জার্মানিতে দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য বড় ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার পদ খালি রয়েছে। ফলে ক্যারিয়ার গড়া ও ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা করা দক্ষ কর্মীদের জন্য জার্মানি হতে পারে সম্ভাবনাময় একটি গন্তব্য।
সম্প্রতি দুবাইয়ের দুসিত থানি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘গালফ নিউজ লেভেলআপ’ সম্মেলনের এক ফায়ারসাইড চ্যাটে এ তথ্য জানান ওয়াই-অ্যাক্সিসের ডিরেক্টর ক্লিন্ট খান।
তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোতে বর্তমানে প্রায় ৩০ লাখ শূন্য পদ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার পদই জার্মানিতে। অর্থাৎ ইইউজুড়ে দক্ষ কর্মীর যে চাহিদা রয়েছে, তার বড় একটি অংশ জার্মানিতে।
জার্মানিতে চাকরি খোঁজার অন্যতম সুযোগ হলো ‘অপরচুনিটি কার্ড’। এই কার্ডের মাধ্যমে ইইউ-বহির্ভূত দেশের যোগ্য নাগরিকরা আগে থেকে চাকরির চুক্তি না থাকলেও জার্মানিতে গিয়ে কাজের সুযোগ খুঁজতে পারেন। এর আওতায় সর্বোচ্চ ১২ মাস দেশটিতে থাকার সুযোগ রয়েছে।
ক্লিন্ট খান বলেন, ‘অপরচুনিটি কার্ড আপনাকে জার্মানিতে গিয়ে চাকরি খোঁজার সুযোগ দিচ্ছে। শুরুতে আপনি খণ্ডকালীন কাজ করতে পারেন। পরে পূর্ণকালীন চাকরি পেলে এবং নিয়োগকর্তা স্পন্সর করতে রাজি হলে, সেটিকে নির্দিষ্ট ওয়ার্ক পারমিটে পরিবর্তন করা সম্ভব।’
কারা পাবেন অপরচুনিটি কার্ড?
পয়েন্টভিত্তিক ব্যবস্থা অথবা জার্মানিতে স্বীকৃত বিদেশি শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে অপরচুনিটি কার্ডের জন্য আবেদন করা যায়। পয়েন্ট পদ্ধতিতে আবেদনকারীর স্বীকৃত একাডেমিক বা ভোকেশনাল ডিগ্রি, নিজের খরচ চালানোর মতো পর্যাপ্ত অর্থ এবং নির্ধারিত সংখ্যক পয়েন্ট থাকতে হয়।
পেশাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, বয়স ও ভাষাগত দক্ষতার মতো বিষয় বিবেচনায় পয়েন্ট দেওয়া হয়।
এদিকে উপযুক্ত চাকরির অফার পাওয়া উচ্চশিক্ষিত পেশাজীবীদের জন্য জার্মানিতে যাওয়ার আরেকটি পথ হলো ইইউ ব্লু কার্ড। নির্দিষ্ট বেতনসীমা পূরণ করে এমন যোগ্য চাকরির অফার থাকলে এই কার্ডের জন্য আবেদন করা যায়।
ক্লিন্ট খান জানান, ব্লু কার্ড স্থায়ী বসবাসের পথও সহজ করে। বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে ব্লু কার্ডধারীরা ২৭ মাস পর স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে পারেন। আর জার্মান ভাষায় বি-১ (B1) পর্যায়ের দক্ষতা থাকলে ২১ মাসের মধ্যেই এই সুযোগ পাওয়া সম্ভব।
সময়ের আলো/এসএকে