মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় ৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ যুবদল নেতার ভাই ও আরেক যুবককে আটক করে এলাকাবাসী। নিয়ে রাখা হয় একটি ক্লাবঘরে। ফোন দেওয়া হয় ৯৯৯ নম্বরে। ঘটনাস্থলে পুলিশ আসার আগেই শ্রীনগর উপজেলা যুবদলের সদস্য সুরুজ মোড়ল বিচারের আশ্বাস দিয়ে তার ভাইসহ আরেক যুবককে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।
ইয়াবাসহ দুজনকে আটকের একটি ভিডিও ফুটেজ এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়েছে। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার তন্তর ইউনিয়নের উত্তরগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সুরুজ মোড়লের ভাই সবুজ মোড়ল ও তার সঙ্গী রিয়াজ শিকদার মিলে রাতে উত্তরগাঁও থেকে পার্শ্ববর্তী রুসদী গ্রামে যায়। তারা ইয়াবা বিক্রি করছেন এমন অভিযোগ এনে তাদের কাছ থেকে ৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
পরে তাদেরকে আটক করে উত্তরগাঁও গ্রামে নিয়ে আসা হয়। সেখানে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হলে সুরুজ মোড়ল বিচারের আশ্বাস দিয়ে তার ভাই সবুজ মোড়লসহ ভাইয়ের সঙ্গী রিয়াজ শিকদারকে ছাড়িয়ে নেন।
পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন শ্রীনগর থানার সাব-ইন্সপেক্টর মঈনুল হোসেন। তিনি কাউকে না পেয়ে ঘটনার বিষয়ে শুনে থানায় ফিরে আসেন।
প্রতিপক্ষ ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়েছে দাবি করে পরদিন বুধবার শ্রীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন রিয়াজ শিকদার। এ ঘটনায় শ্রীনগর থানার এসআই রিপন আহমেদ বুধবার বিকালে তদন্ত করতে গেলে স্থানীয়রা সালিশ মানানো মাতবরদের উপর চড়াও হয়।
শ্রীনগর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সুরুজ মোড়লের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সামনের ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ আমাদেরকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য ঘটনাটি সাজিয়েছে। মারমুখি পরিস্থিতির কারণে মুরব্বিদের কথায় বুধবার বিকালে একসঙ্গে বসার কথা স্বীকার করেছিলাম।
উত্তরগাঁও গ্রামের মাতবর শাহাদাত সর্দার বলেন, সালিশ মানার বিষয়টি সঠিক। কিন্তু সুরুজ মোড়ল থানায় অভিযোগ করায় গ্রামের লোকজন আমাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে। তবে তারা ইয়াবা বিক্রি বা খেয়েছে কিনা তা আমি দেখিনি।
শ্রীনগর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, সবুজ মোড়ল আমাদের কমিটির কেউ নয়। তার ভাই সুরুজ মোড়ল আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। দলীয় নাম ভাঙিয়ে কেউ সুবিধা নিতে চাইলে তা আমরা হতে দিবো না।
শ্রীনগর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন মৃধা জেমস বলেন, মাদকের বিষয়ে কোনো আপোস নয়। এই বিষয়ে কোনো প্রশ্রয় নেই। তবে অযথা কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয়। শ্রীনগর থানার এসআই রিপন আহমেদ বলেন, লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
সময়ের আলো/জোই