দেশব্যাপী বিপুল চাহিদা রয়েছে বরিশাল অঞ্চলের পেয়ারার। সুস্বাদু এই ফলের চাহিদার বেশিরভাগই পূরণ হচ্ছে ঝালকাঠি থেকে। প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন হাটে পেয়ারার কেনাবেচা হয়েছে। এর মধ্যে ভিমরুলী গ্রামের ভাসমান হাটটি সবচেয়ে বড়। এ হাট থেকে ঢাকাসহ সারা দেশে সরবরাহ করা হয় পুষ্টিকর এ ফল। তবে, পেয়ারা চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন ঝালকাঠির চাষিরা। বিপুল চাহিদা থাকার পরেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় এবং লাভজনক না হওয়ায় জেলায় প্রতি বছরই কমছে পেয়ারার আবাদ। মৌসুম শেষে আয়-ব্যয় হিসাব করে লাভজনক না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন তারা। এ কারণে পেয়ারা চাষের জমিও ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে।
অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর পেয়ারার ফলন কম হয়েছে। ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ঝালকাঠি জেলার চার উপজেলার ৫৫৪ হেক্টর জমিতে পেয়ারার চাষ হয়েছে। ৫৬২৩ মেট্রিক টন পেয়ারা উৎপাদন হয়েছে। যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫৬২ হেক্টর জমিতে পেয়ারার আবাদ করা হয়েছিল। ওই সময়ে উৎপাদন হয়েছিল ৬০৪২ মেট্রিক টন। দুই বছরের ব্যবধানে পেয়ারার আবাদ কমেছে ৮ হেক্টর জমিতে।
দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকাররা ভিমরুলীর ভাসমান হাট থেকে পেয়ারা কিনছেন ৮শ থেকে এক হাজার টাকা মণ দরে। পেয়ারা চাষি ও পাইকারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পেয়ারা আকার ও কালারভেদে দর নির্ণয় করা হয়। এ জন্য ৮শ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত দামে প্রতি মণ পেয়ারা ক্রয়-বিক্রয় হয়েছে।
চাষি সুজন হালদার শানু জানান, আমড়া গাছে প্রতিবছর শীত মৌসুমে পরিচর্যা, সার-কীটনাশক প্রয়োগ, পেয়ারা সংগ্রহ, বাজারজাতকরণে যে পরিমাণ খরচ হয় তাতে বিক্রির অর্থ দিয়ে পোষানো যায় না।
তিনি বলেন, মৌসুমে প্রতিদিনই পেয়ারা সংগ্রহ করতে হয়। একজন শ্রমিককে দিতে ৮শ টাকা। কিন্তু পেয়ারা বিক্রি করা যায় এক থেকে দেড় হাজার টাকার। অনেক সময় এর চেয়েও কম দামে বিক্রি করতে হয়। এরচেয়ে আমড়া বা অন্যান্য ফসল চাষ করলে তাতে লাভ বেশি হয়।
কীর্তিপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও কৃষক ভবেন্দ্রনাথ হালদার জানান, পেয়ারা চাষে এখন আর লাভ নেই। এ বছর অনাবৃষ্টির কারণে পেয়ারার ফলন ভালো হয়নি। যা হয়েছে তাতে আবার এনথ্রাক্স (কালো ছিট পড়া) রোগ দেখা দিয়েছে। পেয়ারা পাকতে শুরু করলে প্রতিদিনই গাছ থেকে পেড়ে (সংগ্রহ করে) বাজারে আনতে হয়। একজন শ্রমিককে খরচ সাতশ টাকা দিতে হয়, কিন্তু পেয়ারা বিক্রি হয় চারশো টাকার।
স্বরূপকাঠির পাইকার নোমান বলেন, এবছর ফলন তেমন ভালো হয়নি। আমরা এখানে চাষিদের থেকে পেয়ারা কিনে ঢাকায় চালান করেছি। প্রতি মণ পেয়ারা আকার ও কালার ভেদে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায় ক্রয় করি। প্রতিমণ পেয়ারায় ২০০ টাকা লাভ থাকে। এর মধ্যে আমাদের শ্রমিক, পরিবহন, খাবার খরচ শেষে ১০০ টাকা লাভ হয়।
ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সহায়তায় বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে এবং রোগবালাই ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিবছর তুলনামূলকভাবে পেয়ারার চাষ হ্রাস পাচ্ছে। এ বছর পেয়ারার চাষ কম হওয়ায় চাষিরা তাদের কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় হতাশাগ্রস্ত হয়েছে। আমরা তাদের উদ্বুদ্ধ করতে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।
সময়ের আলো/আতা