রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করাই এখন বড় পরীক্ষা

মতামত

গণতন্ত্রের বৈশ্বিক পরিস্থিতি এখন স্বস্তিদায়ক নয়। গত ৫০ বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণতন্ত্রের প্রধান সূচকগুলো নিম্নমুখী থেকেছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের

2026-09-16T23:55:54+00:00
2026-09-17T00:37:31+00:00
 
  রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬,
১৭ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
মতামত
গণতন্ত্রের সূচকে উন্নতি
রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করাই এখন বড় পরীক্ষা
প্রকাশ: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৫ পিএম  আপডেট: ১৭.০৯.২০২৬ ১২:৩৭ এএম
সময়ের আলো গ্রাফিক
গণতন্ত্রের বৈশ্বিক পরিস্থিতি এখন স্বস্তিদায়ক নয়। গত ৫০ বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণতন্ত্রের প্রধান সূচকগুলো নিম্নমুখী থেকেছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের কয়েকটি সূচকে ইতিবাচক পরিবর্তনের খবর আশাব্যঞ্জক। সুইডেনের স্টকহোমভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ডেমোক্র্যাসি অ্যান্ড ইলেক্টোরাল অ্যাসিস্ট্যান্সের (ইন্টারন্যাশনাল আইডিয়া) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের সূচকের এই পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। এই পরিবর্তন দেশের গণতন্ত্রের সম্ভাবনার কথা যেমন বলে, তেমন গণতন্ত্রের পথে চ্যালেঞ্জের কথাও মনে করিয়ে দেয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের ২০২৪ সালের নির্বাচন এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনটি সূচকে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। সূচক তিনটি হচ্ছে— বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন, নির্বাচিত সরকার ও কার্যকর সংসদ। একই সঙ্গে দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ, নাগরিক স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার মতো সাতটি ক্ষেত্রেও অগ্রগতি হয়েছে। ডিজিটাল মাধ্যমে মতপ্রকাশের ওপর বিধিনিষেধমূলক আইন বাতিল এবং গুমকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনার জন্য আইনি কাঠামো তৈরির বিষয়ও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব পরিবর্তন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনো আইন পরিবর্তন করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার সুফল মেলে না। আইনের বাস্তব প্রয়োগও নিশ্চিত করতে হয়।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পেছনে তরুণদের বড় ভূমিকা ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের জনঅসন্তোষের কারণে এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল। তবে এটা মনে রাখা ভালো যে, একটি সরকারের পতন বা নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার শেষ ধাপ নয়। বরং এরপরই শুরু হয় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার কঠিন কাজ। অতীতের অভিজ্ঞতা আমাদের সেই কথাই বলে।

গণতন্ত্রের সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রকাশ হচ্ছে নির্বাচন। তবে কেবল নির্বাচন অনুষ্ঠিত করাই গণতন্ত্র নয়। অনুষ্ঠিত নির্বাচন হতে হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য। এর মধ্য দিয়ে নির্বাচিত সরকারের ওপর কার্যকর নজরদারিও থাকা চাই। সংসদকে হতে হবে সক্রিয়। সেখানে বিরোধী দলের কথা বলার সুযোগ থাকতে হবে। দেশের বিচার বিভাগকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে হবে। সংবাদমাধ্যমকে নির্ভয়ে সরকারের সমালোচনা করার সুযোগ দিতে হবে। নাগরিকদের মতপ্রকাশ, সভা-সমাবেশ ও সংগঠিত হওয়ার অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা না গেলে গণতন্ত্রে তৈরি হয় ক্ষত। নিয়ম রক্ষার নির্বাচন দিয়ে সেই ক্ষত নিরাময় করা যায় না। এর নজির আমরা নিকট অতীতে দেখেছি। ২০০৯-এর পর দেশে যে তিনটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে তার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র পুষ্ট হয়নি, বরং দুর্বল হয়েছে।

রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা নিশ্চিত করাই বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। দীর্ঘদিনের দুর্বলতা কাটিয়ে নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর ও স্বাধীন করা সহজ কাজ নয়। কোনো প্রতিষ্ঠানকে শুধু পুনর্গঠন করলেই তার স্বাধীনতা নিশ্চিত হয় না। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কৃতিতেও পরিবর্তন আনতে হয়। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান যেন ব্যক্তি বা দলের ওপর নির্ভরশীল না হয়, সেটি নিশ্চিত করতে হয়।

গণতন্ত্রের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো জনগণের আস্থা। নাগরিকরা কেবল ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলেই গণতন্ত্র পূর্ণ হয়ে যায় না। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। জনগণকে নির্ভয়ে কথা বলার সুযোগ দিতে হবে। ভিন্নমতকে জায়গা দিতে হবে। সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার থাকতে হবে। এ কথা ভুলে গেলে চলে না যে, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় ক্ষমতাসীনদেরও আইনের আওতায় জবাবদিহি থাকতে হয়। আর এর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক তৈরি হয়। রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে আস্থা না থাকলে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায় না।

বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গণতন্ত্রের সূচকে সাম্প্রতিক পরিবর্তন আশাব্যঞ্জক। এর পাশাপাশি আমাদের সতর্কও থাকতে হবে। কারণ সূচক স্থির নয়। এর অবস্থান সময়ে সময়ে বদলায়। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো এক দিনে শক্তিশালী হয় না। এ জন্য প্রয়োজন ধারাবাহিক সংস্কার। আর সংস্কারের জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা। গণতন্ত্রকে টেকসই করার জন্য জনগণের সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতার পালাবদল হওয়া জরুরি। পাশাপাশি ক্ষমতার জবাবদিহি নিশ্চিত করাও জরুরি। জনগণের ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও আইনের শাসনকে রাষ্ট্রের স্থায়ী ভিত্তি করতে হবে। তা হলেই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা শক্তিশালী হবে।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/টিকে
  বিষয়:   রাষ্ট্র  প্রতিষ্ঠান  শক্তিশালী  পরীক্ষা  গণতন্ত্র  সূচক  উন্নতি  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: