প্রকাশ: রোববার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:০০ পিএম
সুন্দরবন। ছবি : সংগৃহীতসুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ থেকে মাথাপিছু এক লাখ টাকা করে মুক্তিপণের দাবিতে ১০ জেলেকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের আমির আলী ও দাতিনাখালী গ্রামের আলম সানার নেতৃত্বাধীন দুটি বনদস্যূ বাহিনীর পরিচয়ে তাদের অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজন ও ফিরে আসা জেলেরা।
অপহৃত জেলেরা হলেন শ্যামনগর উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের রুবেল, ইমরান ও খোরশেদ, ছোটভেটখালী গ্রামের নুরুজ্জামান, কালিঞ্চি গ্রামের সিদ্দিক গাজী ও জহুর আলী, সিংহড়তলী গ্রামের সুরাত আলী এবং কয়রা উপজেলার মোমিন মোড়ল, দিদারুল ও ইমরান।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত সুন্দরবনের নোটাবেঁকী, আগুনজ্বালা, জলঢাকা, চালতেবেড়ে ও রায়মঙ্গল নদী এলাকা থেকে এসব জেলেকে অপহরণ করা হয় বলে জানা গেছে।
জেলেদের স্বজন ও অপহরণকারীদের কবল থেকে ফিরে আসা কয়েকজন জেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতিটি নৌকায় তিনজন করে জেলে ছিলেন। সেখান থেকে একজন করে জেলেকে তুলে নেওয়া হয়। নুরুজ্জামান, দিদারুল ও ইমরানসহ নয়জনের মুক্তির জন্য মাথাপিছু এক লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে। নৌকা নিয়ে বনের ভেতরে একা থাকা সুরাত আলীর জন্য তুলনামূলক কম মুক্তিপণ দাবি করা হলেও টাকার পরিমাণ জানা যায়নি।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক শাহিনুর ইসলাম জানান, কয়েকজন জেলেকে অপহরণের বিষয়টি জেলেদের মাধ্যমে তারা জানতে পেরেছেন। বন বিভাগের টহল দল সুন্দরবনের ভেতরে অভিযান চালাচ্ছে। তবে বিশাল বনাঞ্চলে জলদস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা বন বিভাগের একার পক্ষে কঠিন।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাফিউল ইসলাম জানান, জলদস্যুদের হাতে জিম্মি হলে সাধারণত জেলেদের পরিবার গোপনে তাদের সঙ্গে সমঝোতা করে। এ কারণে মুক্তি পেয়ে ফিরে আসা জেলেরা অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিতে চান না। তবে মুক্তিপণের টাকা আদায়ে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের মালিককে শনাক্ত করে জড়িতদের আটকের চেষ্টা করছে পুলিশ।
সময়ের আলো/এনএন