প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর : অর্থনৈতিক কূটনীতি ও ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধির প্রত্যাশা

ডা. মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ

মতামত

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত করা, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফর

2026-10-28T02:07:14+00:00
2026-10-28T02:07:14+00:00
 
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,
১২ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
মতামত
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর : অর্থনৈতিক কূটনীতি ও ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধির প্রত্যাশা
ডা. মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৭ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত করা, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফর গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য বহন করছে। ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত চার দিনের এই সরকারি সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনায় রূপ দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সংস্কার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রফতানি সম্প্রসারণ এবং স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণপরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত তারেক রহমানের সরকারের প্রায় আট মাস অতিবাহিত হয়েছে। জাতীয় সংসদের স্বাভাবিক পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হলে ২০৩১ সালের ফেব্রুয়ারিতে পরবর্তী সাংবিধানিক পর্যায় সামনে আসবে। এই সময়ের মধ্যে সরকারের সামনে রয়েছে অর্থনীতিকে গতিশীল করা, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানো এবং উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বড় দায়িত্ব। জাপান সফর সেই লক্ষ অর্জনে একটি কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ হতে পারে।

কূটনৈতিক উদ্যোগ ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে টোকিও সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল অংশ নিয়েছে। ২৭ অক্টোবর দুই দেশের সরকারপ্রধানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক যোগাযোগের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাওয়ার কথা। সফরসূচিতে জাপানি ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্পায়নের জন্য নতুন সুযোগ তৈরির বিষয়টিও রয়েছে।

জাপান দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। জাইকা, জেট্রো ও জেবিআইসির মতো সংস্থার সহযোগিতায় অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও শিল্প উন্নয়নে দুই দেশের সম্পর্ক বিস্তৃত হয়েছে। এখন প্রয়োজন কেবল উন্নয়ন ঋণনির্ভর সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ, যৌথ উদ্যোগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাওয়া।

সরকারের জন্য এটি একটি ইতিবাচক সুযোগ। বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ, প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করা গেলে বাংলাদেশে জাপানি প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ আরও বাড়তে পারে।

বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় ১২টি খাত
বাংলাদেশের অর্থনীতিকে বহুমুখী করার জন্য তথ্যপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, উন্নত উৎপাদনশিল্পসহ বিভিন্ন খাতে জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আলোচনার অগ্রাধিকার হিসেবে নিচের ক্ষেত্রগুলো বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

১. পরিবহন ও যোগাযোগ : মেট্রোরেল, সড়ক, সেতু, রেলপথ এবং নগর পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ।
২. তথ্যপ্রযুক্তি : সফটওয়্যার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবা, ডিজিটাল অবকাঠামো ও প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ।
৩. নবায়নযোগ্য জ্বালানি : সৌরবিদ্যুৎ, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি এবং জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার।
৪. অটোমোবাইল ও সেমিকন্ডাক্টর : গাড়ি সংযোজন, যন্ত্রাংশ উৎপাদন এবং উন্নত প্রযুক্তির শিল্প গড়ে তোলা।
৫. বন্দর ও সরবরাহব্যবস্থা : আধুনিক গুদাম, পণ্য পরিবহন ও আন্তর্জাতিক সরবরাহশৃঙ্খল উন্নয়ন।
৬. কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ : খাদ্য সংরক্ষণ, কৃষিপণ্যের মানোন্নয়ন এবং রফতানিযোগ্য পণ্য উৎপাদন।
৭. হালকা প্রকৌশল : শিল্পযন্ত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরি।
৮. ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা : চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ উৎপাদন ও স্বাস্থ্যপ্রযুক্তির বিকাশ।
৯. বস্ত্র ও তৈরি পোশাক : উচ্চমূল্যের পোশাক, উন্নত তন্তু এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন।
১০. দক্ষ জনশক্তি : জাপানি ভাষা, কারিগরি শিক্ষা ও পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি।
১১. বর্জ্য ব্যবস্থাপনা : বর্জ্য পুনর্ব্যবহার, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন।
১২. সমুদ্র অর্থনীতি : মৎস্যসম্পদ, সামুদ্রিক গবেষণা, বন্দর ও উপকূলীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্প্রসারণ।

এই খাতগুলোতে বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে নতুন কর্মসংস্থান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, রফতানি আয় ও দেশীয় শিল্পের সক্ষমতা বাড়তে পারে। তবে প্রস্তাবিত বিনিয়োগ এবং বাস্তবে অনুমোদিত বা ছাড় করা অর্থের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট রাখা জরুরি। সরকারের উচিত প্রতিটি উদ্যোগের অগ্রগতি, অর্থায়নের শর্ত এবং সম্ভাব্য কর্মসংস্থানের তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা।

মেগা প্রকল্পে উন্নয়ন ও আর্থিক শৃঙ্খলা
বাংলাদেশের অবকাঠামোগত অগ্রগতিতে জাপানের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। ঢাকা মেট্রোরেল, মাতারবাড়ী উন্নয়ন উদ্যোগ এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দেশের যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত।

ঢাকা মেট্রোরেল রাজধানীর যানজট কমানো, যাতায়াতের সময় বাঁচানো এবং কর্মঘণ্টার উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহায়তা করছে। ভবিষ্যতে অন্যান্য রুট সম্প্রসারিত হলে নগর অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব আরও বাড়তে পারে। তবে প্রতিটি রুটের অনুমোদিত ব্যয়, সংশোধিত ব্যয়, ঋণের পরিমাণ এবং পরিচালন ব্যয় পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে। বন্দরকেন্দ্রিক শিল্প, গুদাম, পরিবহন ও রফতানি কার্যক্রম বিকশিত হলে কক্সবাজারসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ার সুযোগ রয়েছে। একইভাবে বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল আন্তর্জাতিক যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

এসব প্রকল্পের সুফল সর্বাধিক করতে সময়মতো বাস্তবায়ন, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, স্বচ্ছ দরপত্র এবং কার্যকর রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। জাপানি ঋণের সুদের হার, পরিশোধের সময়সীমা ও বৈদেশিক মুদ্রার ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পের আর্থিক স্থায়িত্ব মূল্যায়ন করাও সরকারের দায়িত্ব।

ইপিএ চুক্তি ও রফতানি বৃদ্ধির সুযোগ
বাংলাদেশ ও জাপানের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি বা ইপিএ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তিতে বিভিন্ন পণ্যের শুল্ক হ্রাস বা প্রত্যাহার এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নিয়ম সহজ করার সুযোগ রয়েছে। ফলে বর্তমান সফরে চুক্তিটির বাস্তবায়ন, বাজারে প্রবেশাধিকার এবং ব্যবসায়িক সহযোগিতা সম্প্রসারণ বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

বাংলাদেশের নির্ধারিত স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের তারিখ ২৪ নভেম্বর ২০২৬। উত্তরণপরবর্তী সময়ে রফতানি প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে পণ্যের মান, উৎপাদনশীলতা, শ্রমিকের দক্ষতা এবং পরিবেশগত মানদণ্ড উন্নত করতে হবে। জাপানের বাজারে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি কৃষিপণ্য, ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, হালকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তিনির্ভর পণ্যের রফতানি বাড়ানোর সুযোগ খুঁজতে হবে।

সরকারি সহায়তা, সহজ ঋণপ্রাপ্তি, আধুনিক পরীক্ষাগার এবং রফতানিকারকদের প্রশিক্ষণ এই ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক সরবরাহশৃঙ্খলে যুক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে।

কর্মসংস্থান ও মানবসম্পদ উন্নয়ন
বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের অন্যতম বড় সম্পদ। অন্যদিকে জাপানে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর অনুপাত বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন শিল্পে শ্রমিকের চাহিদা বাংলাদেশের দক্ষ কর্মীদের জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে শুধু কর্মী পাঠানো নয়, প্রশিক্ষিত ও সুরক্ষিত কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত অগ্রাধিকার।

জাপানি ভাষা শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ, তথ্যপ্রযুক্তি, পরিচর্যা পেশা এবং শিল্পভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নে যৌথ কর্মসূচি নেওয়া যেতে পারে। নিয়োগের স্বচ্ছতা, ন্যায্য বেতন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং অভিবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে। এতে প্রবাসী আয় বাড়ার পাশাপাশি দেশের দক্ষ জনশক্তির মানও উন্নত হবে।

আঞ্চলিক সহযোগিতা ও বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান
বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যিক সংযোগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হতে পারে। জাপানের প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও শিল্প-অভিজ্ঞতার সঙ্গে বাংলাদেশের শ্রমশক্তি ও বাজারের সমন্বয় ঘটলে আঞ্চলিক উৎপাদনব্যবস্থায় দেশের অংশগ্রহণ বাড়বে।

জাপানের ইন্দো-প্যাসিফিক উদ্যোগের সঙ্গে যোগাযোগ, বন্দর ও বাণিজ্যিক অবকাঠামোর উন্নয়নের সম্পর্ক রয়েছে। তবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হওয়া উচিত জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক শান্তি এবং সব অংশীদারের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতে। অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার পরিবর্তে উন্নয়ন ও পারস্পরিক কল্যাণের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করাই হবে বিচক্ষণ কূটনীতি।

সরকারের সামনে করণীয়
তারেক রহমানের সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। প্রথমত বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতির ধারাবাহিকতা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত করব্যবস্থা, ব্যাংকিং খাত ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বাড়াতে হবে। তৃতীয়ত শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে মানবসম্পদকে উৎপাদনশীল করতে হবে। চতুর্থত উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ও অগ্রগতি নিয়মিত নিরীক্ষার আওতায় আনতে হবে। পঞ্চমত শিল্পায়নের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ ও শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

সফরের ঘোষণাগুলোকে বাস্তব ফলাফলে রূপ দিতে সময়সীমাভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা, দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা এবং পরিমাপযোগ্য লক্ষ নির্ধারণ করা দরকার। সংসদ, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের কাছে অগ্রগতির তথ্য প্রকাশ করলে সরকারের জবাবদিহিতা বাড়বে এবং জনগণের আস্থাও সুদৃঢ় হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফর বাংলাদেশের জন্য বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, রফতানি ও কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা উন্মোচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এই সফরের সাফল্য শুধু ঘোষিত অর্থ বা সমঝোতার সংখ্যায় নয়; বরং বাস্তব বিনিয়োগ, নতুন কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নে প্রতিফলিত হতে হবে।

সরকার যদি স্বচ্ছতা, সুশাসন, দক্ষ মানবসম্পদ এবং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে জাপানের সঙ্গে সহযোগিতা এগিয়ে নিতে পারে, তা হলে এই কূটনৈতিক উদ্যোগ দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের শক্তিশালী ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বাংলাদেশকে আত্মনির্ভর, প্রতিযোগিতামূলক ও সমৃদ্ধ অর্থনীতির পথে এগিয়ে নেওয়াই হবে বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় সাফল্য।

লেখক ও জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষক
মতামত লেখকের নিজস্ব

সময়ের আলো/প্রিন্ট/আতা
Advertisement
Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: