গ্রাফিক : সময়ের আলো অপরাধ দমনে আইজিপির বক্তব্যকে ‘সময়োপযোগী’ আখ্যা দেওয়া শুধু একটি বক্তব্যের প্রতি সমর্থন নয়; এটি রাষ্ট্রের ক্ষমতা প্রয়োগ, নাগরিকের জীবন ও স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন সম্পর্কে একটি গভীর রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অবস্থান। অপরাধ দমনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কারও দ্বিমত থাকার কথা নয়। কিন্তু অপরাধ দমনের নামে রাষ্ট্র কত দূর যেতে পারে, সেই সীমা নির্ধারিত হবে সংবিধান ও আইন দিয়ে— কোনো ব্যক্তির কঠোর হওয়ার ঘোষণা কিংবা সরকারের অনুমতির শর্ত দিয়ে নয়।
আইজিপি বলেছেন, সরকার অনুমতি দিলে পুলিশ প্রয়োজনে ‘ক্রসফায়ার’ করতে পিছপা হবে না। বক্তব্যটি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলে পুলিশ সদর দফতর ব্যাখ্যা দিয়েছে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বোঝানো তার উদ্দেশ্য ছিল না। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে— রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পুলিশ কর্মকর্তা অপরাধ দমনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এমন একটি বিতর্কিত শব্দ ব্যবহার করবেন কেন? আর সরকার অনুমতি দিলেই কি এমন কোনো কাজ বৈধ হয়ে যায়, যা সংবিধান ও আইনের পরিপন্থী? নির্বাহী বিভাগের কোনো অনুমতিই আইনবহির্ভূত হত্যাকে বৈধতা দিতে পারে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিচারবহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন এবং বিএনপির নেতা রুহুল কবির রিজভী আইজিপির বক্তব্যকে সরকারের জন্য বিব্রতকর বলে অভিহিত করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন কোন বিবেচনায় সেই বক্তব্যকে ‘সময়োপযোগী’ বলে সমর্থন করছে? সরকারের অনুমতির সঙ্গে ‘ক্রসফায়ারের’ প্রসঙ্গ যুক্ত করে যে গুরুতর সাংবিধানিক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, সেটি এড়িয়ে কেবল আইন প্রয়োগের কঠোরতার ব্যাখ্যা দেওয়া কি যথেষ্ট?
বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের এই অবস্থানের মধ্য দিয়ে পুলিশের ক্ষমতা প্রয়োগ সম্পর্কে ঔপনিবেশিক কর্তৃত্ববাদী মানসিকতার প্রতিফলন ঘটেছে কি না সেই প্রশ্ন তোলা সংগত। ঔপনিবেশিক পুলিশব্যবস্থার ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য ছিল জনগণকে সেবা দেওয়ার পরিবর্তে শাসকের কর্তৃত্ব রক্ষা এবং বলপ্রয়োগের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। স্বাধীন রাষ্ট্রের পুলিশব্যবস্থার মৌলিক চরিত্র হওয়ার কথা ছিল এর বিপরীত— জনগণের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষায় নিবেদিত একটি পেশাদার প্রতিষ্ঠান।
অপরাধ দমনের নামে বলপ্রয়োগের সম্ভাবনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া অথচ সেই বলপ্রয়োগের সাংবিধানিক সীমা ও জবাবদিহির প্রশ্নকে উপেক্ষা করা, পুলিশের ক্ষমতা সম্পর্কে গভীর প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। রাষ্ট্রের শক্তি প্রদর্শন আর আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এক বিষয় নয়। পুলিশ যদি নিজেকে জনগণের অধিকার রক্ষার প্রতিষ্ঠান হিসেবে না দেখে জনগণের ওপর ক্ষমতা প্রয়োগের অধিকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখে, তা হলে রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্ক ক্রমেই বৈরী হয়ে উঠতে পারে।
গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে জনগণের যে তীব্র ক্ষোভের প্রকাশ ঘটেছে, সেই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বক্তব্যে অনুপস্থিত। দলীয় আনুগত্যের কারণে পুলিশ যখন সাংবিধানিক দায়িত্ব ও পেশাগত নিরপেক্ষতা থেকে বিচ্যুত হয়েছিল, তখন জনগণের চোখে পুলিশের মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। যে পুলিশ জনগণের বন্ধু হওয়ার কথা, সেই পুলিশই অনেক ক্ষেত্রে জনগণের প্রতিপক্ষ, এমনকি জনগণের শত্রুতে পরিণত হয়েছিল। গণঅভ্যুত্থানের অভিজ্ঞতা এই কঠিন সত্যকে সামনে নিয়ে এসেছে।
এই অভিজ্ঞতা পুলিশব্যবস্থার রাজনৈতিক ব্যবহার, ক্ষমতার অপব্যবহার ও জবাবদিহির ঘাটতি নিয়ে গভীর আত্মসমালোচনার দাবি জানায়। কিন্তু অ্যাসোসিয়েশনের বক্তব্যে পুলিশের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভের কারণ, দলীয় আনুগত্যের পরিণতি কিংবা পুলিশের হারানো মর্যাদা পুনরুদ্ধারের উপায় নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট অবস্থান নেই। বরং অপরাধ দমনের নামে কঠোরতার বক্তব্যকে সমর্থন করা হয়েছে। এতে প্রশ্ন ওঠে, অ্যাসোসিয়েশন কি গণঅভ্যুত্থানের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে পুলিশকে রূপান্তর করতে আগ্রহী, নাকি বিদ্যমান ক্ষমতাকাঠামোর মানসিকতা ধরে রাখতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে?
গণঅভ্যুত্থানের শিক্ষা গ্রহণের পরিবর্তে পুলিশ যদি আবার নির্বাহী ক্ষমতার আশ্রয়ে জনগণের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার পুরোনো প্রবণতায় ফিরে যায়, তা হলে তা শুধু পুলিশের জনবিচ্ছিন্নতাই বাড়াবে না, রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তরকেও বাধাগ্রস্ত করবে। জনগণের আস্থা বলপ্রয়োগে নয়, নিরপেক্ষতা, পেশাদারিত্ব, মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা এবং আইনের প্রতি আনুগত্যের মধ্য দিয়েই অর্জন করতে হয়।
বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের কাছে প্রত্যাশিত ছিল, কীভাবে পুলিশের ঔপনিবেশিক মানসিকতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের আস্থাভাজন পুলিশব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য দেওয়া। কীভাবে পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, পেশাদার ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করা যায়— সেই প্রশ্নই হওয়া উচিত ছিল তাদের অগ্রাধিকারের কেন্দ্রে।
বিশেষত কার্যকর পুলিশ সংস্কার এবং একটি স্বাধীন ও কার্যকর পুলিশ কমিশন গঠনের প্রশ্নে অ্যাসোসিয়েশনের নীরবতা অত্যন্ত হতাশাজনক। পুলিশের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও পেশাগত সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ঝুঁকি কমানো, পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের কার্যকর জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা পুলিশ সংস্কারের অপরিহার্য অংশ।
পুলিশ কমিশন গঠন কেবল প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের বিষয় নয়; এটি পুলিশকে দলীয় প্রভাবের বাইরে এনে জনগণের সেবায় নিয়োজিত করার বৃহত্তর প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের অংশ। কমিশনের কাঠামো, ক্ষমতা, স্বাধীনতা ও জবাবদিহি এমনভাবে নির্ধারণ করা জরুরি, যাতে তা সরকারের দৈনন্দিন রাজনৈতিক নির্দেশের অধীন কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত না হয়। অথচ পুলিশকে জনবান্ধব করার জন্য প্রয়োজনীয় এই কাঠামোগত সংস্কার সম্পর্কে অ্যাসোসিয়েশনের কোনো সুস্পষ্ট অবস্থান নেই।
বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের প্রাতিষ্ঠানিক কর্তব্য ও সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট করা জরুরি। এটি কোনো সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ বা আদালত নয়, আইন প্রয়োগের বৈধতা নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠানও নয়। কোনো পেশাজীবী সংগঠনের সমর্থন আইনবহির্ভূত কাজকে বৈধতা দিতে পারে না। পুলিশের পেশাগত স্বার্থ রক্ষার অধিকার থাকলেও সেই অধিকার সংবিধান, আইন, মানবাধিকার ও জনস্বার্থের ঊর্ধ্বে নয়।
একটি পেশাজীবী সংগঠনের কর্তব্য কেবল সদস্যদের পেশাগত স্বার্থ রক্ষা কিংবা পুলিশের বক্তব্যের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। পুলিশের পেশাগত মর্যাদা, নৈতিক মান, দুর্নীতিমুক্ত কর্মপরিবেশ এবং আইনের প্রতি প্রাতিষ্ঠানিক আনুগত্য প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখাও তার দায়িত্ব। পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠলে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষার প্রশ্নে সংগঠনটির সুস্পষ্ট নৈতিক অবস্থান থাকা প্রয়োজন।
পুলিশের ক্ষমতা প্রয়োগ নিয়ে গুরুতর সাংবিধানিক প্রশ্ন উঠলে সেই প্রশ্নের জবাব দেওয়ার পরিবর্তে কঠোরতার ভাষাকে সমর্থন করা পুলিশ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তাকেই আরও স্পষ্ট করে।
রাষ্ট্রের সংকট তখন শুধু সরকারের ব্যর্থতায় সীমাবদ্ধ থাকে না; রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের দায়িত্ব, সীমা ও নৈতিক ভিত্তি সম্পর্কে কতটা সচেতন, সেই প্রশ্নও সামনে আসে। একটি গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে পুলিশ সরকারের ব্যক্তিগত শক্তি নয়; পুলিশ জনগণের অর্থে পরিচালিত রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। তার দায়িত্ব সংবিধান, আইন ও জনগণের অধিকার রক্ষা করা— কোনো ব্যক্তি বা সরকারের খেয়ালখুশি পূরণ করা নয়। সরকার পরিবর্তিত হতে পারে, রাজনৈতিক ক্ষমতার বিন্যাস বদলাতে পারে, কিন্তু পুলিশের সাংবিধানিক দায়িত্ব বদলে যেতে পারে না।
গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য কেবল একটি সরকারের পতনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর গভীর তাৎপর্য এমন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষায়, যেখানে কোনো সরকার, প্রতিষ্ঠান কিংবা ক্ষমতাধর ব্যক্তি জনগণের সার্বভৌমত্ব ও সাংবিধানিক অধিকারের ঊর্ধ্বে উঠতে পারবে না। রাষ্ট্রের ক্ষমতা জনগণের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য— জনগণকে রাষ্ট্রের ক্ষমতার ভয়ে নীরব করে রাখার জন্য নয়।
অপরাধ দমনে রাষ্ট্রকে কঠোর হতে হবে— তবে সেই কঠোরতা প্রকাশ পেতে হবে পেশাদার তদন্ত, নির্ভুল গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অপরাধের প্রমাণ নিশ্চিত করা এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় অপরাধীর শাস্তি কার্যকর করার ক্ষেত্রে। পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, তাদের ওপর হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। একইভাবে পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠলে তারও স্বাধীন তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
রাষ্ট্রের শক্তি কতজনকে হত্যা করতে পারে, তা দিয়ে নির্ধারিত হয় না; রাষ্ট্র কতটা কার্যকরভাবে অপরাধ প্রতিরোধ করতে পারে, নিরপরাধীকে সুরক্ষা দিতে পারে এবং ক্ষমতাবানকেও আইনের অধীন রাখতে পারে, তা দিয়েই তার শক্তি ও সভ্যতার পরিচয় নির্ধারিত হয়।
আইজিপির বক্তব্যকে কেবল একটি অনভিপ্রেত মন্তব্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য তার সাংবিধানিক দায়িত্ববোধ, পেশাগত নিরপেক্ষতা এবং পদে থাকার উপযুক্ততা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। তাই তার অবিলম্বে অপসারণ এবং বক্তব্যের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। তদন্তে বিচারবহির্ভূত হত্যাকে উৎসাহিত করা বা অন্য কোনো আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে আইনানুগ বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনেরও উচিত আইজিপির বক্তব্যকে সমর্থন করার যৌক্তিকতা স্পষ্ট করা এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার কোনো অনুমোদন দেওয়া হবে না— এ বিষয়ে দ্ব্যর্থহীন অবস্থান গ্রহণ করা। একই সঙ্গে পুলিশ সংস্কার, পুলিশ কমিশন গঠন, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পেশাদারিত্ব এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে নিজেদের ভূমিকা সম্পর্কে সুস্পষ্ট বক্তব্য দিতে হবে।
রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী বাহিনীকে সংবিধান ও আইনের অধীন রাখা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে, অপরাধ দমনের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যা, আইনবহির্ভূত বলপ্রয়োগ কিংবা নির্বাহী ক্ষমতার অপব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে পুলিশের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও পেশাগত সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করে স্বাধীন ও কার্যকর পুলিশ কমিশন প্রতিষ্ঠাসহ মৌলিক পুলিশ সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে। কয়েকজন কর্মকর্তার পরিবর্তন নয়, পুলিশের ক্ষমতা প্রয়োগের কাঠামো ও জবাবদিহির ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তনই হতে হবে সংস্কারের লক্ষ।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ছিল রাষ্ট্রের ক্ষমতার সম্পর্ক পরিবর্তন— যেখানে জনগণ রাষ্ট্রের অধীন অসহায় প্রজা নয় বরং রাষ্ট্রের মালিক ও সকল ক্ষমতার চূড়ান্ত উৎস। সেই আকাঙ্ক্ষাকে অস্বীকার করে নতুন নেতৃত্বের অধীনে পুরোনো নিপীড়নমূলক কাঠামো পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হলে তা হবে গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। রাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠান জনগণের ওপর অবাধ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারে না; প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে সংবিধান, আইন ও জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
গীতিকবি
মতামত লেখকের নিজস্ব
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি