চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালিয়ে গত দুইদিনে বিভিন্ন এলাকা থেকে বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ। ওসির নেতৃত্বে পরিচালিত বিশেষ এ অভিযানে আটক অনেককে পরে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়েও দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযান, আটকের সংখ্যা এবং ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে সাংবাদিকদের কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য দেয়নি পুলিশ। এমনকি পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তি আদান-প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও এ বিষয়ে কোনো তথ্য সরবরাহ করা হয়নি।
সাতকানিয়া থানায় সদ্য যোগদান করা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের সময়ে পরিচালিত এ অভিযান নিয়ে পুলিশের তথ্য প্রকাশে অনীহা কেন, তা নিয়ে সাংবাদিকদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অপরাধ দমনে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি জনসাধারণকে অবহিত করার ক্ষেত্রে পুলিশের এ নীরবতা গণমাধ্যমের সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার ও সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালানো হয়। এ সময় বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়। পরে অনেককে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে অভিযানে ঠিক কতজনকে আটক করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ রয়েছে এবং কতজনকে কোন প্রক্রিয়ায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সাতকানিয়া থানা পুলিশের বিভিন্ন অভিযান, আটক ও গ্রেফতারের তথ্য সাংবাদিকদের কাছে পৌঁছে দিতে সাধারণত হোয়াটসঅ্যাপভিত্তিক একটি গ্রুপ রয়েছে; যেখানে প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করা হয়। এতে গণমাধ্যমকর্মীরা দ্রুত ঘটনার সত্যতা যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করতে পারেন।
কিন্তু সাতকানিয়ায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান পরিচালনার পরও ওই গ্রুপে কোনো প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন সাংবাদিকেরা। অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলেও পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
সাংবাদিকদের ভাষ্য, কোনো ব্যক্তি আটক বা গ্রেফতার হলে সাধারণত তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, আটকের স্থান এবং আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে পুলিশ তথ্য সরবরাহ করে। কিন্তু এ অভিযানের ক্ষেত্রে সেই প্রচলিত প্রক্রিয়ায় তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযান সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ প্রকাশ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
চলমান কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ব্যক্তিদের অনেককে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তারা কী ধরনের অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক হয়েছিলেন, তাদের মধ্যে কতজন অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং কোন আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ে পুলিশের কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশ করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কিশোরদের ক্ষেত্রে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং অভিভাবকের কাছে হস্তান্তরের বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অভিযানকে স্থানীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে অভিযান পরিচালনার পরও সাংবাদিকদের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য না পৌঁছানোয় পুলিশের কার্যক্রম সম্পর্কে জনসাধারণের কাছে পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরা যাচ্ছে না।
সাতকানিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক শহীদুল ইসলাম বাবর বলেন, তদন্তের স্বার্থে কিছু তথ্য গোপন রাখার প্রয়োজন হতে পারে। তবে অভিযান শেষে আটক ব্যক্তির সংখ্যা, অভিযোগের ধরন এবং আইনি পদক্ষেপের মতো মৌলিক তথ্য জানানো হলে সংবাদ প্রকাশে স্বচ্ছতা বজায় থাকে। একই সঙ্গে পুলিশের কার্যক্রম সম্পর্কে মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়।
এ বিষয়ে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সাংবাদিকদের জন্য নির্ধারিত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানের বিষয়ে তথ্য দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে ওসির হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও সাড়া মেলেনি।
সময়ের আলো/এনএন