পায়ের টিউমার অপারেশন করতে গিয়ে রগ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। শহরের নুর জাহান সেলিম নিরাময় হাসপাতালের চিকিৎসক মাহমুদুল হাসান মাসুমের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী আনু বেগম বলেন, আমি পায়ে হেঁটে ক্লিনিকে এসেছি। কিন্তু ডাক্তার না বুঝেই অপারেশন করে পায়ের রগ কেটে ফেলেছে। তিন ঘণ্টার বেশি অপারেশন করতে সময় লেগেছে। ভবিষ্যতে আমি ভালোভাবে হাঁটতে পারব কি না তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।
অভিযুক্ত চিকিৎসক মাহমুদুল হাসান মাসুম বলেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্টে ভুল থাকায় এমন ঘটনা হয়েছে। পরে সিদ্ধান্তের পরিবর্তন আসলে যৌথ চিকিৎসকের সমন্বয়ে দ্বিতীয় দফায় অপারেশন করানো হয়। এতে রোগীর তেমন স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই। রোগী শিগগিরই সুস্থ হয়ে যাবেন।
মাদারীপুর জেলা সিভিল সার্জন চিকিৎসক মো. শরীফুল আবেদিন কমল বলেন, পায়ে টিউমার অপারেশন করাতে গিয়ে এমন ঘটনার দায়ভার ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত চিকিৎসক মাহমুদুল হাসান মাসুম ঢাকার একটি হাসপাতালে কর্মরত আছেন। তিনি প্রতি শুক্রবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাদারীপুর শহরের নুর জাহান সেলিম নিরাময় হাসপাতালে রোগী দেখেন।
শনিবার দুপুরে ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে পায়ে ব্যথা নিয়ে মাদারীপুর সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের চর কালিকাপুর গ্রামের আনু বেগম শহরের নুর জাহান সেলিম নিরাময় হাসপাতালের চিকিৎসক মাহমুদুল হাসান মাসুমের কাছে যান। ডাক্তারের দেওয়া ইসিজি, আল্ট্রাসনোগ্রাম, এক্সরেসহ বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা করার পর রোগীকে জানানো হয় পায়ে টিউমার আছে, অপারেশন করতে হবে।
তার পায়ের গোড়ালিতে টিউমার অপারেশন শুরু করেন অভিযুক্ত চিকিৎসক। দেড় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন তিনি। এ সময় পায়ের রগ কেটে ফেলা হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের। রোগীর প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হলে প্রতিষ্ঠানের অন্য আরেকজন চিকিৎসক রুহুল আমিন চয়নের নেতৃত্বে ফের অস্ত্রোপচার চালানো হয়। তিন ঘণ্টা পর রোগীকে দেওয়া হয় বেডে।
ভুক্তভোগী আনু বেগমের ছেলে বাবলু খান বলেন, চিকিৎসকের ভুল অপারেশনে আমার মায়ের এই ঘটনা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। আমি বিচার চাই।
সময়ের আলো/আতা