বিশ্বমঞ্চে নতুন স্বর

সাব্বির আহমেদ

জাতীয়

নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দফতরে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো বক্তব্য দিতে দাঁড়ালেন, তখন

2026-09-26T00:43:13+00:00
2026-09-26T00:43:13+00:00
 
  শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয়
বিশ্বমঞ্চে নতুন স্বর
সাব্বির আহমেদ
প্রকাশ: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৩ এএম 
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে শুক্রবার ভাষণ দেন। ছবি : পিআইডি
নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দফতরে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো বক্তব্য দিতে দাঁড়ালেন, তখন সেটি নিছক রাষ্ট্রীয় কোনো ভাষণ ছিল না। দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি ছিল তার প্রথম জাতিসংঘে ভাষণ; একই সঙ্গে তার বাবা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা খালেদা জিয়ার পর পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে একই মঞ্চে দাঁড়ানোর ঘটনাও। প্রায় ২১ মিনিটের বাংলা ভাষণের মধ্য দিয়ে তিনি একদিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের বয়ান দিয়েছেন, অন্যদিকে বিশ্বব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান ও প্রত্যাশাগুলো তুলে ধরেছেন।

প্রশ্ন হলো— এই ভাষণে বাংলাদেশকে তিনি কতটা তুলে ধরতে পেরেছেন? আর বিশ্বনেতাদের কাছে বাংলাদেশের সংকট ও প্রত্যাশাগুলো কতটা কার্যকরভাবে পৌঁছেছে? এর উত্তর খুঁজতে হলে ভাষণটিকে অন্তত চারটি স্তরে দেখতে হয়— দেশের রাজনৈতিক বার্তা, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা, বাংলাদেশের ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর রাজনৈতিক বার্তা : ভাষণের শুরুতেই তারেক রহমান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। 

পাশাপাশি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের কথাও স্মরণ করেন। এরপর তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর বাংলাদেশ আবার গণতন্ত্রের পথে ফিরেছে এবং ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন জনগণের মাধ্যমে নতুন সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে। এখানে তার মূল উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট— আন্তর্জাতিক সম্প্র্রদায়ের কাছে বর্তমান বাংলাদেশকে একটি ‘গণতান্ত্রিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাওয়া রাষ্ট্র’ হিসেবে উপস্থাপন করা।

ভাষণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল তার সরকারের ‘থ্রি-আর’ কৌশল— রিকভারি, রিস্টোরেশন ও রিকন্সট্রাকশন অর্থাৎ পুনরুদ্ধার, পুনঃস্থাপন ও পুনর্গঠন। এই তিন স্তরের মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্র ও অর্থনীতিকে পুনর্গঠনের একটি কাঠামো তুলে ধরেছেন।

বিশেষ করে তিনি বলেছেন, রাষ্ট্র শক্তিশালী হয় নাগরিককে ক্ষমতাহীন করে নয় বরং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে নাগরিককে ক্ষমতায়নের মাধ্যমে। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি গণতন্ত্রকে শুধু নির্বাচনকেন্দ্রিক বিষয় হিসেবে না দেখে অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও নাগরিক অধিকারের সঙ্গে যুক্ত করেছেন।

বাংলাদেশের সংকটগুলো কতটা সামনে এসেছে : বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ইস্যু ভাষণে জায়গা পেয়েছে— রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন, শান্তিরক্ষা এবং ফিলিস্তিন।

এর মধ্যে রোহিঙ্গা সংকট ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রত্যক্ষ ও জরুরি স্বার্থের একটি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এক দশকের কাছাকাছি সময় ধরে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। এতে বাংলাদেশের সম্পদ, পরিবেশ, নিরাপত্তা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃঢ় সহযোগিতা চান।

এখানে ভাষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য— রোহিঙ্গা ইস্যুকে শুধু বাংলাদেশের মানবিক সমস্যা হিসেবে নয়, আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার প্রশ্ন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গেও বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন তারেক রহমান। উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-জাতিসংঘ সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে। অর্থাৎ ভাষণের পাশাপাশি সাইড লাইন কূটনীতিতেও বাংলাদেশের অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরা হয়েছে।

জলবায়ু ইস্যুতে বাংলাদেশের পরিচিত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান : জলবায়ু পরিবর্তনের প্রসঙ্গেও প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের ভঙ্গুরতার বিষয়টি সামনে এনেছেন। বাংলাদেশ বৈশ্বিক নিঃসরণে তুলনামূলকভাবে কম অবদান রাখলেও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর অন্যতম— এই অবস্থান থেকে তিনি পষরসধঃব লঁংঃরপব এর দাবি জানিয়েছেন। আসন্ন ঈঙচ৩১-এ আরও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের প্রত্যাশার কথাও বলেছেন।

এটি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে ভাষণের বিশেষত্ব হলো, জলবায়ুকে শুধু পরিবেশগত সংকট হিসেবে না দেখে বাংলাদেশের উন্নয়ন, অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করা।

ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান আরও স্পষ্ট করেছেন সরকারপ্রধান : ফিলিস্তিন প্রসঙ্গেও প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবির প্রতি বাংলাদেশের সমর্থনের কথা বলেছেন। একই সঙ্গে বৈশ্বিক সংঘাতের সমাধানে অস্ত্রের পরিবর্তে সংলাপ, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবিকতার ওপর জোর দিয়েছেন।

এই অংশটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জাতিসংঘের বর্তমান অধিবেশনটি এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র। ফলে বাংলাদেশের ঐতিহ্যগত শান্তি ও বহুপক্ষীয় অবস্থানকে তিনি বৃহত্তর বৈশ্বিক সংকটের সঙ্গে যুক্ত করেছেন।

অভিবাসন ও শান্তিরক্ষী বাহিনী, বাংলাদেশের শক্তির জায়গা : বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বড় শ্রম অভিবাসনকারী দেশ। তাই নিরাপদ, নিয়মিত ও সুশৃঙ্খল অভিবাসনের ওপর প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়েছেন। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। 

একই সঙ্গে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে নারী শান্তিরক্ষীদের অংশগ্রহণকে এজেন্ডার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। এখানে বাংলাদেশকে শুধু সাহায্যপ্রার্থী রাষ্ট্র হিসেবে নয়, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তায় অবদান রাখা একটি রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা দেখা যায়।

অর্থনীতি ও বিনিয়োগের বার্তা : ভাষণের শেষাংশে তারেক রহমান বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক কাঠামো নিয়ে কথা বলেছেন। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে নাগরিকের ক্ষমতায়ন, নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশ, সুশাসন, জবাবদিহি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির কথা বলেছেন।

এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ নতুন সরকারের সামনে শুধু রাজনৈতিক বৈধতা প্রতিষ্ঠার প্রশ্ন নেই; অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধিও বড় চ্যালেঞ্জ। 

ভাষণের বাইরে নিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রী ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। ফলে জাতিসংঘের রাজনৈতিক মঞ্চের পাশাপাশি অর্থনৈতিক কূটনীতির ক্ষেত্রেও বাংলাদেশকে তুলে ধরার চেষ্টা ছিল।

বিশ্বনেতাদের কতটা প্রভাবিত করতে পেরেছেন : এখানে কিছুটা সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। একটি ভাষণের পরপরই ‘বিশ্বনেতারা প্রভাবিত হয়েছেন’ এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখনও সীমিত। তবে ভাষণের প্রভাবের একটি বাস্তব সূচক হলো— কোন বার্তাগুলো পরবর্তী কূটনৈতিক আলোচনায় জায়গা করে নিচ্ছে। তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডি ও মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গেও একই ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশি জাহাজ ও কনটেইনার চলাচলের বিষয়ও আলোচিত হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। অর্থাৎ ভাষণের পাশাপাশি বৈঠকভিত্তিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের স্বার্থ তুলে ধরার একটি ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে।

ভাষণের সীমাবদ্ধতা : ভাষণটির একটি সীমাবদ্ধতা— এতে বাংলাদেশের সমস্যাগুলোর বিস্তৃত তালিকা থাকলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে চাওয়া সহযোগিতার কিছু জায়গায় আরও নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা থাকলে বার্তাটি বাস্তবায়নযোগ্যতার দিক থেকে শক্তিশালী হতো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষ করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, জলবায়ু অর্থায়ন, অর্থ পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধার কিংবা বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে কোন দেশ বা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান কী ধরনের ভূমিকা নেবে— সে বিষয়ে বক্তৃতার পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপই এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

আরেকটি বিষয়, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রতিটি রাষ্ট্রই নিজেদের জাতীয় স্বার্থ তুলে ধরে। ফলে শুধু বক্তৃতা দিয়ে আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা কঠিন। বাস্তব প্রভাব তৈরি করতে প্রয়োজন ধারাবাহিক দ্বিপক্ষীয় আলোচনা, জোট গঠন, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে সক্রিয় ভূমিকা রাখা। 

তবে বক্তৃতার প্রকৃত সাফল্য এখনই নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। এর পরীক্ষা হবে আগামী কয়েক মাসে— রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক চাপ কতটা বাড়ে, জলবায়ু অর্থায়নে বাংলাদেশ কী পায়, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় কী অগ্রগতি হয় এবং নতুন বাংলাদেশের গণতন্ত্র, সুশাসন ও মানবাধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক আস্থা কতটা দৃঢ় হয়। 

ব্যক্তি পর্যায়ে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ ঐতিহাসিক ঘটনা বলে অভিহিত করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ এর তাৎপর্য উল্লেখ করেছেন। 

সময়ের আলোকে অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, মূল বিষয়টি রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান। তবে আমি মনে করি এই সমস্যা জাতিসংঘ সমাধান করবে; এমন ভাবনা সঠিক নয়। যতবার জাতিসংঘে রোহিঙ্গাদের নিয়ে কথা হয়েছে, এরপর দেখা গেছে মিয়ানমার আরও রিজিড (কঠোর) হয়েছে। এর সমাধান আসলে মিয়ানমারেই রয়েছে। আমাদের বিকল্প চিন্তা করতে হবে। চীন সফরে প্রধানমন্ত্রী যে ইকনোমিক করিডরের কথা বলেছেন, এটা কার্যকরি পদক্ষেপ হবে। 

এর মাধ্যমে পরিবর্তন আসা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে রোহিঙ্গা সংকটে সরকার যে ভিন্ন কিছু চিন্তা করছে, তা স্পষ্ট হয়েছে। এখন আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। সরকার এই ভাষণকে সামনে রেখে ভবিষ্যতে কি পদক্ষেপ নেয়, তা দেখতে হবে। 

এই আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মনে করেন, রোহিঙ্গা সমস্য যেহেতু মিয়ানমারের সঙ্গে তাই সাইড লাইনে মিয়ানমারের সঙ্গে একটি ইভেন্ট করতে পারলে আরও ভালো হতো। হয়তো সেটা আগামীতে সরকার চেষ্টা করবে বলে ধারণা করি। 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৮১তম জাতিসংঘের ভাষণে বিশ্ববাসীর উদ্দেশে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন বলে মনে করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সাহাবুল হক।
 
সময়ের আলোকে তিনি বলেন, বিশেষ করে রোহিঙ্গা ইস্যু, নারীর ক্ষমতায়ন ইস্যু এবং জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয়গুলো এখানে তুলে ধরেছেন। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, সেটা হচ্ছে জাতিসংঘ যাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতার প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে ওঠে। বিশেষ করে পৃথিবীব্যাপী যে যুদ্ধ-বিগ্রহগুলো চলছে, সে যুদ্ধ-বিগ্রহগুলোতে যাতে জাতিসংঘ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেজবাহ-উল-আজম সওদাগর মনে করেন, বাংলাদেশে জুলাইপরবর্তী ডেমোক্রেটিক ট্রানজিশনের পরে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি সেখানে বাংলাদেশকে প্রেজেন্ট করেছেন। 

সময়ের আলোকে এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, বহুপক্ষীয় কূটনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সমস্যাসহ আরও অনেক সমস্যা তুলে ধরেছেন এই বিশ্বমঞ্চে। সমসাময়িক বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রীর এই অবস্থান ও কূটনীতি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল। 

পাশাপাশি সাইড লাইনে যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকগুলো হয়েছে সেগুলো বাংলাদেশের পরিবর্তিত ফরেন পলিসি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে সার্বজনীন বলে উল্লেখ করে তার রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেন, সবার আগে বাংলাদেশকে ধারণ করেই তারেক রহমান বিশ্বমঞ্চে বক্তব্য রেখেছেন।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/কেএইচও
  বিষয়:   বিশ্বমঞ্চ  নতুন স্বর 


Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: