প্রায় ৭০ বছরের পুরোনো ও অপ্রচলিত হিসেবে বিবেচিত দুটি এফ-৫ যুদ্ধবিমান দিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন ঘাঁটিতে আকস্মিক হামলা চালিয়ে বিপুলসংখ্যক মার্কিন হেলিকপ্টার ধ্বংস করার দাবি করেছেন ইরানের বিমানবাহিনীর পাইলটরা।
ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সি (এমএনএ) জানিয়েছে, ইরানি বিমানবাহিনীর পাইলটরা বলেছেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন ঘাঁটিতে বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম মজুত থাকার তথ্য পাওয়ার পর তারা সেখানে হামলার সিদ্ধান্ত নেন।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ১ মার্চ ভোরে প্রায় ৭০ বছরের পুরোনো দুটি এফ-৫ যুদ্ধবিমান নিয়ে তারা ওই অভিযানে অংশ নেন।
পাইলটরা জানান, শত্রুর রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে তাদের অত্যন্ত নিচু দিয়ে উড়তে হয়েছিল। তাদের দাবি, যুদ্ধবিমান দুটি মাটির মাত্র ৫০ ফুট বা প্রায় ১৮ মিটার ওপর দিয়ে উড়েছিল।
এক পাইলট বলেন, উড্ডয়নের উচ্চতা এতটাই কম ছিল যে দুটি জাহাজের মাঝ দিয়ে যাওয়ার সময় জাহাজের ডেকও যুদ্ধবিমানের চেয়ে উঁচু ছিল।
পাইলটদের দাবি, তারা সম্পূর্ণ রেডিও নীরবতা বজায় রেখে সক্রিয় প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে উড়ে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছান। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন বাহিনী এ ধরনের আকস্মিক হামলার কথা ভাবতেই পারেনি।
আকস্মিক হামলায় হেলিকপ্টার ধ্বংসের দাবি
ইরানি পাইলটরা জানান, মার্কিন ঘাঁটির বিমান ওঠানামার এলাকায় অবস্থান করা হেলিকপ্টারগুলোকে লক্ষ্য করে তারা ব্যাপক বোমাবর্ষণ করেন। তাদের দাবি, হামলায় বিপুলসংখ্যক মার্কিন হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়।
পাইলটদের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র মাত্র ১২টি হেলিকপ্টার ধ্বংস হওয়ার কথা স্বীকার করেছে। তবে প্রকৃতপক্ষে ধ্বংস হওয়া উড়োজাহাজের সংখ্যা এবং হতাহতের পরিমাণ আরও অনেক বেশি বলে তারা দাবি করেন।
তারা বলেন, সবকিছুই সৃষ্টিকর্তার কৃপায় হয়েছে। আমরা স্পষ্টভাবে সৃষ্টিকর্তার সাহায্য দেখতে পেয়েছি। কারণ আমাদের মনে হচ্ছিল, আমাদের প্রতিটি বোমা যেন কয়েক ডজন বোমার কাজ করছে। হেলিকপ্টারগুলো একের পর এক বিস্ফোরিত হচ্ছিল।
পাইলটরা আরও দাবি করেন, অভিযানে উন্নত, ভারী, নির্ভুল এবং ব্যাপক ধ্বংসক্ষমতাসম্পন্ন বোমা ব্যবহার করা হয়েছিল। তাদের দাবি, মার্কিন বাহিনী কোনো প্রতিক্রিয়া জানানোর আগেই ঘাঁটির হ্যাঙ্গারে থাকা উন্নতমানের হেলিকপ্টারগুলো ধ্বংস হয়ে যায় এবং ঘাঁটিতে গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি হয়।
ফেরার পথে এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের ধাওয়া
ইরানি পাইলটদের দাবি, হামলা শেষে ঘাঁটিতে ফেরার সময় একটি মার্কিন এফ-১৬ যুদ্ধবিমান তাদের পিছু নেয়।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় অন্য একটি দেশের ঘাঁটি থেকে ইরানে হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করা তিনটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানকে ভুলবশত ওই এফ-১৬ যুদ্ধবিমান এবং মার্কিন বাহিনীর নিজেদের প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্য করে গুলি করে ভূপাতিত করা হয়।
তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
৫০০ কোটি ডলারের বেশি ক্ষয়ক্ষতির দাবি
ইরানি পাইলটরা আরও দাবি করেন, এই অভিযানে মার্কিন অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৫০০ কোটি ডলারের বেশি।
এ হিসাবের ক্ষেত্রে তারা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট (এইআই)-এর একটি অনুমানের কথা উল্লেখ করেন।
পাইলটদের দাবি, অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এই অভিযান সম্পন্ন করার পর দুটি এফ-৫ যুদ্ধবিমানই কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই ঘাঁটিতে ফিরে আসে।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, উন্নত কৌশল, অত্যন্ত নিচু দিয়ে উড্ডয়ন, রেডিও নীরবতা, আকস্মিক হামলা এবং নির্ভুল বোমাবর্ষণের কারণে অভিযানটি সফল হয়।
তবে ইরানি পাইলটদের এসব দাবি, ধ্বংস হওয়া হেলিকপ্টারের সংখ্যা, মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা এবং ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক হিসাব— এসব তথ্যের স্বাধীন কোনো নিশ্চিতকরণ প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ