সাংবাদিকের বাড়িতে অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনার এক সপ্তাহ না পেরোতেই চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে বদলি করা হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বদলির আদেশ দেওয়া হয়।
এর আগে, গত ৯ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াপাড়া এলাকায় জাতীয় দৈনিকের সাংবাদিক জাহেদুল ইসলামের পরিবারের বাড়িতে সংঘটিত হয় সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা। পরিবারের অভিযোগ, ৮ থেকে ১০ জনের একটি ডাকাত দল বাড়ির দ্বিতীয় তলার জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ঘরে ঘরে তল্লাশি চালায়।
ডাকাতির ঘটনায় পরিবারের দুই পুরুষ সদস্যের হাত, মুখ ও চোখ বেঁধে রাখা হয়। এ সময় তাদের মারধরও করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিবারের দাবি, ডাকাতরা প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা এবং সাড়ে ৪ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। পাশাপাশি বাড়িতে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর ও চারটি মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, সশস্ত্র ডাকাত দলটি প্রথমে বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে সিঁড়ি দিয়ে নিচতলায় নেমে ভেতর থেকে প্রধান ফটক খুলে দেয়। এরপর বাইরে থাকা দলের অন্য সদস্যরাও বাড়িতে প্রবেশ করে।
ডাকাতরা প্রথমে সাংবাদিক জাহেদুল ইসলামের বড় ভাই রফিকুল ইসলামের কক্ষে যায়। সেখানে তাকে হাত, মুখ ও চোখ বেঁধে ফেলা হয়। পরে তার স্ত্রী নুসরাত সুলতানা পিংকির প্রায় আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার এবং রফিকুল ইসলামের ৫৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়।
এরপর তারা মেজো ভাই শহিদুল ইসলামের কক্ষে প্রবেশ করে। তাকেও একইভাবে হাত, মুখ ও চোখ বেঁধে ফেলা হয়। পরে তার ব্যবসার ৯০ হাজার টাকা এবং স্ত্রী শাহীন আক্তারের প্রায় দুই ভরি স্বর্ণালংকার লুট করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
পরিবারের দাবি, ডাকাত দলের সদস্যরা বাড়ির বিভিন্ন কক্ষ ও স্থানে তল্লাশি চালায়। যাওয়ার সময় তারা সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে এবং চারটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। পরে বাড়ির উঠানে তিনটি মোবাইল ফোন পাওয়া গেলেও একটি আর পাওয়া যায়নি।
ডাকাতির সময় বাড়ির বাইরেও আতঙ্ক তৈরি করা হয়। ফজরের নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে মসজিদে যাওয়ার পথে শাহ আলম নামের এক যুবক ডাকাত দলের সদস্যদের দেখে ফেলেন। পরে তাকে জিম্মি করে বাড়ির এককোণে বসিয়ে রাখা হয়।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, ডাকাত দলের সদস্যরা একটি মাইক্রোবাস ও একটি কারে করে এলাকায় আসে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তারা বাড়ির ভেতরে অবস্থান করে লুটপাট চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পরপরই বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। সাংবাদিক জাহেদুল ইসলাম জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেফতার এবং লুট হওয়া টাকা ও স্বর্ণালংকার উদ্ধারের দাবি জানান।
কিন্তু ডাকাতির ঘটনার কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তদের গ্রেফতার, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার কিংবা ডাকাত দলের ব্যবহৃত যানবাহন শনাক্তের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতির তথ্য সামনে আসেনি বলে অভিযোগ পরিবারের।
সাতকানিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক অপরাধের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাংবাদিক জাহেদুল ইসলামের বাড়িতে ডাকাতির কয়েক দিন আগে সাতকানিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাংবাদিক শহীদুল ইসলাম বাবরের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে।
এরপর গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে কেরানীহাট সিটি সেন্টারে হামিম নামে এক যুবক ছুরিকাঘাতে খুন হন। ওই ঘটনায় একজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার কথা জানানো হয়।
এমন এক পরিস্থিতির মধ্যেই আজ বুধবার সাতকানিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের বদলির আদেশ আসে।
সময়ের আলো/আতা