টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু নাসেরের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, শিক্ষকদের ওপর চাপ প্রয়োগ, অসদাচরণ এবং একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার বই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্তির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ একটি লিখিত নথিতে তুলে ধরেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকরা।
অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, আবু নাসের কালিহাতী উপজেলার ইছাপুর ক্লাস্টারের দায়িত্বে রয়েছেন। ওই ক্লাস্টারের আওতাধীন বাংড়া ও সহদেবপুর ইউনিয়নের ২৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় তার দায়িত্বাধীন বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষকদের ওপর চাপ প্রয়োগ করতেন আবু নাসের। বিভিন্ন বিদ্যালয়ে তার মাধ্যমে সার্কের পতাকা সরবরাহ করে প্রধান শিক্ষকদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের নামে নগদ অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য তার নিয়ন্ত্রণাধীন ক্লাস্টারের প্রতিটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ১ হাজার টাকা করে আদায় করা হয়েছে। এ অর্থ সংগ্রহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আশা’র সম্পৃক্ততা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
একাধিক প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করেছেন, আবু নাসের জনসম্মুখে শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন এবং চাকরি হারানোর হুমকি দিয়েছেন। অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে তার বিরাগভাজন শিক্ষকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হতো।
এদিকে গত ১৪ সেপ্টেম্বর সহদেবপুর ইউনিয়নের ভুক্তা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশা নামের একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তাদের নিয়ে বই ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণের একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, ওই অনুষ্ঠানে সরকারি নির্ধারিত পাঠ্যপুস্তকের পরিবর্তে আশা এনজিও প্রণীত বিভিন্ন বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এতে সরকারি অনুমোদিত পাঠ্যক্রমের বাইরে বেসরকারি সংস্থার বই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আবু নাসেরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কালিহাতী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কুলসুম সোলায়মান বলেন, ‘কোনো শিক্ষক আবু নাসের সাহেবের নামে তার দপ্তরে কোনো অভিযোগ করেননি।’
অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
সময়ের আলো/টিকে