ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। এই সময়ের মধ্যে তিনি পদত্যাগ না করলে দেশজুড়ে আন্দোলন এবং দিল্লিতে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি শুরুর হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির জাতীয় আহ্বায়ক অভিজিৎ দিপকে ও সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস ও অশুতোষ রাঙ্কা এ দাবি জানান। ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন কার্যক্রম নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভেতরে মতপার্থক্য সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনের পর তারা এ অবস্থান নেন।
দিপকে অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটির বেশি নাম বাদ পড়েছে। তবে এই সংখ্যাটি সিজেপির দাবি।
সংগঠনটির অভিযোগ, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। দিপকে জ্ঞানেশ কুমারকে ভারতের গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে ভোটাধিকার সীমিত করা হচ্ছে।
সিজেপির অভিযোগের পেছনে ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি প্রতিবেদনকেও উল্লেখ করা হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশি ভোটার নিবন্ধন, নাম বাদ দেওয়া, নাম পুনর্বহাল এবং ভোটার তালিকার তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন।
তবে নির্বাচন কমিশন এসব আপত্তিকে অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে। কমিশনের ভাষ্য, বিভিন্ন মতামত ও পর্যবেক্ষণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আলোচনার অংশ এবং গত এক বছরে কমিশনের সব চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবে নেওয়া হয়েছে।
সিজেপি তিনটি প্রধান দাবি জানিয়েছে। প্রথমত, জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করে তার বিরুদ্ধে তদন্তের মুখোমুখি হতে হবে। দ্বিতীয়ত, ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রমে নাম বাদ দেওয়া স্থগিত করে ২০২৫ সালের জানুয়ারির ভোটার তালিকা পুনর্বহাল করতে হবে এবং পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে স্বাধীন তদন্ত করতে হবে। তৃতীয়ত, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগসংক্রান্ত ২০২৩ সালের আইন বাতিল করে নতুন আইন প্রণয়ন করতে হবে।
এ ছাড়া সিজেপি নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশ্যে আনারও দাবি জানিয়েছে, যাতে ভোটার তালিকা সংশোধনের সিদ্ধান্তগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়।
দিপকে বলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ না করলে দেশজুড়ে আন্দোলন শুরু করা হবে। এরপর দিল্লিতে বড় ধরনের অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে বলেও জানান তিনি। সংগঠনটি একই সঙ্গে ‘নির্বাচন কমিশন ঠিক করো’ নামে দেশব্যাপী প্রচারণা শুরুর ঘোষণা দিয়েছে।
এদিকে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধনসহ তাদের সব সিদ্ধান্ত আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনেই নেওয়া হয়েছে। কমিশনের দাবি, গত এক বছরে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো পূর্ণ কমিশনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ফল।
সময়ের আলো/ জেডি