হাকালুকি হাওরে আবারও ধরা পড়ছে রুপালি ইলিশ। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ইলিশের উপস্থিতি কয়েক গুণ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জেলে ও মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা।
কুলাউড়া-বড়লেখা-চাঁদগ্রাম সড়কের আছুরিঘাট এলাকায় হাওর থেকে ধরা দেশি মাছের সঙ্গে ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম ওজনের কয়েকটি ইলিশও দেখা গেছে। স্থানীয় জেলেরা জানান, কয়েক দিন ধরে অনেকের জালেই ছোট আকারের ইলিশ ধরা পড়ছে।
ভুকশিমইল ইউনিয়নের জেলে রাহুল মিয়া, মো. ওমর আলী, সুফিয়ান আহমদ, জমির মিয়া ও আহাদ মিয়া জানান, বেড়জাল দিয়ে কয়েক দফা মাছ ধরার পর তাদের জালে ইলিশ উঠে আসে। হঠাৎ ইলিশ পাওয়ায় তারা আনন্দিত। অন্যান্য দেশি মাছের উৎপাদনও বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।
কুলাউড়া উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু মাসুদ জানান, মেঘনা ও কুশিয়ারা নদীর সঙ্গে হাকালুকি হাওরের সংযোগ থাকায় প্রতি বছর এখানে অল্পসংখ্যক ইলিশ ধরা পড়ে। তবে এবার ২৫০ থেকে ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ব্যাপক হারে ধরা পড়ছে। এতে জেলেদের মুখে হাসি ফুটেছে।
তিনি আরও জানান, আগাম বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের পানি কুশিয়ারা হয়ে পদ্মায় মেশে। ফলে ইলিশ প্রজননের সময় স্রোতের বিপরীতে চলাচল করে হাওরে প্রবেশের সুযোগ পায়।
প্রায় ১৮ হাজার ১১৫ হেক্টর আয়তনের হাকালুকি হাওর মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জজুড়ে বিস্তৃত। ২০১৬, ২০১৯ ও ২০২২ সালেও এখানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইলিশ পাওয়া গিয়েছিল।
তবে হাওরের জীববৈচিত্র্য নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। রানি, আইড়, শোল, গজার, বাঘা গুতুমসহ অনেক দেশি মাছ এখন বিলুপ্তপ্রায়। এসব মাছের উৎপাদন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় মৎস্য বিভাগ বিভিন্ন প্রজাতির পোনা অবমুক্ত করছে।
সময়ের আলো/এমকে