সুন্নত নামাজে ভুল হলে সাহু সিজদা দিতে হবে কি না, এ বিষয়ে অনেকেরই প্রশ্ন রয়েছে। ইসলামী বিধান অনুযায়ী, নামাজে কোনো ওয়াজিব আমল ভুলে ছুটে গেলে সাহু সিজদা করা ওয়াজিব হয়। এই বিধান ফরজের পাশাপাশি সুন্নত ও নফল নামাজের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
সিজদাতুস সাহু বা সিজদায়ে সাহু অর্থ ভুলের কারণে করা সিজদা। নামাজে ভুলবশত কোনো ওয়াজিব আমল বাদ পড়ে গেলে নামাজের ওই অপূর্ণতা পূরণের জন্য সাহু সিজদা করা হয়।
আবদুল্লাহ ইবনু বুহায়নাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোনো এক নামাজে আল্লাহর রাসুল (সা.) দু্ই রাকাত আদায় করে— না বসে দাঁড়িয়ে গেলেন। মুসল্লিরাও তার সঙ্গে দাঁড়িয়ে গেলেন। যখন তার সালাত সমাপ্ত করার সময় হলো এবং আমরা তার সালাম ফেরানোর অপেক্ষায় ছিলাম, তখন তিনি সালাম ফেরানোর আগে তাকবির বলে বসে বসেই দুইটি সিজদা করলেন। অতঃপর সালাম ফেরালেন। (বুখারি, হাদিস : ৮২৯)
অন্য বর্ণনায় আবদুল্লাহ ইবনু বুহায়নাহ (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) জোহরের দু্ই রাকাত আদায় করে দাঁড়িয়ে গেলেন। দু্ই রাকাতের পর তিনি বসলেন না। সালাত শেষ হয়ে গেলে তিনি দুইটি সিজদা করলেন এবং অতঃপর সালাম ফেরালেন। (বুখারি, হাদিস : ১১৫২)
তবে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ওয়াজিব আমল ছেড়ে দেওয়া হলে বিষয়টি ভিন্ন। ইচ্ছা করে ওয়াজিব ছেড়ে দিলে গুনাহ হয় এবং শুধু সাহু সিজদা দিয়ে সেই নামাজের ত্রুটি পূরণ হয় না। সে ক্ষেত্রে নামাজ পুনরায় আদায় করতে হয়।
সাহু সিজদা ওয়াজিব হলে শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ পড়ার পর ডান দিকে এক সালাম ফিরিয়ে তাকবির দিয়ে দুইটি সিজদা করতে হয়। এরপর বসে তাশাহহুদ, দরুদ ও দোয়ায়ে মাসুরা পড়ে সালাম ফেরাতে হয়। সালামের আগে সাহু সিজদা করলেও নামাজ আদায় হয়ে যায়, তবে তা মাকরুহে তানজিহি। (বুখারি, হাদিস : ১১৫০)
অর্থাৎ, ফরজ নামাজের মতো সুন্নত ও নফল নামাজেও ভুলবশত কোনো ওয়াজিব ছুটে গেলে সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে।
সময়ের আলো/এমকে