বিশ্বজুড়ে জ্ঞানের আলো ছড়ানো ইসলামি লাইব্রেরি

আবিদ রাইহান

ইসলাম

‘পড়ো’ এই ঐশী নির্দেশনার হাত ধরে সূচিত হয়েছিল মুসলিম সভ্যতার জ্ঞানচর্চার সুবর্ণ অধ্যায়। সুদূর অতীত থেকে বর্তমানকাল পর্যন্ত মানবজাতিকে আলোকিত

2026-09-25T12:33:49+00:00
2026-09-25T12:33:49+00:00
 
  শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১০ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইসলাম
বিশ্বজুড়ে জ্ঞানের আলো ছড়ানো ইসলামি লাইব্রেরি
আবিদ রাইহান
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
‘পড়ো’ এই ঐশী নির্দেশনার হাত ধরে সূচিত হয়েছিল মুসলিম সভ্যতার জ্ঞানচর্চার সুবর্ণ অধ্যায়। সুদূর অতীত থেকে বর্তমানকাল পর্যন্ত মানবজাতিকে আলোকিত করতে বিশ্বজুড়ে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অমূল্য গ্রন্থাগার ও জ্ঞানভান্ডার। সময়ের বিবর্তনে প্রাচীন ও আধুনিকতার মেলবন্ধনে তৈরি হওয়া এসব লাইব্রেরি কেবল বইয়ের সংগ্রহশালা নয়, বরং মুসলিম মনীষা ও ঐতিহ্যের জীবন্ত দলিল। ইতিহাসের নানা পালাবদল পেরিয়ে টিকে থাকা বর্তমান বিশ্বের তেমনি কয়েকটি আলোকোজ্জ্বল লাইব্রেরির অন্দরমহল ঘুরে দেখিয়েছেন আবিদ রাইহান


মক্কা লাইব্রেরি (সৌদি আরব)

ইসলাম ধর্মের প্রাণকেন্দ্র পবিত্র মক্কা নগরী। এ নগরীতেই অবতীর্ণ হয়েছিল পবিত্র কুরআনের প্রথম নির্দেশনা— ‘ইকরা’, অর্থাৎ পড়ো। সে ধারাবাহিকতায় সেখানে হাজার বছর ধরে জ্বলছে জ্ঞানের আলো। গড়ে উঠেছে ছোট-বড় অসংখ্যা লাইব্রেরি। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি লাইব্রেরি হচ্ছে মক্কা লাইব্রেরি। সাফা ও মারওয়া থেকে পূর্বদিকে  অবস্থিত পাহাড়ের পাদদেশে হলুদ বর্ণের একটি দ্বিতল ভবনে এই লাইব্রেরি। ঐতিহাসিকদের মতে এখানেই জন্মেছিলেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। ১৬০ হিজরিতে আব্বাসীয় খলিফা মাহদির শাসনামলে ভবনটির আমূল সংস্কার হয়। ১৩৫৭ হিজরিতে বাদশা আবদুল আজিজের শাসনামলে প্রথম এর নামকরণ করা হয় ‘মাকতাবাতুল হারাম আল-মাক্কি’। 

প্রথমে এটি হারাম শরিফের একটি গম্বুজের অংশবিশেষ থাকলেও পরবর্তীতে গ্রন্থাগারটি হারাম শরিফের বাইরে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে এর সংগ্রহে আছে পাঁচ লক্ষাধিক বই। এর মধ্যে ৮ হাজারের অধিক মুদ্রিত-অমুদ্রিত পাণ্ডুলিপি রয়েছে। দুর্লভ পাণ্ডুলিপি আছে প্রায় ৫ হাজারের মতো। বিখ্যাত মুসলিম মনীষী ইবনে নাদিমের (মৃত্যু ৪৩৮ হি.) ‘আল-ফিহরিস্ত’, আল্লামা হায়সামির ‘মাজমাউল বাহরাইন’ গ্রন্থের পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি এখনও এখানে সংরক্ষিত আছে। মক্কা লাইব্রেরির বেশ কয়েকটি বিভাগ রয়েছে। লাইব্রেরির বিশাল হলরুমে রয়েছে এক লাখেরও বেশি সংকলন। এর পরিসেবা বিভাগটি সাধারণ পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত। 

বলা যায় এটি একটি পাবলিক লাইব্রেরি। যেকোনো আগ্রহী পাঠক এখানকার মনোরম পরিবেশে এসে অধ্যয়ন করতে পারেন। লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি বিভাগ নির্ধারিত করা হয়েছে গবেষক ও বিশ্লেষকদের জন্য। গবেষণার জন্য এখানে আছে প্রায় ৬৮৪৭টি মূল পাণ্ডুলিপি। সেই সঙ্গে ৩৫৮টি অনারবি এবং ২৩১৪টি ফটো পাণ্ডুলিপিও রয়েছে। এ ছাড়া এখানে রয়েছে প্রশিক্ষণ বিভাগ, ইলেকট্রনিক লাইব্রেরি বিভাগ, মাইক্রোফিল্ম বিভাগ, ফটো মাইক্রোফিল্ম বিভাগ, হারামাইন স্টল, নারী বিভাগসহ আরও অনেক সুবিধা।

মদিনা লাইব্রেরি (সৌদি আরব)

পবিত্র মক্কা নগরীর পরেই পবিত্র মদিনা নগরীর মর্যাদা। এ শহরেই ঘুমিয়ে আছেন প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। মদিনায় হিজরতের সূচনা হয়েছিল একজন ‘কুরআনের শিক্ষকের’ হিজরতের মাধ্যমে। সে শহরেই দাঁড়িয়ে আছে ‘মদিনা মুনাওয়ারা লাইব্রেরি’। মুসলিম খলিফাদের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠে এ লাইব্রেরি। ৮৮৬ হিজরির ১৩ রমজান মদিনায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সেসময় লাইব্রেরির অধিকাংশ বই পুড়ে যায়। 
তদানীন্তন সময়ে মাকতাবা বা লাইব্রেরি বোঝানোর জন্য ‘খিজানাতুল কুতুব’ পরিভাষাটি ব্যবহার করা হতো। ১৩৫২ হিজরিতে ধর্ম ও ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ওবায়েদ মাদানির পরামর্শে এই লাইব্রেরি ‘মাকাতাবাতু মাসজিদিন নাবাবি’ নাম ধারণ করে। সময়ের পরিবর্তনে লাইব্রেরির অবস্থানেও এসেছে অনেক পরিবর্তন। সবশেষে মসজিদে নববীর পশ্চিম দিকের ১২ নং গেট-সংলগ্ন ছাদে লাইব্রেরিটি স্থানান্তর করা হয়। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি আর মনোরম পরিবেশে সাজানো হয়েছে লাইব্রেরিটিকে। 

মসজিদের ছাদের ওপর রয়েছে অধ্যয়ন কক্ষ। এতে আছে ৩৫৮টি সেলফ, লাখখানেক বই এবং গবেষকদের জন্য তিনশ চেয়ার। এতে আরও আছে ওয়ার্ল্ড নেটওয়ার্কের সাহায্যে কম্পিউটারে অধ্যয়নের সুব্যবস্থা। পাণ্ডুলিপিসহ অসংখ্য গ্রন্থের বিপুল সমাহার। আছে শ্রুতি লাইব্রেরি। তেলাওয়াত ও হারামাইনের খুতবা, অসংখ্য আলোচনা, দরস-নসিহত সবই শোনা যায় এর সাহায্যে। এ ছাড়া আরও অনেক বিভাগ আছে এর। আছে নির্দিষ্ট অধ্যয়ন কক্ষ, সাময়িকী বিভাগ, দুর্লভ গ্রন্থ বিভাগ, নারীদের অধ্যয়ন কক্ষ ও বিশেষ সংগ্রহ বিভাগ রয়েছে। এখান থেকে বাঁধাই প্রকল্প, কিতাব ও পাণ্ডুলিপি মেরামত ও সংরক্ষণ, হস্ত ও মেশিনে কিতাব লিখন করা যায়। মদিনার বুকে ‘মদিনা মুনাওয়ারা লাইব্রেরি’ তাই ইসলামের অন্যতম স্মারক হয়ে আজও বিরাজ করছে।

মাকতাবাতু কারাউইন (মরক্কো)

আফ্রিকার মরক্কোতে অবস্থিত বিশ্বের প্রাচীনতম এই লাইব্রেরি। অসংখ্য মূল্যবান পাণ্ডুলিপির সমাহার ঘটেছে এখানে। বর্তমানে এই লাইব্রেরিতে যেসব মূল্যবান পাণ্ডুলিপি রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো হরিণের চামড়ার ওপর ইমাম মালেক (রহ.)-এর হাতে লিখা মুয়াত্তার পাণ্ডুলিপি, ১৬০২ সালে সুলতান আহমাদ আল মনসুরের দেওয়া কুরআনের কপি, সিরাতে ইবনে ইসহাক, ইবনে খালদুনের বই ‘আল-ইবার’-এর মূল কপিসহ আরও অনেক কিছু। ৮৫৯ সালে আরবের ধনী নারী ফাতেমা আল ফিহরির ব্যক্তিগত উদ্যোগে ফেজ নগরীর কারাউইন নামে একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়। সে বছরই মসজিদের আঙিনায় তিনি গড়ে তোলেন আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে আল-কারউইন বিশ্ববিদ্যালয় ও পাঠাগার। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৩৫৯ সাল পর্যন্ত একটানা চালু ছিল পাঠাগারটি। 

তবে বিভিন্ন সময়ের যুদ্ধে উপনিবেশবাদীদের দখল-বেদখলের ঘটনায় ফেজ শহর আঘাতপ্রাপ্ত হলেও আল-কারাউইন মোটামুটি অক্ষতই ছিল। কখনো কখনো বন্ধ থেকেছে বিশাল এ জ্ঞানের ভান্ডার। কয়েক প্রজন্ম ধরে পাঠাগারের রক্ষীরা এসব মূল্যবান তথ্য-উপাত্ত রেখেছেন তালাবদ্ধ। কিন্তু বৃষ্টির পানি গড়িয়ে পাঠাগারে প্রবেশ করে নানা রকম ক্ষতি সাধিত হয়েছে। একটা সময় হঠাৎ করে আল-কারাউইনের পাটাতনের নিচ দিয়ে ধীরে ধীরে পানির স্রোত বইতে শুরু করে। ১৯১৩-৫৬ সাল পর্যন্ত ঔপনিবেশিক আমলে ফ্রান্স পৃথিবীর প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়টিকে আরেকবার ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড় করায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা ও সনদ বিতরণ বন্ধ করে দেয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সব রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে। 

১৯৫৬ সালে মরক্কো স্বাধীনতা লাভ করার পর কারাউইন বিশ্ববিদ্যালয়কে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেন বাদশা মুহাম্মদ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত, পদার্থ, রসায়নসহ বিভিন্ন বিজ্ঞান বিভাগ ও আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট গড়ে তোলেন। ১৯৫৭ সালে খোলা হয় নারী শিক্ষার্থী বিভাগ। ১৯৬৩ সালে কারাউইন বিশ্ববিদ্যালয়কে মরক্কোর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সম্প্রতি আল-কারাউইন পাঠাগারকে বাঁচাতে নতুন পদক্ষেপ নেয় মরক্কোর সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। পাঠাগারটিকে পুনরায় চালু করার জন্য তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে তারা নিয়োগ দেয় আজিজা চাউনি এবং তার স্থাপত্য দলকে। প্রকৌশলীরা ভবনের ভিত্তি পুনরায় স্থাপন করেছেন, সেখানে নতুন করে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা চালু করেছেন এবং ভবনের সবুজ রঙের ছাদের প্রতিটি টাইলস আগের মতো দৃষ্টিনন্দন রূপে তৈরি করেছেন।

তেহরান বুক গার্ডেন (ইরান)

বিশ্বের নামিদামি সব লাইব্রেরিকে পেছনে ফেলে মোট এক লাখ ১০ হাজার বর্গমিটারের বিশাল জায়গা নিয়ে ইরানের রাজধানী তেহরানে নির্মিত হয়েছে তেহরান বুক গার্ডেন। এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় লাইব্রেরি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তেহরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আব্বাসাবাদ হিলসে নির্মিত এই লাইব্রেরিটিতে বইয়ের দৃষ্টি আকর্ষক প্রদর্শনীর সঙ্গে রয়েছে একটি আর্ট গ্যালারি এবং ১০টির মতো থিয়েটার ও অ্যাম্ফিথিয়েটার। এখানে শিশুদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে একটি বিশেষ সেকশন। যেখানে থাকবে তাদের পাঠোপযোগী বই। 

নিউজ উইকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু শিশুদের জন্যই রয়েছে চার লাখ বইয়ের বিশাল সংগ্রহ। এই লাইব্রেরিতে আরও রয়েছে মুভি থিয়েটার, সায়েন্স হল, ক্লাসরুম, একটি রেস্টুরেন্ট এবং একটি প্রার্থনাঘর। আর মনোরম পরিবেশে পড়ার জন্য লাইব্রেরির ছাদে রয়েছে সবুজ পার্ক। ২০১৭ সালের জুলাইয়ে উদ্বোধনের সময় তেহরানের মেয়র মোহাম্মদ বাকার কালিবাফ বলেছিলেন, এটি আমাদের দেশের জন্য একটি বড় সাংস্কৃতিক আয়োজন। এই সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক সুযোগ গ্রহণ করে শিশুরা যথাযথভাবে বেড়ে উঠবে। তেহরান বুক গার্ডেন প্রতিষ্ঠার প্রথম প্রস্তাব এসেছিল ২০০৪ সালে। 

তেহরান আন্তর্জাতিক বইমেলার আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার কারণে এই প্রস্তাবটি এসেছিল। বিভিন্ন বই বাজেয়াপ্ত ও নিষিদ্ধ করা নিয়ে ইরানকে আগে সমালোনার শিকার হতে হয়েছে। সম্প্রতি ইরানের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আসছে বলে মনে করা হচ্ছে। গিনেজ বিশ্ব রেকর্ড অনুযায়ী, ১৯৯৯ সালের পর থেকে বিশ্বের সব থেকে বড় লাইব্রেরি হচ্ছে নিউইয়র্ক শহরের ফিফথ অ্যাভিনিউয়ের বার্নেস অ্যান্ড নোবেল। এটি প্রায় এক লাখ ৫৪ হাজার স্কয়ার ফিট জায়গা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত। যেখানে ১২ মাইল দীর্ঘ জায়গাজুড়ে বই রাখার জন্য ব্যবহৃত সেলফ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই লাইব্রেরি থেকে তেহরান বুক গার্ডেন প্রায় তিনগুণ বড়।

আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরি (মিসর)

আলেকজান্দ্রিয়ার রাজ-গ্রন্থাগার প্রাচীন বিশ্বের বৃহত্তম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থাগারগুলোর একটি। এটি মিসরের আলেকজান্দ্রিয়া শহরে অবস্থিত। টলেমি প্রথম সোটারের (৩২৩-২৮৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) অথবা তার পুত্র টলেমি দ্বিতীয় ফিলাডেলফাসের (২৮৩-২৪৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) রাজত্বকালে এই গ্রন্থাগার পরিকল্পিত ও স্থাপিত হয়েছিল। আগুনে পুড়ে একসময় পুরো পাঠাগারটি ধ্বংস হয়ে যায়। ধারণা করা হয়, ৪৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দে জুলিয়াস সিজারের মিসর আক্রমণের সময়, ২৭০ খ্রিস্টাব্দে আরেলিয়ান আক্রমণের সময়, ৩৯১ খ্রিস্টাব্দে কপটিক পোপ থেওফিলাসের নির্দেশে এবং ৬৪২ খ্রিস্টাব্দে মিসরে মুসলমান আক্রমণের সময় সংঘটিত পৃথক পৃথক অগ্নিকাণ্ডে আলেকজান্দ্রিয়ার গ্রন্থাগার সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। এরপর ১৯৭৪ সালে আলেকজান্দ্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তে আবারও আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরপর ইউনেস্কোর সহায়তায় ১৯৯৫ সালে এর নির্মাণকাজ আরম্ভ হয়। 


২২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিশাল এক প্রজেক্টের অধীনে লাইব্রেরিতে নির্মাণ করা হয় ৮০ লাখ বই রাখার মতো শেলফ ও ১১টি চৌবাচ্চায় প্রায় ৭০ হাজার বর্গমিটারজুড়ে মূল পাঠকক্ষ। আছে বিশাল কনফারেন্স সেন্টার, ৪টি মিউজিয়াম, ৪টি গ্যালারি। পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণের জন্য আছে বিশেষ ল্যাব। বিশেষ গবেষণা কেন্দ্র আছে ৭টি। প্রদর্শনীর জন্য আছে ৭টি বিশেষ গ্যালারি। ধূসর বর্ণের আসওয়ান গ্রানাইট দিয়ে এর দেয়াল তৈরি করা হয়েছে, যাতে ১২০ ধরনের রকমফের হস্তলিপি খোদাই করা আছে।

মাকতাবাতু জামেয়া আজহার (মিসর)

বিখ্যাত লাইব্রেরির কথা এলেই মিসরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির নাম আসবেই। শায়খ আবদুহুর তত্ত্বাবধানে ১৮৯৭ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এখানে দুই লাখের বেশি বই রয়েছে। এ লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে প্রাচীন ও দুর্লভ সব বই ও পাণ্ডুলিপি। বিশেষ করে হিজরি নবম শতাব্দী ও তার পরবর্তী যুগের পাণ্ডুলিপির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি সংরক্ষিত আছে এখানে। ২০০৫ সালে এখানকার পাণ্ডুলিপির সংখ্যা দাঁড়ায় ৪০ হাজারে। ৬৩টি শাস্ত্র ও বিষয়ে বর্তমানে ৪৫০ আধুনিক শেলফসমৃদ্ধ ৩১৮টি হলরুম আছে লাইব্রেরিটিতে। আছে ৭৪টি কম্পিউটার। আলাদা প্রকাশনা বিভাগও আছে লাইব্রেরির। আছে ২৬টি নিজস্ব প্রেস মেশিন। চার মাজহাবের ফিকহ-হাদিস-ইতিহাস, তাফসির, সিরাত, আধ্যাত্মিকতা, ভাষা-সাহিত্য, বালাগাত ও অলংকার, জ্যোতির্বিজ্ঞান, রসায়ন, পদার্থ, রাজত্ব ও বাদশা নামদারদের কথনসহ বিভিন্ন ধরনের গ্রন্থ আছে এখানে।

মাকতাবা দারুল উলুম দেওবন্দ (ভারত)

ইংরেজ ব্রিটিশ বেনিয়াদের এ দেশ থেকে বিতাড়িত করার লক্ষ্যে ১৮৬৬ সালের ৩১ মে ভারতের সাহরানপুর জেলার দেওবন্দ গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয় দারুল উলুম দেওবন্দ মাদরাসা। কয়েক বছর পর ছাত্রদের পড়াশোনার সুবিধার জন্য গঠন করা হয় নিজস্ব পাঠাগার। মাদরাসার পুরোনো দারুল হাদিসের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে দ্বিতীয় তালায় এর অবস্থান। পাঠাগারটি প্রথমে ছোট পরিসরে হলেও এখন এতে রয়েছে বিপুল পরিমাণে কিতাবের সমাহার। এমন কোনো বিষয় বাদ নেই, যার অন্তত একটি কিতাব বা পাণ্ডুলিপি নেই এখানে। বহু পুরোনো কিতাবও রয়েছে অনেক। আনুমানিক লক্ষাধিক বই রয়েছে পাঠাগারটিতে। বাদশা আলমগীরের নিজ হাতে লিখা একটি কিতাবও আছে। আছে বিভিন্ন বিষয়ের নকশাসমৃদ্ধ দেয়ালিকা। ছাত্রদের জন্য উন্মুক্ত এ পাঠাগারটি।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি 
  বিষয়:   বিশ্বজুড়ে  জ্ঞানের আলো  ইসলামি লাইব্রেরি 


Advertisement
Loading...
Loading...
ইসলাম- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: