প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৩ এএম
গ্রাফিক : সময়ের আলো স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা মানুষের জীবনকে অনেক সহজ করেছে। সমস্যা হচ্ছে, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে একটি চক্র অনলাইন জুয়ার ফাঁদ তৈরি করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে। এর শিকার হচ্ছেন বিভিন্ন বয়সের মানুষ। অল্প সময়ে অনেক টাকা আয়ের লোভ দেখিয়ে মূলত তরুণদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে। অনলাইন জুয়া পরিবার ও সমাজের জন্যও বড় বিপদ হয়ে উঠেছে।
সময়ের আলোয় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, অনলাইন জুয়ায় টাকা হারিয়ে কেউ কেউ আত্মহত্যাও করেছে। কেউ কেউ আবার পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। এমনকি জুয়ার কারণে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও ঘটছে। এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন বলে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। জুয়ার নেশা মানুষকে নানা অপরাধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। প্রথমে অল্প টাকা দিয়ে খেলা শুরু হলেও একপর্যায়ে অনেকে হারানো টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় আরও বেশি অর্থ বিনিয়োগ করে। ঋণ, পারিবারিক অশান্তি ও হতাশা তখন তাদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে।
পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, অনলাইন জুয়ার পেছনে রয়েছে সংঘবদ্ধ চক্র। বিদেশ থেকে পরিচালিত বিভিন্ন জুয়ার সাইটের বাংলাদেশি এজেন্টরা গ্রাহক সংগ্রহ করে। মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে টাকা জমা ও তোলার ব্যবস্থা করে তারা। গ্রাহক যত বাড়ে, তাদের আয়ও তত বাড়ে। এভাবে কেউ কেউ বিপুল সম্পদের মালিক হচ্ছে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষ তাদের সঞ্চয় হারাচ্ছেন।
জুয়ার টাকা বিদেশে পাচার হওয়ার আশঙ্কাও করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে এটি কেবল সামাজিক সমস্যা নয়, দেশের অর্থনীতির জন্যও উদ্বেগের বিষয়। অনলাইন জুয়ার চক্রের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের অবৈধ আয় ও সম্পদের উৎস খুঁজে বের করা দরকার।
অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়েছে। তবে অভিযানে একটি চক্র ধরা পড়লেও অন্য চক্র নতুন নামে কার্যক্রম শুরু করতে পারে। এ কারণে জুয়ার ওয়েবসাইট বন্ধ করার পাশাপাশি সেগুলোর বিজ্ঞাপন ও প্রচার থামানো প্রয়োজন। জুয়ার টাকা লেনদেনে ব্যবহৃত ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল নম্বর শনাক্ত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক, মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্বও কম নয়। সন্তান বা শিক্ষার্থী অনলাইন জুয়ায় জড়িয়ে পড়লে শুধু শাস্তি দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। কিশোর-তরুণরা কেন জুয়ায় আকৃষ্ট হচ্ছে তা বুঝতে হবে। তাদের মানসিক সহায়তা দিতে হবে। প্রয়োজন হলে আসক্তি থেকে মুক্ত করার জন্য তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। তরুণদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সৃজনশীল কাজে যুক্ত করার সুযোগ বাড়াতে হবে। জুয়ার ক্ষতি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে সরকার, গণমাধ্যম ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
দেশে অনলাইন জুয়া ও বেটিং দমনে কঠোর আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। তবে আইন প্রণয়ন করাই যথেষ্ট নয়, তার কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। জুয়া প্রতিরোধে শুধু অভিযান চালিয়ে দায়িত্ব শেষ করলে চলবে না। জুয়ার প্রচার বন্ধ করতে হবে। এর সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। জুয়ায় আসক্ত ব্যক্তিদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর ব্যবস্থা করতে হবে। জুয়ার ফাঁদে পড়ে কেউ যেন সর্বস্ব হারিয়ে হতাশায় ডুবে না যান সে জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া দরকার। তরুণদের ভবিষ্যৎ রক্ষা করা রাষ্ট্র ও সমাজের যৌথ দায়িত্ব।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/আতা