প্রকাশ: রোববার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:১৪ পিএম
সংগৃহীত ছবিসাভারে পোশাক কারখানা খোলার পর আবার ২০টিতে ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে টানা কয়েক দিনের অসন্তোষের পর রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে নির্ধারিত সময়ে কারখানায় হাজির হন শ্রমিকরা। সাভার ও আশুলিয়ার অধিকাংশ কারখানায় কাজ শুরু হয়। তবে কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রাখায় সেগুলোতে ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। পরে আরও কয়েকটি কারখানাতেও ছুটি ঘোষণা করা হয়।
এদিকে কিছু শ্রমিক সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আবদুল্লাহপুর থেকে বাইপাইল সড়কে অবস্থান নেন। পরে পুলিশ তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।
আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, সাভার ও আশুলিয়ায় কারখানাগুলোয় শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করেছেন। কোথাও কোনো বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেনি। তবে শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে বসে থাকায় কয়েকটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি আরও কয়েকটি কারখানাতেও ছুটি দেওয়া হয়েছে। মোট ২০টি কারখানা ইতিমধ্যে ছুটি দিয়েছে। আরও চারটি কারখানার শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে বসে আছেন। কিছু শ্রমিক সড়কে অবস্থান নিলে তাদের বুঝিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, সাভারের শিল্পাঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সব শ্রমিক কাজে ফিরেছেন। আগামী ১০ তারিখ পর্যন্ত সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যেই কারখানাগুলোকে বেতন পরিশোধ করতে হবে। দেরি হলে আবার আন্দোলনের সূচনা ঘটতে পারে। বিষয়টি নিয়ে আমরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। কারখানার মালিকদের সময়মতো বেতন পরিশোধের জন্য বলা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ১১ প্লাটুন বিজিবি ও ৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্য সদস্যও দায়িত্ব পালন করছেন।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন বলেন, বেশ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা জানিয়েছেন, তারা কাজ করছেন। কিছু কারখানায় শ্রমিকরা কাজ না করে বসে থাকায় ছুটি দেওয়া হয়েছে। তবে সার্বিক পরিস্থিতি ভালো। খায়রুল মামুন আরও বলেন, গত কয়েক দিন শ্রমিকদের যৌক্তিক আন্দোলনের সুযোগ নিয়েছিল দুষ্কৃতকারীরা। তারা কারখানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। এই সুযোগ তারা যাতে আর না নিতে পারে সে জন্য ১০ তারিখের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধে এখন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। না হলে দুষ্কৃতকারীরা এটিকে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির কাজে ব্যবহার করতে পারে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এনএন