ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে আগামী ২ অক্টোবর থেকে আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। গান্ধীজয়ন্তীর দিন মুম্বাই থেকে কর্মসূচি শুরু করে পরে তা দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন দলটির নেতা অভিজিৎ দিপকে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় দিপকে বলেন, শনিবারের মধ্যে জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে ২ অক্টোবর থেকে আন্দোলন শুরু হবে। একই সঙ্গে গান্ধীজয়ন্তীতে গণতন্ত্র রক্ষার শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে, বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে সিইসির পদত্যাগ দাবি করেছিল সিজেপি। দলটির পক্ষ থেকে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয় এবং তাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগের সময় দেওয়া হয়। সেই সময়সীমা শনিবার শেষ হওয়ার কথা।
নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিয়ে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়। এরপর বিরোধী দলগুলোও সিইসির পদত্যাগ দাবি করে।
বিরোধীদের অভিযোগ, ক্ষমতাসীন বিজেপিকে সুবিধা দিতে নির্বাচন কমিশন ভোটে অনিয়ম করছে। ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর কার্যক্রম বন্ধের দাবিও জানিয়েছে তারা। বিরোধীদের দাবি, পুরোনো ভোটার তালিকা অনুযায়ী নির্বাচন হওয়া উচিত। যেসব রাজ্যে এসআইআরের পর ভোট হয়েছে, সেসব নির্বাচন বাতিলের দাবিও উঠেছে।
এর আগে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন করেছিল সিজেপি। দলটির দাবি, ওই আন্দোলনের পর শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। এবার নির্বাচন কমিশন নিয়ে নতুন অভিযোগের পর তারা বড় ধরনের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
অভিজিৎ দিপকে বিরোধী দলগুলোর নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তার বক্তব্য, একদিকে ভোটে কারচুপির অভিযোগ করা হচ্ছে, অন্যদিকে সেই নির্বাচনেই অংশ নেওয়া হচ্ছে। এতে নির্বাচন নিয়ে ওঠা অভিযোগের পরও পুরো প্রক্রিয়াটি রাজনৈতিক বৈধতা পাচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
একটি ক্রিকেট ম্যাচের উদাহরণ দিয়ে দিপকে বলেন, কোনো ম্যাচে কারচুপি হচ্ছে বলে অভিযোগ করার পরও সেই ম্যাচে অংশ নেওয়া পরস্পরবিরোধী। তাঁর মতে, নির্বাচন নিয়ে আপত্তি থাকলে সব রাজ্যেই একই অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে অনিয়ম, জনপ্রতিনিধিদের দলবদল এবং রাজনৈতিক দল ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ থাকলেও বিরোধীরা কার্যকরভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারছে না। তার বক্তব্যে নির্বাচন বর্জনের বিষয়টিও উঠে এসেছে।
এদিকে নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের বিপরীতে ক্ষমতাসীন বিজেপি শুরু থেকেই কমিশনের পাশে রয়েছে। দলের নেতারা কমিশনের কার্যক্রমের পক্ষে বক্তব্য দিয়ে আসছেন।
তবে বিজেপির শরিক লোক জনশক্তি পার্টির নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসোয়ান শুক্রবার নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, কমিশনের কাজ নিয়ে মানুষের মনে যেন সন্দেহ বা নেতিবাচক ধারণা তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কমিশনেরই।
চিরাগ বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এর প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখতে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে কমিশনের অবস্থান জনগণের সামনে স্পষ্ট করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিরোধীরা রাজনৈতিক কারণে নানা অভিযোগ তুলতে পারে। তাদের সন্তুষ্ট করা কমিশনের দায়িত্ব নয়। তবে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করা জরুরি। কমিশনকে জনগণের কাছে নিজেদের নিরপেক্ষতা স্পষ্ট করতে হবে।
চিরাগ পাসোয়ান অবশ্য সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেননি। তবে ক্ষমতাসীন জোটের শরিক হয়েও নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা ও জনআস্থা নিয়ে তাঁর বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ