প্রকাশ: রোববার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম
বায়জিদ মিঠুকে সংগঠনের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ছবি : সংগৃহীতবরিশালের উজিরপুরে নারীদের অজান্তে গোপনে আপত্তিকর ভিডিও ধারণের অভিযোগে বায়জিদ মিঠু নামে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয়রা। এ সময় তাকে গণপিটুনি দেওয়া হয়। পরে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করেছে স্বেচ্ছাসেবক দল।
রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে শনিবার রাত ১০টার দিকে উজিরপুর পৌর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বায়জিদ মিঠু উজিরপুর পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বাসাবাড়ির জানালা ও বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে নারীদের গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগ রয়েছে। এসব ভিডিও দিয়ে নারীদের ব্ল্যাকমেইল ও অনৈতিক কাজে বাধ্য করার চেষ্টার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার রাতে পৌর এলাকার এক প্রতিবেশী নারী বাথরুমে গেলে ভেন্টিলেটরের ফাঁক দিয়ে মুঠোফোনে তার গোপন ভিডিও ধারণের চেষ্টা করেন বায়জিদ। বিষয়টি ওই নারীর নজরে এলে তিনি চিৎকার করেন। পরে স্থানীয়রা ছুটে এসে বায়জিদকে আটক করেন। এ সময় তার মুঠোফোনে একাধিক নারীর গোপন ভিডিও দেখতে পান তারা। পরে উত্তেজিত লোকজন তাকে মারধর করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, এক গৃহবধূর বাথরুমে গোপনে ভিডিও ধারণের চেষ্টা করতে গিয়ে বায়জিদ স্থানীয়দের হাতে আটক হন।
খবর পেয়ে উজিরপুর মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ জানায়, বায়জিদের মুঠোফোনের দুটি গ্যালারিতে অসংখ্য পর্নোগ্রাফি ভিডিও পাওয়া গেছে।
উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছে। রোববার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, একই দিন বরিশাল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বায়জিদ মিঠুকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে তাকে সংগঠনের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম জনি ও সদস্যসচিব মো. কামরুল আহসান বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন সংগঠনটির দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম খান বাপ্পি।
সময়ের আলো/এনএন