দক্ষিণ কোরিয়ার সংগীতদল বিটিএসের ভক্ত তিন বন্ধু; একজন অষ্টম শ্রেণি এবং দুজন ষষ্ঠ শ্রেণির। হঠাৎ ইচ্ছা জাগে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভিনদেশে পাড়ি জমাবে তারা। এরপর একদিন স্কুলের কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় তিনজন; উদ্দেশ্য ভারতে পাড়ি জমানো— এরপর থেকেই নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি। কিন্তু ৩ কিশোরীর স্বপ্নের পথে বাদ সাধে এক পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী। তার সহায়তায়ই উদ্ধার করা হয় তিন কিশোরীকে।
ওই তিন কিশোরীর বাড়ি পাবনা জেলা সদরের একটি গ্রামে। রোববার তারা নিখোঁজ হয়। পরে কুড়িগ্রাম থেকে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বেই জনপ্রিয় ব্যান্ডদল বিটিএসের অসংখ্য দর্শক-শ্রোতা রয়েছেন, যারা 'বিটিএস আর্মি' নামে পরিচিত। উদ্ধার হওয়া কিশোরীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, তিন কিশোরীই টিকটকে আসক্ত ও বিটিএসের ভক্ত। তাদের একজনের সঙ্গে পরিবারের মনোমালিন্য হয়। এরপর তারা তিনজন মিলে অন্য দেশে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
সেই অনুযায়ী তারা গত রোববার সকালে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর বাসে করে নাটোর ও রংপুর হয়ে কুড়িগ্রামে পৌঁছায়। তাদের লক্ষ্য ছিল সীমান্ত এলাকায় যাওয়া। কুড়িগ্রামে পৌঁছানোর পর তারা পথ হারিয়ে ফেলে। সন্ধ্যা নেমে এলে তারা কুড়িগ্রাম বাস টার্মিনালে পৌঁছে রাত কাটানোর জন্য থাকার জায়গা খুঁজতে থাকে।
একপর্যায়ে কিশোরীরা একটি অপরিচিত মহল্লায় ঢুকে পড়ে। সেখানে তাদের গতিবিধি দেখে ওই মহল্লায় থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর সন্দেহ হয়। পরে তিনি কৌশলে তিনজনকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান এবং তার পুলিশ কর্মকর্তা স্বামী তাজউদ্দিন আহম্মেদকে বিষয়টি জানান। তিনি কুড়িগ্রাম সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই)।
তাজউদ্দিন জানান, তিনি ফোন পেয়ে বাড়িতে এসে কৌশলে তিন কিশোরীর কাছ থেকে তাদের বাড়ির ঠিকানা জেনে নেন। এরপর তিনি পাবনা সদর থানায় ও কিশোরীদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরবর্তীতে পাবনা সদর থানা-পুলিশ কুড়িগ্রামে গিয়ে তিন কিশোরীকে নিয়ে আসে।
তিন কিশোরী বাড়িতে না ফেরায় তাদের পরিবারের সদস্যরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তাদের সন্ধানে পাবনা সদর থানায় তিনটি পৃথক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এরপর থেকেই পুলিশ তিন কিশোরীর সন্ধান শুরু করে।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, নিখোঁজের বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে পুলিশ কাজ করেছে। কুড়িগ্রাম সদর থানার উপপরিদর্শকের মাধ্যমে তিন কিশোরীর অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়। পরবর্তীতে কুড়িগ্রাম পুলিশের সহযোগিতায় তাদের নিরাপদে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া কিশোরীর বাবা বলেন, ওরা ছোট মানুষ, ভুল করেছে। বাচ্চাদের ফিরে পেয়েছি, এটাই শুকরিয়া।
সময়ের আলো/আতা