প্রকাশ: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩৯ পিএম আপডেট: ১৮.০৯.২০২৬ ১১:৪৩ পিএম
নিহতদের মধ্যে ছয়জন বেসামরিক নাগরিক ও ১৫ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। ছবি : আল-জাজিরা পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কোহাট শহরে একটি মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছয়জন বেসামরিক নাগরিক ও ১৫ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের সময় পুলিশ সদর দফতরের ভেতরের একটি মসজিদের প্রবেশপথে বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি দিয়ে হামলা চালানো হয়। বিস্ফোরণের পর বন্দুকধারীরা পুলিশ কম্পাউন্ডে ঢোকার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের বন্দুকযুদ্ধ হয়।
পুলিশের প্রাদেশিক প্রধান জুলফিকার হামিদ আত্মঘাতী হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হামলায় মসজিদটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পুলিশ স্টেশনের বাইরের দেয়ালও ধসে পড়েছে।
হামলার পর হাসপাতালে অন্তত ১৫টি মরদেহ নেওয়া হয়েছে। আহতের সংখ্যা ৫০ থেকে ৭৫ জনের বেশি হতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। উদ্ধার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আহতদের বেশিরভাগই মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মানুষ।
হামলার দায় স্বীকার করেছে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর সঙ্গে যুক্ত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘ইত্তেহাদুল মুজাহিদিন’। গোষ্ঠীটি তালেবান কমান্ডার হাফিজ গুল বাহাদুরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে জানা গেছে।
হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ছয় হামলাকারী নিহত হয়েছে বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
কোহাট শহরটি আফগানিস্তান সীমান্তের কাছাকাছি এবং পাকিস্তানের অশান্ত উত্তর ওয়াজিরিস্তান অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোর একটি। সাম্প্রতিক সময়ে ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সহিংসতা বেড়েছে।
পাকিস্তান সরকার হামলার নিন্দা জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ উদ্ধার কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
এর আগের দিনই উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের হাঙ্গু জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর একটি গাড়িবহরে রাস্তার পাশে পুঁতে রাখা বোমা বিস্ফোরণে ছয় সেনা নিহত হন।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ