তৃণমূলের অংশগ্রহণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত হোক

সম্পাদকীয়

মতামত

গ্রামের উন্নয়ন, জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের সেবার মান বাড়াতে আবারও গ্রাম সরকার গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘গ্রাম সরকার আইন

2026-10-26T06:17:30+00:00
2026-10-26T06:17:30+00:00
 
  সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬,
১০ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
মতামত
গ্রাম সরকার
তৃণমূলের অংশগ্রহণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত হোক
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৭ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
গ্রামের উন্নয়ন, জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের সেবার মান বাড়াতে আবারও গ্রাম সরকার গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘গ্রাম সরকার আইন ২০২৬’-এর খসড়া প্রকাশ করে জনসাধারণের মতামত চাওয়া হয়েছে। উদ্যোগটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীর জন্য মঙ্গল। কারণ গ্রামের অনেক সমস্যা স্থানীয় পর্যায়েই চিহ্নিত ও সমাধান করা সম্ভব। তবে এ জন্য জনগণের অংশগ্রহণে কার্যকর স্থানীয় নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে। গ্রাম সরকার সেই সুযোগ তৈরি করতে পারে।

প্রস্তাবিত আইনে ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি ওয়ার্ডে ১৭ সদস্যের গ্রাম সরকার গঠনের কথা বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের নির্বাচিত ইউপি সদস্য হবেন এর প্রধান। ১৫ জন সদস্য নেওয়া হবে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা থেকে। সদস্য নির্বাচনে ‘হ্যাঁ’-‘না’ ভোটের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ব্যবস্থায় স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে সদস্য বাছাইয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কমিটিতে শুধু বিভিন্ন শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব থাকলেই হবে না, তাদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগও থাকতে হবে।

গ্রাম সরকার সক্রিয় হলে গ্রামের নানা সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব হতে পারে। রাস্তাঘাট ও কালভার্ট নির্মাণের অগ্রাধিকার ঠিক করা, উন্নয়নকাজের অগ্রগতি দেখা এবং কৃষি উপকরণের সরবরাহ পর্যবেক্ষণে এ কমিটি ভূমিকা রাখতে পারে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, টিকাদান, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন কার্যক্রমেও সহায়তা করতে পারে। সার ও বীজের সংকট দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত জানানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বৃক্ষরোপণ, মৎস্য চাষ, পশুপালন ও ক্ষুদ্র উদ্যোগে মানুষকে উৎসাহিত করা যেতে পারে। গ্রাম সরকার এসব কাজে যুক্ত হলে গ্রামের মানুষ উপকৃত হবেন বলে আশা করা যায়। 

স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ প্রতিরোধেও গ্রাম সরকার ভূমিকা রাখতে পারে। প্রত্যন্ত এলাকায় পুলিশের দ্রুত উপস্থিতি সবসময় সম্ভব হয় না। তবে গ্রাম সরকার কোনোভাবেই পুলিশের বিকল্প হতে পারে না। অপরাধ তদন্ত, অপরাধী গ্রেফতার ও আইন প্রয়োগের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরই থাকতে হবে। স্থানীয় বিরোধ মীমাংসার নামে কাউকে চাপ দেওয়া, সালিশে বৈষম্য করা কিংবা অপরাধ আড়াল করার সুযোগ রাখা যাবে না। বিশেষ করে নারী, শিশু, সংখ্যালঘু ও দুর্বল জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় সতর্ক থাকা প্রয়োজন। 

দেশে গ্রাম সরকার গঠনের উদ্যোগ অবশ্য নতুন নয়। অতীতে বিভিন্ন সময়ে এ ব্যবস্থা চালু হয়েছে, বন্ধও হয়ে গেছে। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে এবার পথ চলতে হবে। গ্রাম সরকার কমিটির সদস্যদের প্রশিক্ষণের অভাব, অর্থসংকট ও প্রশাসনিক ধারাবাহিকতার ঘাটতির মতো কোনো সমস্যা অতীতে থেকে থাকলে এবার সেগুলোর সমাধান করতে হবে। 

প্রস্তাবিত আইনে গ্রাম সরকার তহবিলের কথা বলা হলেও ইউনিয়ন পরিষদের আয়ের কত অংশ এতে দেওয়া হবে, তা নির্দিষ্ট করা হয়নি। অর্থের উৎস ও বরাদ্দের পরিমাণ স্পষ্ট না হলে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব পালন করা কঠিন হতে পারে। পাশাপাশি প্রতিটি ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ, নিয়মিত নিরীক্ষা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যকর নিয়মও থাকতে হবে।

গ্রাম সরকারকে কার্যকর করতে হলে স্থানীয় মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। সদস্য মনোনয়ন ও ভোটের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করতে হবে। সব শ্রেণির মানুষের মতামত দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। দায়িত্ব পালনের জন্য সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও আনসার-ভিডিপির মধ্যে কাজের সমন্বয় থাকতে হবে। একই সঙ্গে গ্রাম সরকারের ক্ষমতার সীমা স্পষ্ট করতে হবে যাতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এ কাঠামোকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে। সরকার খসড়া আইনের ওপর জনমত চেয়েছে। নাগরিকদের মতামতের ভিত্তিতে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আমরা আশা করতে চাই।

সময়ের আলো/এসএকে

  বিষয়:   তৃণমূল  জবাবদিহি  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: