পিবিআই কর্মকর্তা পরিচয়ে টাকা নিতেন আইনজীবীর মুহুরি

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সারাদেশ

কাজ করেন চট্টগ্রাম আদালতে আইনজীবীর মুহুরি হিসাবে। সেই সুযোগে আদালত থেকে কৌশলে সংগ্রহ করা হতো বিভিন্ন মামলার বাদীর ফোন নম্বর।

2026-09-26T20:54:31+00:00
2026-09-26T20:54:31+00:00
 
  শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
পিবিআই কর্মকর্তা পরিচয়ে টাকা নিতেন আইনজীবীর মুহুরি
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৪ পিএম 
মোজাম্মেল হক কবির। ছবি : সময়ের আলো
কাজ করেন চট্টগ্রাম আদালতে আইনজীবীর মুহুরি হিসাবে। সেই সুযোগে আদালত থেকে কৌশলে সংগ্রহ করা হতো বিভিন্ন মামলার বাদীর ফোন নম্বর। এরপর পিবিআই, সিআইডি কিংবা ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ফোন দিতেন বাদীকে। ফোনে বলতেন, ‘আমি আপনার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও)। তদন্তে মাঠে যেতে হবে গাড়িভাড়া ও নাশতার খরচ লাগবে। খরচের বিনিময়ে তদন্ত প্রতিবেদন বাদীর পক্ষে দেয়া হবে। এভাবে বহু মানুষের সাথে প্রতারণার পর অবশেষে ধরা পড়লেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) হাতে। তার নাম মো. মোজাম্মেল হক কবির (৫০)। তিনিই চক্রের মূল হোতা। তার সাথে আছে বড় একটি চক্র। গ্রেফতারের পর উদ্ধার করা হয় ডিভাইসসহ নানা সরঞ্জাম।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মেট্রো কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গির হোসেন বিস্তারিত তুলে ধরেন।  

এতে তিনি বলেন, আদালতের এক মামলার বাদীর কাছ থেকে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় হাতেনাতে পড়েন মো. মোজাম্মেল হক কবির (৫০)। তিনি এই চক্রের মূলহোতা। সঙ্গে আছে সংঘবদ্ধ একটি দল।

তাকে গ্রেফতারের ঘটনা তুলে ধরে এসপি বলেন, ফটিকছড়ির এক মামলার বাদীকে ফোন করে পিবিআইয়ের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু সুফিয়ানের পরিচয় দেওয়া হয়। ফোনে বলা হয়, ২ হাজার টাকা পাঠালে ফটিকছড়িতে না গিয়েই দূর থেকে তদন্ত শেষ করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। পরে সেই বাদী পিবিআই চট্টগ্রাম কার্যালয়ে গিয়ে সরাসরি এসআই আবু সুফিয়ানের খোঁজ করেন। প্রতারক বলেছিলেন, তিনি অফিসের বাইরে রয়েছেন। কিন্তু কাকতালীয়ভাবে আসল এসআই আবু সুফিয়ান তখন কার্যালয়েই উপস্থিত ছিলেন। বাদী যখন টাকা পাঠানোর বিষয়টি তুলে ধরেন তখন এসআই আবু সুফিয়ান স্পষ্ট জানান, তিনি কোনো টাকা চাননি এবং যে নম্বর থেকে ফোন গেছে সেটি তার নয়। 

বিষয়টি বুঝতে পেরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেন এসআই আবু সুফিয়ান। এরপর গেল ২৩ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের রাউজান থানায় মামলা করা হয়। মামলা হওয়ার পর তদন্তভার নেয় পিবিআই। মোজাম্মেল হক কবিরের বাড়ি নোয়াখালীর সুধারাম থানার গৌরীপুর এলাকায়। তিনি সেখানকার বাসিন্দা। একসময়  তিনি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভারে চাকরি করতেন। চাকরি হারানোর পর গত প্রায় দুই মাস ধরে চট্টগ্রাম আদালতে একজন আইনজীবীর সহকারী বা মুহুরি হিসেবে কাজ শুরু করেন। দুই মাসের মোহুরি জীবনই তার প্রতারণার প্রধান অস্ত্র হিসাবে কাজ করে। আদালতের বারান্দায় ওঠাবসা করার সুবাদে সিআর মামলা, বাদীদের নাম, মোবাইল নম্বর এবং কোন সংস্থা বা কর্মকর্তার কাছে তদন্তের দায়িত্ব যাচ্ছে এ ধরনের সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করার শুরু করেন তিনি। 

পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার এসআই রবি চন্দ্র দাশের নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল ২৫ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর সুধারামে অভিযান চালিয়ে মোজাম্মেলকে গ্রেফতার করে। একইসঙ্গে উদ্ধার করা হয় প্রতারণায় ব্যবহৃত একাধিক মোবাইল ফোন ও ডিভাইস।

আরও পড়ুন

প্রতারণার শিকার ফটিকছড়ির বাসিন্দা মোহাম্মদ মঈনুদ্দিন নয়ন পিবিআইকে জানান, গত ১৪ সেপ্টেম্বর আদালতে একটি সিআর মামলা করেন তিনি। এর কিছুদিন পরেই পিবিআই কর্মকর্তা পরিচয়ে ফোন আসে। ফোনের অপর পাশের ব্যক্তি আমার মামলার বিস্তারিত তথ্য জানতেন। এমনকি আমার বোনের স্বামী কী করেন, কোথায় থাকেন সেই তথ্যও তার কাছে ছিল। তিনি আমাকে বলেন, চট্টগ্রামে অফিসে আসার দরকার নেই, টাকা পাঠালে দূর থেকেই তদন্ত প্রতিবেদন বাদীর পক্ষে দেওয়া হবে। তবে আমি যখন তার পদবি ও সুনির্দিষ্ট পরিচয় জানতে চাই, তিনি তা এড়িয়ে যান এবং পরে আর ফোন ধরেননি।

এসআই আবু সুফিয়ান বলেন, আমাদের নাম ব্যবহার করে এমন প্রতারণা চরম দুঃসাহস। এতে শুধু পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে না, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ বিচারপ্রার্থীরা। ঘটনার দিন বাদী যখন আমার কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন তখনও প্রতারক চক্রটি তাকে টাকা দেওয়ার জন্য প্রচন্ডচাপ দিচ্ছিল। পরে বুঝতে পেরে প্রতারক সংযোগ কেটে দেয়।

পুলিশ সুপার এম কে এইচ মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা তদন্তকারী সংস্থা ফোন করে এভাবে টাকা দাবি করে না। কেউ যদি পিবিআই, সিআইডি বা ডিবির পরিচয় দিয়ে টাকা চায়, তবে নিকটস্থ থানা বা সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে সরাসরি যোগাযোগ করে নিশ্চিত হতে হবে।

সময়ের আলো/এনএন

  বিষয়:   পিবিআই কর্মকর্তা  আইনজীবীর মুহুরি  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: