চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় দিনের আলোয় মোটরসাইকেলে এসে ভ্যান চুরি করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এতে স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ভ্যানচালক আসাদুল হক। তার এক ছেলে প্রতিবন্ধী। ভ্যানটি ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনের অবলম্বন। সেটি হারিয়ে এখন প্রতিবন্ধী সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তার। আসাদুলের দাবি, ভ্যান চুরির পর থেকে ঘরে চুলা জ্বলেনি।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছি ইউনিয়নের মালিথাপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী আসাদুল হক ওই এলাকার মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে।
আসাদুল হক জানান, ঘটনার সময় দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে তাদের বাড়ির সামনে আসে। অল্পসময়ের মধ্যেই তারা বাড়ির সামনে রাখা পাখিভ্যানটি নিয়ে চলে যায়। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। তবে কোথাও ভ্যানটির সন্ধান পাননি।
আসাদুল হকের সংসারে দুই ছেলে ও এক মেয়ে। তাদের মধ্যে ছেলে জীবন প্রতিবন্ধী। ভ্যান চালিয়ে প্রতিদিন যে আয় হতো, তা দিয়েই সংসারের খাবার, নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ এবং প্রতিবন্ধী সন্তানের ওষুধ ও চিকিৎসার ব্যয় মেটাতেন তিনি।
আসাদুল হক বলেন, সারাদিন ভ্যান চালিয়ে যে টাকা আয় করি, তা দিয়েই আমার সংসার চলে। ভ্যানটিই ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনের অবলম্বন। সেটিও চুরি হয়ে যাওয়ায় এখন আমরা না খেয়ে দিন কাটাচ্ছি। গতকাল থেকে চুলায় আগুন জ্বলেনি। পরিবারের সদস্যরা না খেয়ে রয়েছে।
অসহায় আসাদুলের জীবনে ভ্যানটির গুরুত্ব ছিল আরও বেশি। করোনা মহামারির সময় ২০২১ সালের দিকে ‘পজেটিভ আলমডাঙ্গা’ নামে একটি সংগঠন তাকে ভ্যানটি দিয়েছিল। সেই ভ্যান চালিয়েই তিনি ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করেন। দীর্ঘদিন ধরে ওই ভ্যানের আয়েই স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে সংসার চালিয়ে আসছিলেন।
কিন্তু একদিনের চুরিতে আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন তিনি। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী সন্তানের খাবার, ওষুধ ও চিকিৎসার খরচ কীভাবে চালাবেন—এ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন আসাদুল।
স্থানীয়রা জানান, দিনের বেলায় মানুষের চলাচলের মধ্যেই মোটরসাইকেলে এসে ভ্যান চুরির ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত চুরি যাওয়া ভ্যানটি উদ্ধার এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
ভ্যান উদ্ধারে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে ব্যর্থ হয়ে সোমবার আলমডাঙ্গা থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আসাদুল হক।
এখন আসাদুলের একটাই চাওয়া—চুরি যাওয়া ভ্যানটি ফিরে পাওয়া। কারণ তার কাছে ভ্যানটি শুধু একটি যানবাহন নয়, এটি প্রতিবন্ধী সন্তানসহ পুরো পরিবারের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার একমাত্র অবলম্বন ছিল।
সময়ের আলো/এনএন