বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে আমন ও ইরি মৌসুমের ধান চাষের ভরা মৌসুমে খাউলিয়া ইউনিয়নের পথের বাজার এলাকায় চাহিদা অনুযায়ী সার পাচ্ছেন না কৃষকরা। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, বেশি দামেও মিলছে না প্রয়োজনীয় এই কৃষি উপকরণ। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, অবিলম্বে এলাকাভিত্তিক সারের বরাদ্দ বাড়াতে হবে।
শনিবার খাউলিয়া ইউনিয়নের বড় পরী পথের বাজারের বিসিআইসি সারের সাব-ডিলার পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, বস্তা হাতে সারের অপেক্ষায় লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন ১৫-২০ জন কৃষক। কারও কারও আবার ২ থেকে ৩ বস্তা সারের প্রয়োজন।
এ সময় সরকারি নির্ধারিত মূল্য প্রতি বস্তা ১৩৫০ টাকা হলেও সাব-ডিলার দুলাল গাজী ১৪৫০ টাকায় ইউরিয়া সার বিক্রি করছেন। বেশি দামে বিক্রির কারণ হিসেবে ডিলার দাবি করেন, সন্ন্যাসী বাজার থেকে আনতে বস্তাপ্রতি ৫০ টাকা কেরিং (পরিবহন) খরচ পড়ায় কৃষকদের কাছ থেকে ১৪৫০ টাকা রাখা হচ্ছে।
সাব-ডিলার দুলাল গাজী আরও জানান, চার দিন আগে ১০ বস্তা ইউরিয়া পাওয়ার পর শনিবার আরও ১০ বস্তা পেয়েছেন। কিন্তু ১০ বস্তা সার দিয়ে ১৫-২০ জন কৃষকের চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে তার পয়েন্টে ড্যাপ, টিএসপি ও এমওপি সার বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে না। এই মুহূর্তে ধান রোপণের চরম সময়ে কৃষকদের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
বড় পরী গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর মাতুব্বর, সেলিম খলিফা, জালাল আকন, মান্নান মাতুব্বর, লতিফ শেখ, সোহেল হাওলাদার, জিন্নাত আলী খান, কালাম ঘরামী ও আরিফ হাওলাদারসহ ক্ষুব্ধ কৃষকরা বলেন, এখন ধান রোপণের উপযুক্ত সময়। আর ৩-৪ দিনের মধ্যে জমিতে চারা রোপণ করতে হবে। এই সময়ে সারের অভাবে চারা রোপণ করতে না পারলে পরবর্তীতে সার পেয়ে আর কী হবে? এসময় তারা দ্রুত এলাকাভিত্তিক সারের বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানান।
খাউলিয়া ইউনিয়ন বিসিআইসি মূল ডিলার মেসার্স আঁখি ট্রেডার্স-এর স্বত্বাধিকারী রাশিদা খানম জানান, তার ইউনিয়নে ৯টি পয়েন্টে ৯ জন সাব-ডিলার রয়েছেন। বরাদ্দ অনুযায়ী মাসওয়ারি সাব-ডিলারদের মধ্যে সার সমানভাবে বণ্টন করা হয়। গত ৩০ আগস্ট সেপ্টেম্বর মাসের বরাদ্দ হিসেবে ৪০ টন ইউরিয়া (৮০০ বস্তা), ৮ টন টিএসপি (১৬০ বস্তা), ৮.২ টন ড্যাপ (১৬৪ বস্তা) ও ৫.৫ টন এমওপি (১১০ বস্তা) তোলা হয়েছিল। কিন্তু ১৯ তারিখের মধ্যেই সব সার বিক্রি হয়ে গেছে।
তিনি আরও জানান, মাসের বাকি ১১ দিন কৃষকের চাহিদা থাকলেও আর সার দেওয়া সম্ভব নয়। অথচ গত বছর যেখানে বরাদ্দ ছিল ৮০ টন, এবার সেখানে মাত্র ৪০ টন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে গুদাম পুরোপুরি খালি রয়েছে। কৃষকদের চাহিদার বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন বলেন, সার সংকটের বিষয়টি কৃষি কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। শুধু পথেরহাট নয়, বানিয়াখালী সাব-পয়েন্টেও সংকটের কারণে গতকাল বিকল্প ব্যবস্থায় আমি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ৪১ বস্তা ইউরিয়া কৃষকদের মাঝে বণ্টন করেছি।
সার সংকটের বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, সারের সংকট উপজেলার সব এলাকায় নেই। তবে কিছু কিছু পয়েন্টে এলাকাভিত্তিক সাময়িক সংকটের কথা আমরা জেনেছি। বিকল্প উপায়ে এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।
সময়ের আলো/আতা