মো. তাহমিদ রহমান
গ্রাফিক : সময়ের আলোবাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা প্রকৃতি, আর বড় দুর্বলতা সেই প্রকৃতিকে ঘিরে গড়ে ওঠা পর্যটন অবকাঠামোর অব্যবস্থাপনা। একদিকে পাহাড়, সমুদ্র, বন, নদী ও বিস্তীর্ণ উপকূলের হাতছানি; অন্যদিকে নিরাপত্তাহীনতা, তদারকির ঘাটতি এবং দুর্ঘটনার পর দায় এড়ানোর প্রবণতা। ফলে যে অবকাশ মানুষের মনে প্রশান্তি আনার কথা, তা কখনো কখনো আতঙ্কের অভিজ্ঞতায়
পরিণত হচ্ছে।
প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য, ইতিহাস-ঐতিহ্যের সমৃদ্ধি এবং বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি একটি দেশকে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলে। বাংলাদেশের রয়েছে বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক বালুকাময় সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার, সবুজে ঘেরা সিলেট, ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন, পাহাড়ি সৌন্দর্যের লীলাভূমি পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং অসংখ্য ঐতিহাসিক নিদর্শন। কিন্তু নিরাপত্তাহীনতা, প্রতারণা, হয়রানি ও অব্যবস্থাপনার কারণে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা অনেক ক্ষেত্রেই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সম্প্রতি কক্সবাজারের পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা পর্যটনকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। স্বজন হারানো এক নারীর বিলাপ এবং জ্বলন্ত রিসোর্টের সামনে তার দিকভ্রান্ত ছোটাছুটির দৃশ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়, পর্যটনের নামে গড়ে ওঠা স্থাপনায় নিরাপত্তার ঘাটতি কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। কোনো ঘটনা যখন ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থা, নিয়মের প্রতি অবহেলা এবং দায়িত্বহীনতার কারণে ঘটে, তখন তাকে নিছক দুর্ঘটনা বলে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। প্রতিরোধযোগ্য বিপর্যয় এড়াতে কার্যকর তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা প্রকৃতি, আর বড় দুর্বলতা সেই প্রকৃতিকে ঘিরে গড়ে ওঠা পর্যটন অবকাঠামোর অব্যবস্থাপনা। একদিকে পাহাড়, সমুদ্র, বন, নদী ও বিস্তীর্ণ উপকূলের হাতছানি; অন্যদিকে নিরাপত্তাহীনতা, তদারকির ঘাটতি এবং দুর্ঘটনার পর দায় এড়ানোর প্রবণতা। ফলে যে অবকাশ মানুষের মনে প্রশান্তি আনার কথা, তা কখনো কখনো আতঙ্কের অভিজ্ঞতায় পরিণত হচ্ছে।
সমুদ্রের নীল জলরাশি, দিগন্তজোড়া বালুকাবেলা, সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্য আর ঢেউয়ের গর্জনে কক্সবাজার বহু মানুষের কাছে স্বস্তির ঠিকানা। নাগরিক জীবনের ব্যস্ততা ও ক্লান্তি থেকে মুক্তি পেতে মানুষ ছুটে যায় এই সমুদ্রনগরীতে। অথচ অনিরাপদ সড়ক, সৈকতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাব, হোটেল-রিসোর্টে অগ্নিঝুঁকি, খাবারের মান ও মূল্য নিয়ে অভিযোগ এবং অপরিকল্পিত বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড পর্যটকদের স্বস্তি কেড়ে নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যটনের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে এসব সমস্যার সমাধান জরুরি।
কক্সবাজার শহরের অপরিকল্পিত সম্প্রসারণ নিরাপত্তাঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলেছে। কলাতলী থেকে লাবণী সৈকত পর্যন্ত এলাকায় অনেক বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে। শহরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায়ও সরু রাস্তার পাশে ঘনবসতিপূর্ণ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। কোথাও কোথাও রাস্তা এতটাই সংকীর্ণ যে রিকশা চলাচলও কঠিন। আশপাশে পর্যাপ্ত খোলা জায়গা ও জলাশয়ের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
এ ধরনের এলাকায় অগ্নিকাণ্ড ঘটলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছানো এবং উদ্ধারকাজ পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে। আগুন ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের ভবনেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। টুপটুপ রিসোর্টের অগ্নিকাণ্ড এ সংকটের ভয়াবহতা সামনে এনেছে। কাঠ ও বাঁশের মতো দাহ্য উপকরণে নির্মিত স্থাপনায় পর্যাপ্ত জরুরি নির্গমনপথ, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থা না থাকলে সামান্য আগুনও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। একটি রিসোর্ট শুধু রাত কাটানোর জায়গা নয়; এটি পর্যটক ও তাদের পরিবারের নিরাপদ আশ্রয়। সেই আশ্রয়ই যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
টুপটুপ রিসোর্টের অগ্নিকাণ্ড নিয়ে একাধিক জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী ফায়ার সার্ভিস জুন মাসে স্থাপনাটি পরিদর্শন করে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল এবং ১১ জুন সতর্কতামূলক নোটিস দিয়েছিল। এরপরও সেখানে কার্যক্রম চালু ছিল। অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রকাশিত খবরে জানানো হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী রিসোর্টটির প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল না এবং ফায়ার লাইসেন্সও ছিল না।
এসব তথ্য সত্য হলে প্রশ্ন ওঠে, ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পরও কীভাবে সেখানে পর্যটকদের থাকার সুযোগ অব্যাহত থাকল? নোটিস দেওয়াই কি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বের শেষ ধাপ? ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা বন্ধ করা, নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং পুনরায় পরিদর্শনের মাধ্যমে নিয়ম মানা হচ্ছে কি না যাচাই করার দায়িত্ব কার? সতর্কবার্তা যদি কার্যকর পদক্ষেপে রূপ না নেয়, তা হলে তার কার্যকারিতা কোথায়? এসব প্রশ্নের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
কক্সবাজারের নিরাপত্তাসংকট শুধু হোটেল-রিসোর্টে সীমাবদ্ধ নয়। সমুদ্রসৈকতেও পর্যটকদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে। চোরাগর্ত, চোরাবালি ও প্রবল স্রোতের সতর্কসংকেত উপেক্ষা করে অনেকেই সাগরে নামেন। এ ক্ষেত্রে পর্যটকদের সচেতনতা যেমন জরুরি, তেমনি প্রয়োজন কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা। শুধু সতর্কতামূলক পতাকা উত্তোলন যথেষ্ট নয়।
বিপজ্জনক এলাকায় নিয়মিত টহল, প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মী, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, তাৎক্ষণিক চিকিৎসা এবং সহজবোধ্য ভাষায় সতর্কবার্তা নিশ্চিত করতে হবে। কোথায় সাঁতার নিরাপদ, কোন এলাকায় পানিতে নামা নিষেধ এবং কখন সাগরে নামা বিপজ্জনক— এসব তথ্য স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। পাশাপাশি পর্যটন মৌসুমে যানজট, অপরিকল্পিত পার্কিং ও সড়কে বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। জরুরি পরিস্থিতিতে অ্যাম্বুলেন্স ও অগ্নিনির্বাপণ গাড়ি যাতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারে, সে ব্যবস্থাও রাখতে হবে। সড়ক ব্যবস্থাপনাকে শুধু যানজট নিরসনের বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না; এটি জীবন রক্ষা ও জরুরি উদ্ধার কার্যক্রমেরও অংশ।
পর্যটনকেন্দ্রে সেবার মান ও ব্যয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকাও জরুরি। পর্যটকরা হোটেল ভাড়া, খাবার ও পরিবহন বাবদ অর্থ ব্যয় করে যে মানের সেবা প্রত্যাশা করেন, তা সব ক্ষেত্রে নিশ্চিত হয় না। বিশেষ করে খাদ্যনিরাপত্তা ও মূল্য নিয়ে অভিযোগের অবকাশ থাকা উচিত নয়। সমুদ্রের মাছ, শুঁটকি ও সামুদ্রিক খাবার কক্সবাজারের অন্যতম আকর্ষণ। এসব খাবার তাজা কি না, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে কি না, রান্নাঘর পরিচ্ছন্ন কি না এবং নিরাপদ পানি ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত তদারক করতে হবে। মেনুতে উল্লেখ করা দামের সঙ্গে বিলের মিলও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
প্রতিটি অভিযোগকে প্রমাণিত অনিয়ম হিসেবে বিবেচনা করা যেমন ঠিক নয়, তেমনি অভিযোগকে গুরুত্বহীন বলে উড়িয়ে দেওয়াও অনুচিত। নিয়মিত খাদ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্যবিধি পর্যবেক্ষণ, মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে পর্যটকদের আস্থা অর্জন করতে হবে। একজন পর্যটকের পক্ষে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স, রান্নাঘর কিংবা জরুরি নির্গমনপথ পরীক্ষা করা সম্ভব নয়। তাই রাষ্ট্রীয় তদারকি ও স্বচ্ছ তথ্যপ্রকাশের বিকল্প নেই।
সৈকতের বিভিন্ন স্থানে দোকানপাট, বিচ বাইক, ঘোড়া, ফটোগ্রাফার ও অন্যান্য বাণিজ্যিক কার্যক্রমের আধিক্য পর্যটকদের স্বস্তি এবং সৈকতের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত করছে। প্রকৃতিকে কেন্দ্র করেই কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পের বিকাশ। অথচ প্রকৃতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, সৈকতকে অনিয়ন্ত্রিত বাণিজ্যের জায়গায় পরিণত করে এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থ হয়ে দীর্ঘমেয়াদি পর্যটন উন্নয়ন সম্ভব নয়। পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেই পর্যটন শিল্পের উন্নতি হয় না। পর্যটকরা কতটা নিরাপদে সময় কাটাতে পারছেন, পরিবেশ কতটা সুরক্ষিত থাকছে এবং স্থানীয় মানুষের জীবনে কী ধরনের ইতিবাচক অর্থনৈতিক প্রভাব পড়ছে, তার ভিত্তিতেই উন্নয়নের মান নির্ধারণ করা উচিত।
কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের প্রায় ৮০ কিলোমিটার এলাকায় আনুমানিক ২৫০টি স্থাপনার অনুমোদন ও নিরাপত্তাব্যবস্থায় ঘাটতি থাকার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। এসব স্থাপনার অগ্নিনিরাপত্তা, পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন যাচাই করা প্রয়োজন। পর্যটন ব্যবসার প্রসার ঘটাতে গিয়ে মানুষের নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষাকে উপেক্ষা করা যায় না।
পর্যটনকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কোনো একক সংস্থার নয়। পর্যটন কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় সরকার, প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, ভবন নির্মাণ ও ব্যবহারের অনুমোদনদাতা প্রতিষ্ঠান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার নিজ নিজ দায়িত্ব রয়েছে। এই দায়িত্বের বিভাজন যেন দায় এড়ানোর সুযোগ তৈরি না করে। কোনো দুর্ঘটনার পর এক প্রতিষ্ঠান অন্য প্রতিষ্ঠানের দিকে আঙুল তুলবে, অথচ তদন্ত ও জবাবদিহি আড়ালে থেকে যাবে— এমন পরিস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয়।
পর্যটনকেন্দ্রের সব হোটেল, রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁর লাইসেন্স, অগ্নিনিরাপত্তা এবং জরুরি নির্গমনব্যবস্থা নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার তালিকা প্রকাশ করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ত্রুটি সংশোধনের নির্দেশ দিতে হবে। গুরুতর ঝুঁকি থাকলে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হবে। একই সঙ্গে সড়ক, উদ্ধারব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে।
কক্সবাজার বাংলাদেশের পর্যটন অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। পর্যটনকে ঘিরে এখানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে, স্থানীয় অর্থনীতি গতিশীল হচ্ছে এবং বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। কিন্তু অবকাঠামোগত সম্প্রসারণের সঙ্গে নিরাপত্তা ও পরিবেশগত মানদণ্ডের বাস্তবায়ন সমানতালে এগোতে হবে। কাঠের কটেজ, পাহাড়ি রিসোর্ট কিংবা সমুদ্রতীরের স্থাপনা— যে ধরনের অবকাঠামোই হোক, নির্মাণসামগ্রী, আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি, পর্যটকের সংখ্যা এবং জরুরি উদ্ধারব্যবস্থা বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। রাষ্ট্রের দায়িত্ব শুধু দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজ পরিচালনা বা ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
প্রতিরোধযোগ্য দুর্ঘটনা এড়াতে আগেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াই প্রধান দায়িত্ব। সমুদ্রের ঢেউ থামানো কিংবা প্রকৃতির সব ঝুঁকি দূর করা সম্ভব নয়। কিন্তু অবহেলা, অনিয়ম, দুর্বল তদারকি ও অপরিকল্পিত নির্মাণ থেকে তৈরি বিপদ অনেকটাই প্রতিরোধ করা যায়। তাই পর্যটক বাড়ানোর প্রচারের আগে নিরাপত্তা, সেবার মান ও প্রকৃতি সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। কক্সবাজারের সৈকত আতঙ্কের স্মৃতি নয়, নিরাপদ আনন্দের প্রতীক হয়ে উঠুক। পর্যটন শিল্পের সাফল্য শুধু কত মানুষ এলেন, তা দিয়ে নয়; কত মানুষ নিরাপদে ফিরে গেলেন এবং কতটা আস্থা নিয়ে আবার আসতে চান, তা দিয়েও বিচার করতে হবে।
লেখক : শিক্ষক
মতামত লেখকের নিজস্ব