প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে দলীয়করণ এবং পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলে ‘রেড কার্ড টু বিএনপিজম’ কর্মসূচি পালন করে সরকারকে লাল কার্ড দেখিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তি।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় তারা ‘বন্ধু কোটায় মন্ত্রী, কর্মী কোটায় চাকরি’, ‘সবার আগে বিএনপি, সবার পরে বাংলাদেশ’, ‘দলীয় নিয়োগের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘ভেরিফিকেশনের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’— ইত্যাদি স্লোগান দেন।
সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) কুররাতুল আইন কানিজ বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে এ দেশের চাকরিপ্রত্যাশী মেধাবী তরুণ-তরুণীরা রক্ত দিয়েছেন। যাদের রক্তের বিনিময়ে বিএনপি আজ ক্ষমতায় বসতে পেরেছে, নির্বাচিত হওয়ার পর সেই মেধাবী চাকরিপ্রত্যাশীদেরই হয়রানি করা হচ্ছে এবং তাদের নিয়োগপ্রক্রিয়া আটকে দেওয়া হয়েছে। বিএনপির এ ধরনের কর্মকাণ্ডের আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। এসব চাকরিপ্রত্যাশীর পাশে জাতীয় ছাত্রশক্তিসহ বাংলাদেশের সব সাধারণ ছাত্র-জনতা আছে এবং বিএনপি সরকারকে আমরা লাল কার্ড দেখাচ্ছি।
তিনি বলেন, নতুন করে পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে ভাইভা নম্বর বৃদ্ধির মাধ্যমে মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ থেকে মূর্খ-চাঁদাবাজভিত্তিক বাংলাদেশ করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে বিএনপি সরকার। আমরা চাই, বাংলাদেশে মেধার ভিত্তিতে চাকরির ক্ষেত্রে প্রতিটি নিয়োগ হবে।
কুররাতুল আইন কানিজ আরও বলেন, অতি দ্রুত যেসব চাকরির সুপারিশপ্রাপ্ত মেধাবী শিক্ষার্থীর নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে, তাদের পুনর্বহাল করে চাকরি ফিরিয়ে দিতে হবে। বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ আন্দোলন করেছে। যদি আবারও সেই ছাত্রসমাজের সঙ্গে বেইমানি করা হয়, তাহলে আবারও জুলাইয়ের মতো আমরা ছাত্রদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলব।
জাতীয় ছাত্রশক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হাসিবুল ইসলাম হাসিব বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রত্যেকটি জায়গায় নিজেদের দলের লোককে বসাচ্ছে। তাদের যোগ্যতা একটাই— তারা বিএনপির নেতা বা কর্মী। এভাবে কোনো দেশ চলতে পারে না। পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে ছাত্র-জনতার ওপর যে জুলুম করা হচ্ছে, তা বন্ধ করতে হবে। এই জুলুম চালিয়ে গেলে আপনাদের পতন নিশ্চিত হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে যে দলীয়করণ করা হয়েছে এবং যেভাবে যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দেওয়া হয়েছে, অবিলম্বে সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে। ভেরিফিকেশনের নামে যেসব যোগ্য প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাদের পুনরায় চাকরিতে স্থান করে দিতে হবে। রাজনৈতিক বিবেচনায় বা রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কাউকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া যাবে না। একইভাবে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র বা যুব সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকলেই কাউকে যোগ্যতার বাইরে চাকরি দেওয়া যাবে না।
তিনি আরও বলেন, এই দুটি দাবি বাস্তবায়ন না হলে জাতীয় ছাত্রশক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএনপির দলীয়করণকে লাল কার্ড দেখাবে। আপনারা যদি এই দলীয়করণের পথ থেকে ফিরে না আসেন, আপনাদের কীভাবে ক্ষমতা থেকে নামাতে হয়, আমরা জানি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা— সমতা ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র বিনির্মাণের পথে সরকারকে হাঁটতে হবে। ভুল পথে হাঁটলে তার পরিণতি ভালো হবে না।
সময়ের আলো/এমকে