রাশিয়ার তেল নিয়ে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, চাপে মোদি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হুমকিতে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে পড়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রাশিয়ার কাছ থেকে

2026-09-18T23:01:04+00:00
2026-09-18T23:01:04+00:00
 
  শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৩ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
রাশিয়ার তেল নিয়ে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, চাপে মোদি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০১ পিএম 
ছবিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দেখা যাচ্ছে। ছবি : রয়টার্স
রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হুমকিতে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে পড়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রাশিয়ার কাছ থেকে তেল আমদানি কমালে ভারতে জ্বালানির দাম বেড়ে যেতে পারে এবং সরকারের ওপর আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। আবার আমদানি অব্যাহত রাখলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতের রফতানি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।  

ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক এবং রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা। বৃহস্পতিবার মার্কিন কংগ্রেসে এমন একটি বিল উত্থাপনের পর নয়াদিল্লি বেশ কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বিলটি আইনে পরিণত হলে রাশিয়া থেকে বড় পরিমাণে তেল কেনা দেশগুলোর ওপর, যার মধ্যে ভারত ও চীনও রয়েছে, সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ তৈরি হতে পারে। 

রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা শুরুর পর ২০২২ সাল থেকে রাশিয়ার কাছ থেকে কম দামে তেল কিনে ভারত বিপুল অর্থ সাশ্রয় করেছে। এখন সেই জ্বালানি বাণিজ্যই ভারতের বৃহত্তর কৌশলগত ও বাণিজ্যিক স্বার্থের সঙ্গে সংঘাত তৈরি করছে। 

নয়াদিল্লি জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। তবে ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত বিভিন্ন উৎস থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে।

বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও অনিশ্চয়তা

রাশিয়ার তেল নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির আশা ভারত পুরোপুরি ছেড়ে দেবে না বলে দুটি ভারতীয় সূত্র জানিয়েছে। তবে অতিরিক্ত মার্কিন শুল্ক কার্যকর হলে ভারতকে অন্য দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বাড়াতে হতে পারে।

গত বছর ভারত যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করেছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। কানাডার সঙ্গেও বছরের শেষ নাগাদ আরেকটি চুক্তি সম্পন্ন করার চেষ্টা করছে নয়াদিল্লি।

ভারত আশা করছে, ডিসেম্বরের জি২০ সম্মেলনে মোদি যুক্তরাষ্ট্র সফর করলে সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠক হতে পারে এবং বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অগ্রগতি হতে পারে।

ওয়াশিংটনের আটলান্টিক কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান বলেছেন, গত এক বছরে মার্কিন শুল্কসহ বিভিন্ন কারণে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। তার মতে, রাশিয়ার তেল কেনার জন্য ভারতকে শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন এই আইনটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ধাক্কা হতে পারে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি শুল্ক কার্যকর করতে দেরি করে অথবা সীমিতভাবে প্রয়োগ করে, তাহলে ক্ষতির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতে পারে। তবে নতুন আইনটি দুই দেশের মধ্যে আস্থার ঘাটতি বাড়াতে পারে এবং বাণিজ্য চুক্তির জন্য শেষ মুহূর্তে সমঝোতাকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।

নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক চাপ

রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে মার্কিন চাপ এখন ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিরোধীরা মোদি সরকারের কাছে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার দাবি জানাচ্ছে।

অন্যদিকে, জ্বালানির দাম বাড়লে মোদি সরকারের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। আগামী বছরের শুরু থেকে ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশ, পাঞ্জাব এবং মোদির নিজ রাজ্য গুজরাটে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। উত্তর প্রদেশ ও গুজরাটে বর্তমানে মোদির দল বিজেপি ক্ষমতায় রয়েছে।


রাশিয়ার তেলের ওপর ভারতের নির্ভরতা

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর ভারত রাশিয়া থেকে কম দামের অপরিশোধিত তেল কেনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়। বর্তমানে ভারতের মোট তেল সরবরাহের ৪০ শতাংশেরও বেশি রাশিয়া থেকে আসছে।

রাশিয়ার তেল কেনা বাড়ানোর অন্যতম কারণেই ২০২৫ সালের আগস্টে ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিলেন, যা বিভিন্ন দেশের ওপর আরোপ করা শুল্কের মধ্যে অন্যতম বেশি ছিল।

পরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প ওই শুল্ক কমিয়ে দেন। এর বিনিময়ে তিনি দাবি করেন, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ এবং বাণিজ্য বাধা কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ভারত অবশ্য ২০২৬ সালের শুরুতে অল্প সময়ের জন্য রাশিয়া থেকে তেল কেনা কমালেও পরে আবার আমদানি বাড়িয়েছে। বিশেষ করে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে যে ধাক্কা লাগে, তার পর রাশিয়ার তেলের আমদানি আরও বেড়েছে।

ভারত বারবার জানিয়েছে, বিশাল জনসংখ্যা ও দ্রুত বাড়তে থাকা অর্থনীতির জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ভারতীয় শোধনাগারগুলো সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের জন্য ইতোমধ্যে রাশিয়ার তেলসহ বিভিন্ন উৎস থেকে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করেছে।

ভারতের কয়েকজন বিশ্লেষকের মতে, রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনা ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থায়ন করছে না। বরং তাদের মতে, এই তেল বৈশ্বিক সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভূমিকা রাখছে। 

নয়াদিল্লিভিত্তিক থিংকট্যাংক গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের প্রতিষ্ঠাতা এবং সাবেক বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা অজয় শ্রীবাস্তব বলেন, ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হলে ভারতীয় রপ্তানিকারক ও মার্কিন ভোক্তা, উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। একই সঙ্গে এটি বাণিজ্য ব্যাহত করবে এবং বড় অংশীদারদের ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেবে।

সূত্র : রয়টার্স 

সময়ের আলো/ইউএমএইচ
  বিষয়:   রাশিয়া  তেল  মার্কিন নিষেধাজ্ঞা  মোদি 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: