নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৫০০ জনের কোটা পূরণ হওয়ায় সৌদি সরকারের কাছে আরও অন্তত ২০ হাজার হজ কোটা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)। গতকাল সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে একটি হোটেলে হজ ব্যবস্থাপনার সবশেষ অবস্থা জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার এ দাবি জানান। এ সময়ে হাবের সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার উপস্থিত ছিলেন।
হাব মহাসচিব বলেন, আগামী বছরের ১৫ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। তবে এটি নির্ভর করছে চাঁদ দেখার ওপর। এ বছর সৌদি সরকার ৭৮ হাজার ৫০০ জনের কোটা নির্ধারণ করে দিয়েছে। বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত হজ কোটা ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন থাকলেও বিগত কয়েক বছর ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে হজযাত্রীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমতে থাকে। হজযাত্রীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় রাজকীয় সৌদি সরকার ২০২৭ সালের জন্য বাংলাদেশের হজ কোটা কমিয়ে ৭৮ হাজার ৫০০ জন নির্ধারণ করে।
ফরিদ আহমেদ মজুমদার আরও বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকারের গৃহীত সঠিক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপের কারণে হজযাত্রীর সংখ্যা আশাতীতভাবে বেড়েছে। এ বছর নিবন্ধনের নির্ধারিত সময়ে কোটা পূর্ণ হওয়ার পরও প্রায় ২০ হাজারের ঊর্ধ্বে হজযাত্রী অপেক্ষমাণ। তিনি বলেন, এসব হজযাত্রী মানসিক ও আর্থিকভাবে এ বছর হজ পালনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েছেন। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিবন্ধিত হয়েছেন, বাকিরা অপেক্ষমাণ।
হাব মহাসচিব বলেন, হজ গমনেচ্ছু আল্লাহ পাকের মেহমানদের কথা বিবেচনা করে রাজকীয় সৌদি সরকার থেকে কমপক্ষে আরও ২০ হাজার কোটা বরাদ্দ নেওয়া একান্ত প্রয়োজন। ‘যেহেতু আমাদের মূল কোটা ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন, সেহেতু আমরা যৌক্তিকভাবে এই বর্ধিত কোটার দাবিদার।’
হাব মহাসচিব বলেন, গত হজে প্রত্যক্ষ করেছি ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি সরকারের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবার অত্যন্ত চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে। রাজকীয় সৌদি সরকারের মন্ত্রী জেদ্দা ও রিয়াদে একাধিকবার আমাদের মন্ত্রীকে সাক্ষাতের সময় ও সুযোগ দিয়েছেন।
ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, তাদের সহযোগিতায় বিগত হজ অত্যন্ত সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। আমাদের বিশ্বাস, মন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করলে দ্রুত আমাদের অপেক্ষমাণ হজযাত্রীদের সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম হব ইনশাআল্লাহ।
২০২৭ সালের হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরুর দিকে নির্ধারিত কোটা পূরণ হবে কি না তা নিয়ে সংশয় ছিল। নিবন্ধনের শেষ সময়ের এক সপ্তাহ আগেও অর্ধেকের বেশি কোটা খালি ছিল। কিন্তু নিবন্ধনের শেষ পর্যায়ে এসে হঠাৎ করেই হজে গমনেচ্ছুর সংখ্যা বেড়ে যায়। গত ২৪ সেপ্টেম্বর নিবন্ধনের সময় শেষ হওয়ার আগেই সৌদি আরবের দেওয়া ৭৮ হাজার ৫০০ জনের কোটা পূরণ হয়ে যায়।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোটা পূরণ হয়ে যাওয়ার পরও অনেক হজে গমনেচ্ছু টাকা জমা দেন। হজযাত্রীদের টাকা গ্রহণের জন্য গত শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা রাখা হলেও কোটা পূরণ হয়ে যাওয়ার পর নিবন্ধন সার্ভার বন্ধ হয়ে যায়। ফলে টাকা জমা দেওয়ার পরও প্রায় ১৭ হাজার ব্যক্তি হজে যেতে নিবন্ধিত হতে পারেননি বলে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে।
ইতিমধ্যে হাবের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত হজের কোটা বরাদ্দের জন্য ব্যবস্থা নিতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কোটা বাড়ানোর প্রস্তাবের চিঠি ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে সৌদি হজ মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ হওয়ায় এখন বাংলাদেশের চূড়ান্ত হজযাত্রীর সংখ্যা সৌদি আরবকে জানানো হবে। ওই তালিকার ভিত্তিতে সৌদি পর্বের অর্থ পাঠানো, আবাসন ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ফিটনেস সনদ, টিকা দেওয়া, প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু হবে।
এদিকে নির্ধারিত কোটার বাইরে ১০ হাজারের বেশি হজযাত্রী ইতিমধ্যে হজ পালনে আগ্রহ দেখিয়েছেন। পাশাপাশি প্রায় ১৩ হাজার আনপেইড ভাউচার থাকায় নিবন্ধনের অর্থ পরিশোধ শেষ হলে কোটার অতিরিক্ত হজযাত্রীর সংখ্যা আরও স্পষ্ট হবে। তবে সৌদি আরবের অনুমোদন ছাড়া কোটার বাইরে অতিরিক্ত হজযাত্রী নিবন্ধন করবে না ধর্ম মন্ত্রণালয়। বাড়তি কোটা পাওয়ার বিষয়ে ইতিমধ্যে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নভেম্বরে সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের হজ চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে। ওই চুক্তি আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে হজের কোটা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। চলতি বছরের জন্য নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৫০০ জনের কোটা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/টিকে