চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় চুয়েটের অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো ক্যাম্পাসে চলছে আন্দোলন। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) শিক্ষার্থীরা গণস্বাক্ষর কর্মসূচির আয়োজন করেছেন। সকাল ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি শুরু হয়। তারা সারিবদ্ধ ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মসূচিতে অংশ নেন। এসময় তারা শিক্ষার্থী আইডি ও স্বাক্ষর প্রদান করেন।
শিক্ষার্থীদের দেওয়া মঙ্গলবারের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের প্রজ্ঞাপন থেকে তারা জানতে পারেন, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য করা হয়েছে। একই প্রজ্ঞাপনে ২৭ জুলাই দায়িত্ব নেওয়া অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের কথাও জানানো হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রজ্ঞাপনে উপাচার্য পরিবর্তনের কোনো কারণ জানানো হয়নি। তাদের দাবি, দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই অধ্যাপক সায়েম শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, তাদের সমস্যার কথা শোনা এবং একাডেমিক ও প্রশাসনিক বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জন করেছিলেন।
অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তারা সর্বাত্মক শাটডাউন ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে।
সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ক্যাম্পাসের স্বাধীনতা চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি বিভিন্ন একাডেমিক ভবন, আবাসিক হল ও শিক্ষক আবাসিক এলাকা ঘুরে রাত ১১টার দিকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন হল থেকে নারী শিক্ষার্থীরাও এতে যোগ দেন। পরে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা। সেখানে সাদা কাগজে লেখা ছিল, ‘এই তালা শুধুমাত্র সায়েম স্যার খুলতে পারবে।’
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে আবারও বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় ‘দাবি মোদের একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’, ‘ভিসির চেয়ার কারে চাই, সায়েম স্যারকেই আবার চাই’ এবং ‘ভিসি স্যার, ভিসি স্যার; সায়েম স্যার, সায়েম স্যার’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা।
এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে চুয়েটের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীরা ক্লাসে উপস্থিত না হওয়ায় কোনো একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।
সময়ের আলো/এনএন