দুই পাশে সবুজের সমারোহ, মাঝখানে বয়ে গেছে খালের স্বচ্ছ স্রোতধারা। তার ওপরে ধনুকের মতো বাঁক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে দৃষ্টিনন্দন একটি সেতু। দূর থেকে দেখলে মনে হবে কোনো পর্যটনকেন্দ্রের নান্দনিক স্থাপনা। কিন্তু এটি কেবল সৌন্দর্যের প্রতীক নয়; বরিশালের উজিরপুরে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই আর্চ সেতু এখন যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করার পাশাপাশি নতুন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।
বিকাল নামলেই বদলে যায় সেতুটির পরিবেশ। স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে। সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে খালের সৌন্দর্য উপভোগ, ছবি তোলা কিংবা কিছুটা সময় প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটানো— সব মিলিয়ে ধামুরা খালের ওপর নির্মিত সেতুটি এখন উজিরপুরের মানুষের কাছে নতুন এক পরিচিতি তৈরি করেছে।
স্থানীয়দের অনেকেই সেতুটির নান্দনিক নকশাকে রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকার সেতুর সঙ্গে তুলনা করছেন। তাদের মতে, যোগাযোগের প্রয়োজন মেটানর পাশাপাশি এমন দৃষ্টিনন্দন অবকাঠামো এলাকার সৌন্দর্য ও পর্যটন সম্ভাবনাকে নতুন মাত্রা দিতে পারে।
বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান বলেন, গৌরনদী ও উজিরপুর উপজেলায় দুটি নান্দনিক আর্চ ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। আধুনিক প্রকৌশল নকশা, স্থায়িত্ব এবং দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যশৈলীর সমন্বয়ে ব্রিজ দুটি নির্মাণ করা হয়েছে। হাতিরঝিলের আদলে নির্মিত ব্রিজ দুটি দেখতে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী ভিড় করছেন। এ ছাড়া মুলাদী উপজেলায় একটি সেতু নির্মাণের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের যাতায়াত, কৃষিপণ্য পরিবহন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হয়েছে। একই নকশার আদলে মুলাদী ও কাজীরহাট এলাকায় আরও দুটি আর্চ ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সেতুর আশপাশে পরিকল্পিত সৌন্দর্যবর্ধন, আলোকসজ্জা, বসার ব্যবস্থা ও নিরাপদ দর্শনার্থীবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। এতে ধামুরা আর্চ ব্রিজটি যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর পাশাপাশি উজিরপুরের অন্যতম দর্শনীয় স্থান হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ধামুরা খালের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে ৫৫ দশমিক ০৬ মিটার দীর্ঘ আরসিসি আর্চ সেতুটি। এটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ৯ কোটি ৯৪ লাখ ২৩ হাজার ৫৭৩ টাকা। ২০২৩ সালের ৪ মে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ২০২৬ সালের ২৮ এপ্রিল কাজ শেষ করা হয়। এলজিইডির তত্ত্বাবধানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি বাস্তবায়ন করে। পরে উদ্বোধনের মাধ্যমে সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
সেতুটি চালু হওয়ায় সানুহার-ধামুরা-জল্লা-সাতলা সড়কে যোগাযোগব্যবস্থায় এসেছে বড় পরিবর্তন। আগের মতো খাল পারাপারে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে না স্থানীয়দের। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য পরিবহন ও মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ায় এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় পুরোনো সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় সাতলা-বরিশাল সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হতো। ধামুরা খাল পারাপার ছিল স্থানীয় মানুষের জন্য বড় ভোগান্তির বিষয়। নতুন সেতুটি সেই সমস্যা দূর করেছে।
সময়ের আলো/আতা