ভাইরাল সেই শিশুকন্যার লেখাপড়ার দায়িত্ব নিলেন ইউএনও, বাবার কর্মসংস্থানের আশ্বাস

বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি

সারাদেশ

বাবাকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের খবর শুনে পরিবারের কাউকে না জানিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যাওয়া এবং অনাহারে থাকা বাবার মুখে রুটি

2026-09-28T11:20:46+00:00
2026-09-28T11:20:46+00:00
 
  সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৩ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
ভাইরাল সেই শিশুকন্যার লেখাপড়ার দায়িত্ব নিলেন ইউএনও, বাবার কর্মসংস্থানের আশ্বাস
বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২০ এএম 
সেই শিশুকন্যার লেখাপড়ার দায়িত্ব নিলেন ইউএনও। ছবি : সময়ের আলো
বাবাকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের খবর শুনে পরিবারের কাউকে না জানিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যাওয়া এবং অনাহারে থাকা বাবার মুখে রুটি ও চা তুলে দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সেই শিশুকন্যার পাশে দাঁড়িয়েছেন উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা। তিনি শিশুটির লেখাপড়ার দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি তার বাবা রায়হানুল হক অনিক শিকদার সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরলে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন।

রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সরেজমিনে বামরাইল বাজারে গিয়ে শিশুটি ও তার পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন ইউএনও মো. আলী সুজা।

ইউএনও বলেন, ‘অনিক শিকদার খারাপ অভ্যাস পরিবর্তন করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরলে তার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেব। আর তার শিশু কন্যার লেখাপড়ার দায়িত্ব নিয়েছি।’

রায়হানুল হক অনিক শিকদারের অভিযোগ, পূর্বশত্রুতার জেরে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে চোর আখ্যা দিয়ে বামরাইল বাজারের একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেখে নির্যাতন করেছেন।

অনিক শিকদারের ভাষ্য, বাবাকে বেঁধে নির্যাতন করা হচ্ছে—এ কথা শুনে পরিবারের সদস্যদের অজান্তে তার শিশুকন্যা ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। সেখানে অনাহারে থাকা বাবার জন্য বাজারের একটি দোকান থেকে রুটি ও এক কাপ চা নিয়ে এসে তাকে খাওয়ায়। এ দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।

অনিকের স্ত্রী জানান, একসময় বন্ধুদের প্ররোচনায় অনিক মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছিলেন। তবে তিনি কোনো দিন চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। পূর্বশত্রুতার জেরে কয়েকজন তাকে জোর করে বেঁধে মারধর করে চোর হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বামরাইলের প্রবাসফেরত বাসিন্দা ওমর খসরু তুহিন বলেন, ‘পারিবারিকভাবে তারা ভালো, সম্ভ্রান্ত ও সম্মানিত পরিবারের ছেলে। কিন্তু নেশার ভয়াল থাবা ধ্বংস করে দিয়েছে তার পুরো পরিবার ও বংশের মান-সম্মান। অনিক যথেষ্ট শিক্ষিত ও মার্জিত ছেলে।’

এদিকে ভাইরাল ভিডিওতে থাকা শিশুটির খোঁজে কাজ শুরু করে ওয়াব (উই আর বাংলাদেশ) টিম। এ কাজে তাদের সহযোগিতা করে উজিরপুর থানা পুলিশ।


ওয়াবের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও এস এম আকবর তার ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, অনিক শিকদার চোর নন। তার বাবা সম্ভ্রান্ত পরিবারের মানুষ ছিলেন। তিনি অসুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে পরিবারটি সবকিছু হারায়। পরে অনিক মাদকাসক্ত হয়ে পড়লে স্থানীয় মাদক সিন্ডিকেটের সদস্যরা সেই সুযোগ নেয় বলেও দাবি করেন তিনি।

এস এম আকবর বলেন, ভিডিওটি দেখে তিনি বিষয়টি যাচাই করতে ওয়াবের বরিশাল টিমকে জানান। পরে স্বেচ্ছাসেবকেরা শিশুটির কাছে যান। শিশুটি তার বাবার জন্য একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার অনুরোধ করেছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, অনিক ভুল-ত্রুটি থেকে শিক্ষা নিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান। তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে ওয়াব কাজ করবে। এ বিষয়ে উজিরপুর থানা পুলিশের সঙ্গে কথা হয়েছে। থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফারুক হোসেনও বিষয়টি দেখাশোনায় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

এস এম আকবর জানান, গ্রামাঞ্চলে চলাচলের জন্য অনিক একটি অটোভ্যান চেয়েছেন। ওয়াব ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে তাকে একটি অটোভ্যান দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিশুটির লেখাপড়ার দায়িত্ব নেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

এরই মধ্যে দেশ-বিদেশের অনেক নেটিজেন অনিকের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে তার কর্মহীন জীবনের কথা শুনে সহায়তার মাধ্যমে তাকে কর্মজীবী করার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

সময়ের আলো/জোই
  বিষয়:   উজিরপুর  বরিশাল  শিশুকন্যা  রায়হানুল হক অনিক  ইউএনও  মো. আলী সুজা  বামরাইল বাজার  ভাইরাল ভিডিও  অটোভ্যান  কর্মসংস্থান  শিক্ষার দায়িত্ব  ওয়াব  মানবিক সহায়তা  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: