প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৬ এএম
গ্রাফিক : সময়ের আলো মোবাইল ফোন এখন আর শুধু কথা বলার মাধ্যম নয়। শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা, সংবাদ, ব্যাংকিংসহ নানা কাজে এর ব্যবহার বাড়ছে। ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে মানুষের দৈনন্দিন জীবন। অথচ দেশের মোবাইল সেবার মান নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগের শেষ নেই। ডাটা কিনেও অনেকে ঠিকমতো ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারেন না। কোথাও নেটওয়ার্ক দুর্বল, কোথাও বারবার কল বিচ্ছিন্ন হয়। আবার অনেক এলাকায় ফোর-জি সেবাও ঠিকমতো পাওয়া যায় না। এই দুর্ভোগের অবসান হওয়া দরকার।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) তথ্যেও গ্রাহকদের অসন্তোষের চিত্র স্পষ্ট। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোবাইল সেবার মান নিয়ে সংস্থাটিতে ১১ হাজারের বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে। আগের দুই অর্থবছরেও অভিযোগের সংখ্যা ছিল প্রায় একই। মোবাইল অপারেটররা দাবি করছেন, অধিকাংশ অভিযোগের সুরাহা করা হয়েছে। বাস্তবতা হচ্ছে, গ্রাহকদের কাছ থেকে বারবার একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কতগুলো অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে শুধু সেই সংখ্যা দিয়ে সেবার মান বিচার করা যাবে না। সমস্যার টেকসই সমাধান হচ্ছে কি না সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
দেশে মোবাইল গ্রাহক বাড়লেও সেই তুলনায় নেটওয়ার্কের উন্নয়ন হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। সীমিত তরঙ্গ ব্যবহার করে বেশি গ্রাহককে সেবা দিতে গিয়ে নেটওয়ার্কে চাপ বাড়ছে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর ঘাটতিও রয়েছে। ফলে শহরের পাশাপাশি গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও মানসম্মত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শুধু নতুন গ্রাহক যুক্ত করে ব্যবসা বাড়ালেই চলবে না। গ্রাহক যে সেবার জন্য টাকা দিচ্ছেন সেই সেবার যথাযথ মান নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য অপারেটরদের সর্বত্র নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিতে হবে।
এ ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসিরও দায়িত্ব রয়েছে। মোবাইল সেবার মান যাচাইয়ের জন্য সংস্থাটি প্রায় ২১ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি কিনেছে বলে জানা গেছে। ২০২২ সালে সেগুলো চালু হলেও চার বছর পরও পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা যায়নি। পরীক্ষার ফলাফলের সঙ্গে অপারেটরদের তথ্যের পার্থক্য থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা উচিত। কোনো অজুহাতেই বছরের পর বছর প্রতিবেদন আটকে রাখা গ্রহণযোগ্য নয়। জনগণের টাকায় কেনা যন্ত্রপাতির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। পরীক্ষার পদ্ধতি চূড়ান্ত করে নিয়মিত ফলাফল প্রকাশ করতে হবে। এতে গ্রাহক যেমন প্রকৃত অবস্থা জানতে পারবেন, তেমনি অপারেটরদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা সহজ হবে।
গ্রাহকদের অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি সহজ করতে হবে। অভিযোগ পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানে বারবার একই ধরনের সেবার ঘাটতি থাকলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। সমস্যার কারণ চিহ্নিত করা জরুরি। কল বিচ্ছিন্ন হওয়া, ইন্টারনেটের গতি কম থাকা এবং নেটওয়ার্ক না পাওয়ার অভিযোগ আলাদাভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। সেটা করা হলে কোন এলাকার মোবাইল সেবায় কী ধরনের উন্নয়ন প্রয়োজন তা নির্ধারণ করা সহজ হবে।
সরকারের নীতি নির্ধারকরা বলছেন, মোবাইল সেবার মানে বাংলাদেশকে এক বছরের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। আমরা কথার সঙ্গে কাজের মিল দেখতে চাই। সরকার, বিটিআরসি ও মোবাইল অপারেটরদের এ জন্য সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
মোবাইল সেবার মান উন্নত হলে জনসাধারণ উপকৃত হবে। ব্যবসা-বাণিজ্যও গতি পাবে। গ্রাহককে শুধু বেশি ডাটা কেনার সুযোগ দিলেই হবে না, সেই ডাটা ব্যবহারের উপযোগী সেবাও দিতে হবে। ডাটা আছে, কিন্তু গতি নেই— এই বাস্তবতা বদলানোই এখন প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি