আশুলিয়ার জামগড়া চৌরাস্তা এলাকায় প্রিটি গ্রুপের কারখানার সামনে বিস্ফোরিত গ্যাস সিলিন্ডারের গায়ে ২০২১ সালের পর ব্যবহার না করার নির্দেশনা পাওয়া গেছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে ওই বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত সাতজন নিহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কারখানার নির্ধারিত পার্কিং এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডারবাহী লরি ও কাভার্ড ভ্যানে আগুন লাগার পর একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় কয়েকটি সিলিন্ডার ও ধাতব অংশ আশপাশের ভবন, দোকান ও রাস্তায় ছিটকে পড়ে। এতে ঘটনাস্থল থেকে দূরের একটি দোকানের সামনে থাকা জয়নব বেগম (৫৫) ও এক সবজি বিক্রেতা নিহত হন।
সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে দেখা যায়, আগুনের স্থান থেকে বেশ দূরের একটি হোটেলের সামনে একটি সিলিন্ডার পড়ে আছে। হোটেল মালিক আব্দুল হালিম বলেন, একটি সিলিন্ডার আমগাছের ডালসহ হোটেলের ওপর আছড়ে পড়ে। এতে তার ছেলে মিজানুর রহমান গুরুতর আহত হন।
হালিম বলেন, ‘গতকাল যেভাবে শব্দ হচ্ছিল, মনে হচ্ছিল যুদ্ধ চলছে।’
হোটেলে পড়ে থাকা সিলিন্ডারটির গায়ে লেখা রয়েছে, ‘ডোন্ট ইউজ আফটার ২০২১’। অর্থাৎ ২০২১ সালের পর সেটি ব্যবহারের কথা নয়। আশুলিয়া সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মহিবুল্লাহ আকনও জানিয়েছেন, সিলিন্ডারটি মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল এবং বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে।
বিস্ফোরণে প্রায় ৩০০ গজ দূরের একটি ভবনের দেয়াল ভেদ করে লোহার অংশ ঢুকে যায়। এতে দেয়ালে ফাটল ও বড় ছিদ্র তৈরি হয়েছে। আশপাশের আরও কয়েকটি ভবন ও দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঘটনার তদন্তে ফায়ার সার্ভিস চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে আগুনের সংস্পর্শ অথবা মেয়াদোত্তীর্ণ গ্যাস সিলিন্ডার থেকে বিস্ফোরণের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন।
বিস্ফোরক অধিদপ্তরের ঢাকা কার্যালয়ের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক মুহাম্মদ মেহেদী ইসলাম খান বলেন, প্রিটি গ্রুপে কাভার্ড ভ্যান বা লরিতে গ্যাস সিলিন্ডার মজুতের প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি অবৈধ।
তিনি বলেন, ‘কাভার্ড ভ্যান কিংবা লরিতে করে গ্যাস সিলিন্ডার পরিবহন করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং দেশের কোনো আইন বা বিধানেই এটি অনুমোদিত নয়।’
ঘটনার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পরও এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছে শিল্পাঞ্চল পুলিশ।
সময়ের আলো/এমকে