সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি, ব্লাকমেইল এবং জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণ চেষ্টার মামলায় ৩ বিকাশ কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে ভুক্তভোগী ঐ শিক্ষার্থী শাহজাদপুর বিকাশ সার্ভিস পয়েন্টের ৩ কর্মচারীর নাম উল্লেখ করে শাহজাদপুর থানায় মামলা দায়ের করলে আসামিদের গ্রেফতার করে পুলিশ।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন, শাহজাদপুর উপজেলার ডাকবাংলাপাড়া এলাকার মৃত আব্দুস সামাদের পুত্র ও শাহজাদপুর বিকাশ সার্ভিস পয়েন্টের আইটি বিশেষজ্ঞ তারেক রাব্বি (৩৬), বাজিয়ার পাড়া গ্রামের মৃত আজিম উদ্দিনের পুত্র ও বিকাশ সার্ভিস পয়েন্টের প্রহরী মো. হোসেন আলী (৪৮) এবং বেড়াকুচাটিয়া গ্রামের মো. সাইদুল ইসলামের ছেলে বিকাশ কর্মী চয়ন ইসলাম (২৭)।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ৩য় বর্ষের ভুক্তভোগী ঐ শিক্ষার্থী শাহজাদপুর থানাধীন ডাকবাংলাপাড়ার পশ্চিম পাশে একটি বাসার ৩য় তলায় মেস হিসেবে ভাড়া থাকেন। গত ২১ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯ টার দিকে তার এক বন্ধু ব্যক্তিগত প্রয়োজনে মেসে আসেন এবং কিছু সময় অবস্থান করে চলে যান। শিক্ষার্থীর রুমের পাশেই থাকা শাহজাদপুর বিকাশ সার্ভিস পয়েন্টের সিসি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণে যুক্ত ব্যক্তিরা ঘটনাটি লক্ষ্য করেন। ২৩ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০ টায় বিকাশ অফিসের লোকজন ভিকটিমকে ডেকে নিয়ে উক্ত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখিয়ে ৩০ হাজার টাকা দাবি করে। বিকেলের মধ্যে টাকা না দিলে ফুটেজ ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি (ব্লাকমেইল) দেওয়া হয়।
একই দিন রাত সাড়ে ৮ টার দিকে অভিযুক্তরা ডাকবাংলাপাড়ার বিপ্লব কুমার সরকারের ৪ তলা বিল্ডিংয়ের বিকাশ অফিসে ভিকটিমকে পুনরায় ডেকে নেয়। সেখানে টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় তার কাছ থেকে সোনার চেইন দাবি করা হয়। একপর্যায়ে অন্য আসামিদের বাইরে পাঠিয়ে দিয়ে মো. তারেক রাব্বি ভিকটিমকে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টা চালান। ভিকটিম নিজেকে ছাড়িয়ে বের হতে গেলে বিকাশ সার্ভিস পয়েন্টের প্রহরী মো. সামাদ শ্লীলতাহানি করে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী তার বাড়িতে ফোন করার চেষ্টা করলে তার হাত থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। সিঁড়ি দিয়ে নেমে পালিয়ে আসার সময়ও আসামিরা তার ওপর নির্যাতন ও শ্লীলতাহানি চালায়।
ভুক্তভোগী ঐ শিক্ষার্থী চিৎকার করতে করতে রাস্তায় নেমে আসলে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন এবং ঘটনাটি শোনেন। পরবর্তীতে ভিকটিম তার অভিভাবক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাথে পরামর্শ করে শাহজাদপুর থানায় এসে মামলা দায়ের করেন।
শাহজাদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নাজমুল কাদের জানান, মামলার রাতেই আসামিদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হই। বৃহস্পতিবার সকালে আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
সময়ের আলো/এনএন