমাধানে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন এবং জাকসুকে দলীয় প্রভাবমুক্ত একটি কার্যকর ছাত্র সংসদ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারেন, তার ওপরই নির্ভর করছে তার নেতৃত্বের মূল মূল্যায়ন।
সময়ের আলো/জোই