নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় বিজ্ঞাপন ‘শোবার ঘরটা নীল হোক, আকাশের মতো’, এই কথাগুলো শুনলেই অনেকের মনে পড়ে যায় মডেল লামিয়া তাবাসসুম চৈতীর মুখ। একইভাবে জুঁই নারকেল তেলের ‘হারানো সেই দিন, মনে ভাসে আজও’ জিংগেলটিও সেই সময়ের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়।
বিজ্ঞাপনচিত্রে অল্প সময়ের উপস্থিতিতেই দর্শকদের নজর কেড়েছিলেন চৈতী। তবে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পরও তিনি নিয়মিত অভিনয় বা মডেলিংয়ে যুক্ত হননি।
প্রায় দুই দশক পর নতুন আয়োজনে বার্জার পেইন্টসের সেই বিজ্ঞাপনে আবারও দেখা যায় তাকে। কিন্তু এরপর আবারও ক্যামেরার জগৎ থেকে দূরে সরে যান তিনি। সর্বশেষ ম্যাগি নুডলসের একটি বিজ্ঞাপনে দেখা গেলেও এরপর আর কোনো কাজে তাকে দেখা যায়নি।
আজ চৈতীর জন্মদিন। রাত ১২টার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় ভাসছেন তিনি। বিশেষ দিনটি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেই কাটাচ্ছেন এই জনপ্রিয় মডেল।
জন্মদিনের অনুভূতি জানিয়ে লামিয়া তাবাসসুম চৈতী বলেন, ফেসবুক, মেসেঞ্জার ও ফোনে অসংখ্য মানুষের শুভেচ্ছা পেয়ে তিনি সত্যিই আবেগাপ্লুত। মানুষের ভালোবাসা দেখে তার মনে হয়, তার জন্ম যেন সার্থক হয়েছে। প্রতি জন্মদিনেই তার এমন অনুভূতি হয়। সাধারণত পরিবারের সঙ্গেই তিনি দিনটি কাটান।
তিনি জানান, পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাইরে ডিনার করতে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তার ধারণা, সেখানে হয়তো তার জন্য কোনো সারপ্রাইজও অপেক্ষা করছে।
আবারও অভিনয়-মডেলিংয়ে ফিরতে চান
কাজ থেকে দূরে থাকলেও অভিনয় ও মডেলিংয়ে আবার ফেরার ইচ্ছা রয়েছে চৈতীর। তবে নিয়মিত কাজের প্রস্তাব না পাওয়াকেই এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। মজার ছলে চৈতী বলেন, তিনি কাজ করতে চান, কিন্তু পরিচালকরা হয়তো তাকে কাজের জন্য যোগাযোগ করতে ভয় পান!
এ বিষয়ে তিনি বলেন, ব্যস্ততার কারণে এখন নিয়মিত কাজ করা হয় না। পাশাপাশি তার কাছে তেমন কাজের প্রস্তাবও আসে না। আর যেসব প্রস্তাব আসে, সেগুলোর অনেকগুলো তার পছন্দ হয় না। তবে পছন্দ করার মতো গল্প বা কনসেপ্ট নিয়ে কেউ এলে তিনি অবশ্যই কাজ করতে আগ্রহী।
যেভাবে শুরু হয়েছিল ক্যারিয়ার
লামিয়া তাবাসসুম চৈতী তারকা মডেল সাদিয়া ইসলাম মৌয়ের খালাতো বোন। তার মডেলিং ক্যারিয়ারের শুরু হয়েছিল মৌয়ের মা প্রয়াত রাশা ইসলামের সঙ্গে কাজের মাধ্যমে।
পরে ভারতের প্রখ্যাত নির্মাতা রাজীব মেননের পরিচালনায় ‘রেক্সোনা’র একটি বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করেন চৈতী।
সেসময় রাজীব মেনন ‘সাপনে’ সিনেমাটি নির্মাণ করেছিলেন। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছিলেন কাজল, প্রভু দেবা ও অরবিন্দ স্বামী। পরে তিনি ‘কান্ডুকোন্ডাইন কান্ডুকোন্ডাইন’ নামের তামিল সিনেমা পরিচালনা করেন। এতে অভিনয় করেন ঐশ্বরিয়া রাই, টাবু, মাম্মুটি ও অজিত।
স্বল্প সময়ের ক্যারিয়ারে আলাদা পরিচিতি
চৈতীর মডেলিং ও অভিনয়ের ক্যারিয়ার দীর্ঘ ছিল না। তবে অল্পসংখ্যক কাজের মধ্যেই বিজ্ঞাপনচিত্রে নিজের আলাদা উপস্থিতি ও অভিনয়গুণ দিয়ে দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি।
বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি ২০০০ সালে বিটিভিতে প্রচারিত ‘ছবির মতো মেয়ে’ টেলিফিল্মেও অভিনয় করেন চৈতী। ইমদাদুল হক মিলনের গল্প অবলম্বনে নির্মিত এই টেলিফিল্মটির পরিচালক ছিলেন নির্মাতা ও অভিনেতা আফজাল হোসেন। এতে চৈতীর বিপরীতে অভিনয় করেন আফজাল হোসেন ও মনির খান শিমুল।
‘ছবির মতো মেয়ে’ই ছিল ক্যামেরার সামনে চৈতীর শেষ অভিনয়। এরপর আর কোনো নাটক বা টেলিফিল্মে তাকে দেখা যায়নি।
২৫ বছর ধরে শিক্ষকতা
অভিনয় ও মডেলিংয়ের পাশাপাশি শিক্ষকতার সঙ্গেও যুক্ত চৈতী। প্রায় ২৫ বছর ধরে তিনি এই পেশায় আছেন।
দীর্ঘ সময় ক্যামেরার বাইরে থাকলেও নব্বইয়ের দশকের সেই জনপ্রিয় বিজ্ঞাপনের মুখ হিসেবে এখনো দর্শকদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে আছেন লামিয়া তাবাসসুম চৈতী।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ