বড় পর্দার ছবির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক হলেও দীর্ঘদিন ধরে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের কনটেন্টগুলো তুলনামূলক মুক্ত ও স্বাধীনভাবে মুক্তি পেয়ে আসছে। তবে সম্প্রতি জানা গেছে, এবার ওটিটি মাধ্যমের কনটেন্টগুলোর জন্যও সার্টিফিকেশন বোর্ডের ছাড়পত্র নেওয়ার নিয়ম চালুর জোরালো প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের সদস্য এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল জানান, ওটিটির জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। এ বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনাও শুরু করেছেন। ছাড়পত্রের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, অনেক সময় ওটিটিতে কোনো চলচ্চিত্র বা সিরিজ মুক্তির পর নানা আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়।
তখন সরকারের কাছে জবাবদিহিতা বা পূর্বনির্ধারিত তদারকির সুযোগ থাকে না। তাই নিয়ম-নীতির পক্ষেই সবাই রয়েছেন। সিনেমা হল হোক কিংবা ওটিটি, দেশের সব প্ল্যাটফর্মের কনটেন্টই নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আসা উচিত। তথ্য মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগে সবাই সমর্থন জানাচ্ছেন। সচিবালয়ে এ সংক্রান্ত মিটিংয়ে একটি প্রস্তাবনা পেশ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুতই ওটিটির এই নতুন নীতিমালা চূড়ান্ত রূপ লাভ করবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে এতদিন ওটিটি কনটেন্টের জন্য সার্টিফিকেশন বাধ্যতামূলক না থাকলেও অতীতে এর প্রভাব দেখা গেছে। ২০২৪ সালের শুরুর দিকে রায়হান রাফীর আলোচিত ওয়েব ফিল্ম ‘অমীমাংসিত’ তৎকালীন সেন্সর বোর্ডের আপত্তির মুখে আটকে গিয়েছিল। এক সাংবাদিক দম্পতির হত্যাকাণ্ড নিয়ে নির্মিত ওই কনটেন্টকে তখন ‘প্রদর্শন অনুপযোগী’ ঘোষণা করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর পুরোনো সেন্সর বোর্ড বিলুপ্ত হয়ে সার্টিফিকেশন বোর্ড গঠিত হলে সিনেমাটি মুক্তির ছাড়পত্র পায়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে নতুন এই নীতিমালা কার্যকর হলে ওটিটি মাধ্যমের কাজের ধরনেও বড় পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এসএকে