পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ড্রেজার মেশিন জব্দের ঘটনায় মৃত ও নিরপরাধ ব্যক্তিদের নামে মামলা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ‘ভুয়া’ মামলার প্রতিবাদে এবং প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্তের দাবিতে বুধবার দুপুরে তেঁতুলিয়া-পঞ্চগড় জাতীয় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা।
জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নের পোহাতুগছ এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আকাশ ও তেঁতুলিয়া মডেল থানা পুলিশের একটি দল। অভিযানে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত তিনটি ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতেই স্থানীয় তহশিলদার (ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা) মানিক চন্দ্র বর্মন বাদী হয়ে ২২ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
তবে মামলাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, যারা প্রকৃতপক্ষে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত, তাদের নাম বাদ দিয়ে দীর্ঘদিন আগে মারা যাওয়া ব্যক্তি এবং ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই এমন নিরপরাধ মানুষদের আসামি করা হয়েছে।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে বুধবার দুপুরে ভজনপুর বাজারে লাঠিসোঁটা নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন কয়েকশ মানুষ। অবরোধের ফলে রাস্তার দুপাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে।
খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আকাশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রতিবাদী জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা এবং নিরপরাধ ব্যক্তিদের নাম মামলা থেকে প্রত্যাহারের আশ্বাস দিলে স্থানীয়রা অবরোধ তুলে নেন। এরপর মহাসড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের আমরাও বিচার চাই। কিন্তু মৃত মানুষ বা যারা এলাকায় থাকে না, তাদের কেন আসামি করা হবে? প্রশাসনকে সঠিক তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের ধরতে হবে।
তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লাইছুর রহমান মামলা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ড্রেজার মেশিন জব্দের ঘটনায় নিয়মিত মামলা রেকর্ড হয়েছে। তবে একবার মামলা রুজু হওয়ার পর থানা থেকে তা প্রত্যাহারের আইনি সুযোগ নেই। এটি এখন আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে।
তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আনোয়ার হোসাইন জানান, সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে এসিল্যান্ডকে পাঠানো হয়। মৃত ব্যক্তির নামে মামলা হয়েছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মামলার নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য যাচাই করে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে।
তদন্তহীনভাবে এমন মামলার ঘটনায় এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ বিরাজ করছে। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে নিরপরাধ ব্যক্তিদের অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সুশীল সমাজ।
সময়ের আলো/জোই