পাবনায় উৎসবমুখর পরিবেশে ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের আবির্ভাব দিবস

পাবনা প্রতিনিধি

সারাদেশ

উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে পাবনায় ধর্মীয় গুরু শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের ১৩৯তম শুভ আবির্ভাব দিবস ও ২৫৫তম ঋত্বিক অধিবেশন

2026-09-16T20:21:52+00:00
2026-09-16T20:21:52+00:00
 
  মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬,
১৯ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
পাবনায় উৎসবমুখর পরিবেশে ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের আবির্ভাব দিবস
পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২১ পিএম 
ছবি : সংগৃহীত
উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে পাবনায় ধর্মীয় গুরু শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের ১৩৯তম শুভ আবির্ভাব দিবস ও ২৫৫তম ঋত্বিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন স্থানসহ দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা কয়েক হাজার ভক্তের সমাগমে মুখর হয়ে ওঠে ঠাকুরের জন্মস্থান পাবনার হিমাইতপুরের বিশ্ববিজ্ঞান কেন্দ্র প্রাঙ্গণ।

সৎসঙ্গ বাংলাদেশের আয়োজনে মঙ্গলবার ভোর থেকে হিমাইতপুরের বিশ্ববিজ্ঞান কেন্দ্র প্রাঙ্গণে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনব্যাপী মহোৎসব। জন্মলগ্ন ঘোষণার আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি ছিল উষাকীর্তন, সমবেত প্রার্থনা, ঠাকুরের অমিয় গ্রন্থাবলি পাঠ, প্রতীকী গঙ্গাস্নান, মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান ও বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা।

ভোরে উষাকীর্তন ও সমবেত প্রার্থনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনের কর্মসূচি। পরে ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের জন্মলগ্ন ঘোষণা করা হয়। এতে অংশ নেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভক্তরা। খোলা আকাশের নিচে ভক্তরা নিজ নিজ জায়গায় বসে প্রার্থনা ও ধর্মীয় আয়োজনে অংশ নেন।

মহোৎসব উপলক্ষে হিমাইতপুরের পদ্মা নদীতে প্রতীকী গঙ্গাস্নানের আয়োজন করা হয়। এতে হাজারো ভক্ত অংশ নেন। এ ছাড়া পাবনা মানসিক হাসপাতালের রোগীদের মধ্যে খাবার বিতরণ এবং আগত ভক্তদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে আসা ভক্তরা বলেন, ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের জন্মভূমিতে আসার অনুভূতি তাদের কাছে বিশেষ। এই পবিত্র স্থানে এসে তারা মানসিক প্রশান্তি ও পূর্ণতা অনুভব করেন বলে জানান তারা।

সৎসঙ্গ বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক শ্রী ধৃতব্রত আদিত্য বলেন, ‘পরম প্রেমময় শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র হিমাইতপুরের পদ্মা নদীর পাড়ে জন্মগ্রহণ করেছেন। ঠাকুর নিজেই পদ্মা বা গঙ্গায় স্নান করার কথা বলে গেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় আজও তার শুভ আবির্ভাব দিবস পালন করা হচ্ছে। সারা বিশ্বে ঠাকুরের ভক্ত রয়েছেন। তারা তার জন্মভূমিতে আসার জন্য অপেক্ষা করে থাকেন। আমাদের কাছে এই স্থানটি পুণ্যের স্থান।’

তিনি আরও বলেন, ‘তবে আমাদের মনে কষ্টও রয়েছে। ঠাকুর তার জন্মভূমিতে যেসব সম্পদ রেখে গেছেন, সেগুলোর অনেকটাই এখন পরিত্যক্ত ও বেদখল অবস্থায় রয়েছে। আমরা তার স্মৃতি ধরে রাখতে চাই। তাই সরকারের কাছে আমাদের আকুল আবেদন, ঠাকুরের ব্যবহৃত সব সম্পদ সৎসঙ্গ বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হোক।’


সৎসঙ্গ বাংলাদেশের সহকারী সম্পাদক সুব্রত আদিত্য বলেন, ‘এই মহোৎসবে শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্তরা এসেছেন। ঠাকুরের বাণী মানুষের কাছে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই আমাদের এই আয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের প্রত্যাশা, ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত সব স্থাপনা ও সম্পদ সৎসঙ্গীদের কাছে হস্তান্তর করবে সরকার। এসব সম্পদ সংরক্ষণ করে সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই আমরা।’

আয়োজকরা জানান, দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশের কয়েক হাজার সৎসঙ্গী অংশ নেন। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি মানবিক ও সেবামূলক বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করা হয়।

প্রসঙ্গত, ১৩৯ বছর আগে পাবনার হিমাইতপুরে জন্মগ্রহণ করেন শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র। ভক্তদের মতে, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িকতার বাণী প্রচারের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন ধর্ম ও বর্ণের মানুষের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করেন। তার জন্মদিন উপলক্ষে প্রতিবছর হিমাইতপুরে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আবির্ভাব দিবস পালন করেন ভক্তরা।

সময়ের আলো/এসএকে
  বিষয়:   পাবনা  ঠাকুর  অনুকূল চন্দ্র  আবির্ভাব দিবস  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: