সাত মাসের যুদ্ধের বাড়তি খরচে চাপে ইরানের মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাত মাস ধরে চলা যুদ্ধের প্রভাব ক্রমেই তীব্র হচ্ছে ইরানের সাধারণ মানুষের জীবনে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, ওষুধ ও বাসাভাড়ার

2026-09-29T21:40:02+00:00
2026-09-29T21:42:43+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৪ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
সাত মাসের যুদ্ধের বাড়তি খরচে চাপে ইরানের মানুষ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪০ পিএম  আপডেট: ২৯.০৯.২০২৬ ৯:৪২ পিএম
তেহরানের একটি স্থানীয় বাজারে নিজের দোকানে কাজ করছেন এক দোকানি। ছবি : রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাত মাস ধরে চলা যুদ্ধের প্রভাব ক্রমেই তীব্র হচ্ছে ইরানের সাধারণ মানুষের জীবনে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, ওষুধ ও বাসাভাড়ার খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার এখন প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতেও হিমশিম খাচ্ছে। রয়টার্সের বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে কথা বলে করা প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে ইরানের তেল রফতানি ও বৈদেশিক আয়ের ওপর বড় চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশের অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে। 

তেহরানের এক রেস্তোরাঁ মালিক বেহনাম রিয়াজি বলেন, তিনি খুব সামান্য লাভে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। কিন্তু ব্যবসা বন্ধও করতে পারছেন না, কারণ তাহলে তিনি বেকার হয়ে যাবেন। তার ভাষায়, ক্রেতাদেরও এখন বেশি দামে পণ্য কেনার সামর্থ্য নেই। তারা মূলত প্রয়োজনীয় জিনিসই কিনছেন।

ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেও কষ্ট

উত্তর ইরানের ষাটোর্ধ্ব এক গৃহবধূ হেদিয়েহ জানান, তিনি স্বামীর সরকারি চাকরির পেনশনের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এখন নিজের ওষুধ এবং বাতের ব্যথায় আক্রান্ত বৃদ্ধ মায়ের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতেও কষ্ট হচ্ছে।

নাতির স্কুলে যাওয়ার জন্য একটি নতুন ব্যাগ কিনতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দাম তার ধারণার চেয়ে পাঁচ-ছয় গুণ বেশি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত শুধু খাতা ও পেন্সিল কিনে দিতে পেরেছেন।

এক শিক্ষকও জানান, তার মায়ের প্রয়োজনীয় ওষুধ সবসময় কেনার সামর্থ্য তার নেই। যুদ্ধের কারণে স্কুলের ক্লাস অনলাইনে চলে যাওয়ায় তিনি তেহরান ছেড়ে পরিবারের সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের একটি গ্রামে চলে গেছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার তেহরানে ফিরে চাকরি করতে পারবেন কি না, সেটিও তিনি নিশ্চিত নন। 

কুর্দিস্তান প্রদেশের রাজধানী সানান্দাজের ৩৪ বছর বয়সী এক সাইকোথেরাপিস্ট জানান, সিগারেটের দাম এত বেড়েছে যে শেষ পর্যন্ত তাকে ধূমপান ছেড়ে দিতে হয়েছে।

বাড়ছে কালোবাজার ও ঘুষ

অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে কালোবাজারের ওপর নির্ভরতাও বাড়ছে। তবে সেখানেও পণ্যের দাম বেড়েছে।

এক ব্যক্তি জানান, অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি প্রক্রিয়া এড়িয়ে যেতে তাকে একজন সার্জনকে ২০০ ডলার দিতে হয়েছে।

আরেকজন জানান, পুলিশের ঘুষ চাওয়ার ঘটনাও বেড়েছে। পরিচয়পত্র ছাড়া চেকপোস্টে আটক হওয়ার পর আগের তুলনায় বেশি ঘুষ দিতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

বেসরকারি খাতে চাকরি কমছে

যুদ্ধের কারণে বেসরকারি খাতেও চাকরি হারাচ্ছেন অনেকে। তেহরানের এক নারী জানান, এক বছরের চাকরির চুক্তি নবায়নের মাত্র একদিন পরই তাকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এখন তার পরিবার খাবারসহ জরুরি খরচকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

এক সাবেক প্রকৌশলী এখন শিক্ষার্থীদের পড়িয়ে আয় করছেন। তিনি ও তার স্ত্রী তেহরানের ফ্ল্যাট ছেড়ে রাজধানীর বাইরে তুলনামূলক দরিদ্র একটি এলাকায় চলে গেছেন। তাদের সঞ্চয়ও শেষ হয়ে গেছে। কম খরচে থাকার আশায় তারা অন্য শহরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

এক স্থপতি জানান, এমনকি তুলনামূলক সচ্ছল ইরানিরাও আগের মতো জীবনযাপন করতে পারছেন না। তার গাড়ির টায়ার নষ্ট হওয়ার পর নতুন টায়ার কেনার সামর্থ্য না থাকায় প্রায় দুই সপ্তাহ পুরোনো অতিরিক্ত টায়ার ব্যবহার করতে হচ্ছে।

তিনি আশঙ্কা করছেন, সামনে জ্বালানি সংকট দেখা দিলে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় আরও বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে।


দোকানে কমেছে ক্রেতাদের কেনাকাটা

তেহরানের এক মুদি দোকানদার রামিন ইউসেফনিয়া বলেন, তার প্রায় সব ক্রেতাই কেনাকাটা কমিয়ে দিয়েছেন।

তার ভাষায়, আগে কেউ কোনো পণ্য পাঁচ বা দশটি কিনলে এখন সেটি দুইটির বেশি কিনতে পারছেন না। মানুষের সঞ্চয়ের কথাও এখন আর বলার মতো অবস্থায় নেই। 

অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ইরানের ওপর কূটনৈতিক চাপও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রয়টার্সকে মার্কিন, মধ্যপ্রাচ্য ও ইরানি কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতার পেছনে অর্থনৈতিক চাপও একটি কারণ। 

তবে যুদ্ধের কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এত বেশি চাপ তৈরি হয়েছে যে রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা অনেকেই জানিয়েছেন, প্রতিবাদ বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের চেয়ে এখন তাদের কাছে পরিবারের খাবার, চিকিৎসা ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করাই বড় চিন্তা।

সূত্র : রয়টার্স 

সময়ের আলো/ইউএমএইচ

  বিষয়:   ইরান  যুদ্ধ  যুক্তরাষ্ট্র 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: