কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বোরকা ও নারীদের পোশাক পরে চুরি করতে যাওয়ার অভিযোগে ইসরাইল (৩০) নামে এক যুবককে আটক করে মারধর করেছেন স্থানীয়রা। আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তবে পুলিশের দাবি, ঘটনাটি শুধু চুরির অভিযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দুই পরিবারের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ থাকার বিষয়টিও সামনে এসেছে। এ ছাড়া চুরির অভিযোগের পক্ষে প্রাথমিকভাবে সুনির্দিষ্ট কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে দৌলতপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের মণ্ডলপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আড়িয়া গ্রামের মকলেছুর রহমানের বাড়িতে বোরকা ও নারীদের পোশাক পরে প্রবেশ করেন ইসরাইল। স্থানীয়দের দাবি, তিনি ঘরের ভেতর থেকে মোবাইল ফোন চুরির চেষ্টা করছিলেন। এ সময় মকলেছুর রহমানের স্ত্রী মালা খাতুন তাকে দেখতে পান এবং আটকানোর চেষ্টা করেন।
একপর্যায়ে ইসরাইল দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে মালা খাতুন চিৎকার দেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে ধরে ফেলেন। পরে তার পরনের বোরকা খুলে তিনি পুরুষ বলে নিশ্চিত হন স্থানীয়রা। এরপর তাকে মারধর করে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
পরে স্থানীয়রাই ইসরাইলকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার পা ও কোমরে গুরুতর আঘাতের বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইসরাইলের বিরুদ্ধে এলাকায় আগেও একাধিক চুরির অভিযোগ রয়েছে। সন্দেহ এড়াতে তিনি নারীদের পোশাক ও বোরকা পরে চুরির চেষ্টা করেছিলেন বলেও দাবি তাদের।
এ ঘটনায় বাড়ির মালিক মকলেছুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর দুই পরিবারের পক্ষ থেকেই পৃথক অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, আড়িয়া এলাকায় এক ব্যক্তিকে নারীদের পোশাক পরা অবস্থায় চোরের অপবাদ দিয়ে স্থানীয়রা বেধড়ক মারধর করেছেন। এতে তার পা ও কোমরে বেশ ভালোভাবে আঘাত লাগে। এ কারণে তাকে আমরা আটক দেখাইনি।
ওসি আরও বলেন, সম্ভবত দুই পরিবারের মধ্যে আগে থেকেই দ্বন্দ্ব রয়েছে। সেই কারণেও ঘটনাটি ঘটতে পারে। যারা চুরির অভিযোগ করেছেন তারা চুরির কোনো সুনির্দিষ্ট আলামত দেখাতে পারেননি।
বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ জানিয়েছে, দুই পক্ষের অভিযোগ ও ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সময়ের আলো/আতা